ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে সড়ক দুর্ঘটনায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে গত এক সপ্তাহে ১৩ জন নিহত হয়েছেন। নিহতের মধ্যে ৫ জনই শিশু। এর মধ্যে এক পরিবারের ৪জন ও আরেক পরিবারের ৫ জন নিহত হওয়ায় পরিবার দুটির আর কেউ নেই।
গত বৃহস্পতিবার বিকেলে মহাসড়কের ইসলামাবাদ (গোগদ) নামক স্থানে একটি যাত্রীবাহী সিএনজি অটোরিক্সাকে বিপরীত দিক থেকে আসা বেপরোয়া গতির একটি ট্রাক চাপা দেয়। এতে দুমড়ে মুচড়ে ফুটবলের আকৃতি ধারণ করে সিএনজি অটোরিক্সাটি। ঘটনাস্থলেই নিহত হয় রুশেনা বেগম (৩৭), তার শিশু পুত্র আশরাফুল (০৫) ও কন্যা স্বপ্না (০৪)। এছাড়া সিএনজি চালক হাশেন মিয়া (৪০)। এ ঘটনায় হাসপাতালে নেয়ার পর মারা যায় রুশেনার স্বামী মোঃ শাহজাহান মিয়া (৪৩)। রুশেনার আরেক শিশু কন্যা রত্না (২) গত শুক্রবার মারা যায়।
গত ৬ মার্চ ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের শাহবাজপুরে সিএনজি দুর্ঘটনায় নিহত হন উপ-সহকারী চিকিত্সা কর্মকর্তা এখলাছুর রহমান (২৭), বড় ছেলে তাহছিন (০৫) ও সিএনজি চালক আলমগীর মৃধা (৩২)। জেলা সদর হাসপাতালে নেয়ার পথে মারা যায় এখলাছের স্ত্রী স্কুল শিক্ষিকা মরিয়ম বেগম ঝর্ণা (২৫) ও শিশু পুত্র তানবির (৩মাস)। দুটি পরিবারে এখন আর কোন উত্তরাধিকারী নেই।
গত শুক্রবার ঠিকাদার জুনায়েদ নিজের প্রাইভেটকারের সঙ্গে থেমে থাকা ট্রাকের সংঘর্ষে নিহত হন। গত বৃহস্পতিবার ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বিশ্বরোড মোড়ের অদূরে রাস্তা পারাপারের সময় যাত্রীবাহী বাসের চাপায় সেলিনা আক্তার (৪০) ঘটনাস্থলেই নিহত হয়।
সরাইল বিশ্বরোড হাইওয়ে পুলিশের সার্জেন্ট আব্দুন নুর জানান, সরু ও আঁকাবাঁকা সড়ক, বেপরোয়া যানবাহন চলাচলের কারণে দুর্ঘটনা ঘটছে। অবৈধভাবে চলাচলকারী যানবাহন আটক করে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। পুলিশ সুপার জানান, বিশেষ করে অবৈধ সিএনজি অটোরিক্সা, বেপরোয়া যানবাহন চলাচল ও রোড মার্কিং না থাকায় দুর্ঘটনা বাড়ছে।
