মুরাদনগরে খিরা চাষে কৃষকদের সাফল্য

আপডেট : ২৮ নভেম্বর ২০১৮, ২২:০৯

লোকসানের ফলে কৃষিকাজ থেকে কৃষকরা মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার ফলে অনাবাদি হচ্ছে হাজার হাজার হেক্টর জমি। এই অবস্থার উত্তরণ ঘটিয়ে সাফল্যের হাসি ফুটেছে কুমিল্লা মুরাদনগর উপজেলার নয় গ্রামের কৃষকদের মুখে। জলবায়ু পরিবর্তনে অভিযোজন কৌশল হিসেবে কাদা মাটিতে খিরা চাষ করে অর্থনৈতিকভাবে সাফল্য অর্জন করেছে তারা।

কৃষকদের এ সাফল্য সরেজমিনে দেখতে গত মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলা সদর ইউনিয়নের করিমপুর ব্লক ও কামাল্লা ব্লক পরিদর্শন করেন কুমিল্লা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক দিলীপ কুমার অধিকারী, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আল মামুন রাসেল, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান, উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার সাহা, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সূফি আহাম্মদ প্রমুখ।

ইউছুফনগর ও করিমপুর গ্রামের কৃষক জুরু মিয়া, ঝর্ণা বেগম, মাহমুদা বেগম, নাতু মিয়া, শাহ আলম, ছাত্তার জানান, বর্ষাকালে যে সকল জমিতে বৃষ্টির পানি আটকে থাকে সে সব জমিতে কাদা পানি অবস্থায় ১ থেকে ২ ফুট প্রস্থের ও ৩৫ থেকে ৪০ ফুট দৈর্ঘ্যে আইল তৈরি করে। সেখানে ছাই দিয়ে সেই ছাইয়ে খিরার বীজ রোপণ করে তা পাতা দিয়ে ঢেকে খিরা সবজির চাষ করে। কোনো প্রকার রাসায়নিক ব্যবহার ছাড়াই তারা এ সবজি চাষ করছেন। ব্যাপারিরা ভোর হতেই মাঠের অদূরে সারি সারি গাড়ি নিয়ে অপেক্ষমাণ থাকেন খিরা ক্রয় করতে। যেখানে বোরো চাষে বিঘা প্রতি ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা লোকসান হতো সেখানে খিরা চাষে ২৫-৩০ হাজার টাকা ব্যয় করে মাত্র আড়াই মাসে আয় হচ্ছে ৭০-৮০ হাজার টাকা।

উপজেলা সদর ইউনিয়ন ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা তোফায়েল আহমেদ জানান, বর্ষা মৌসুম হওয়ায় কাদা মাটিতে খিরা আবাদ করা হয়েছে। এতে কৃষকরা খুব কম খরচে অধিক পরিমাণ ফসল উত্পাদন করতে সক্ষম ও লাভবান হচ্ছেন।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আল মামুন রাসেল বলেন, এ বছর খিরা চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১’শ হেক্টর, কিন্তু খিরা চাষে ব্যাপক সফলতায় কৃষকদের মাঝে খিরা চাষের আগ্রহ বৃদ্ধি পায়। সেই আলোকে এ বছর কৃষকরা ১৪৫ হেক্টর জমিতে খিরার আবাদ করেছে। মুরাদনগরের খিরা চাষ দেশে একটি মডেল হিসেবে পরিচিতি লাভ করবে আশা করে জানান, কৃষকদের মাঝে যে সাড়া পড়েছে তাতে আগামী বছর আরও ২’শ হেক্টরেরও বেশি জমিতে খিরা চাষের পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে।