গায়িকা না নায়িকা

আপডেট : ২২ মে ২০১৯, ১৯:৫৯

র কি ব  হো সে ন

 

একজন অভিনেত্রী হিসেবে সোহানা সাবার শৈল্পিক অভিনয়ের দৈর্ঘ্য-প্রস্থ তাঁর ভক্তকুলের ভালো করেই জানা। অভিনয় দিয়ে এই তারকা দেশের সীমানা ছাড়িয়ে ওপার বাংলাতেও নিজের জাত চিনিয়েছেন। ক্যারিয়ারের শুরুতে একটু অফট্র্যাকের গল্প ও চরিত্রে কাজ কাজ করেছেন বলে এটাই এখন এই নায়িকার বৈশিষ্ট্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভিন্নধারার কাজ সোহানা সাবাকে বহুমুখী চরিত্রের অভিনেত্রী হিসেবে উপস্থাপন করেছে দর্শকমহলে। দুই বাংলার জনপ্রিয় এই অভিনেত্রী তাঁর কাজের মাধ্যমে ভক্তদের চমকে দিতে ভালোবাসেন। ভালোবাসেন অভিনয়ের দুনিয়ায় নতুন স্বপ্নের ছবি আঁকতে। সাবা সম্প্রতি প্রথমবারের মতো একটি ছবির গানে কণ্ঠ দিয়েছেন। নায়িকার সঙ্গে গানটিতে কণ্ঠ মিলিয়েছেন ইমরান। আর এটি ব্যবহূত হবে সাবা অভিনীত ‘আব্বাস ওটু’ শিরোনামের একটি চলচ্চিত্রে। গান গাওয়ার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে নায়িকা বললেন, ‘অনেকদিন আগের কথা। আমি তখন শুটিংয়ে ছিলাম। হঠাত্ করেই নীরব (অভিনেতা) আমাকে ফোন করে মগবাজারের একটি স্টুডিওতে যেতে বললেন। আমি সাতপাঁচ ভেবে সেখানে যাওয়ার পর আবিষ্কার করলাম আমাকে গান গাইতে হবে। আমি ছবির নায়ক নীরব ও পরিচালক সাইফ চন্দনকে বললাম আমাকে দিয়ে গান হবে না। কিন্তু তারা নাছোড়বান্দা, আমাকে দিয়ে গান গাইয়েই ছাড়লেন।’ ছোটবেলায় নাচ শেখার পাশাপাশি দুই বছর গানেও তালিম নিয়েছেন সাবা। ওই সময় তার গানের গলাও দারুণ ছিল। এই সময়ে এসে গান গাইতে গিয়ে কিছুটা নার্ভাস ছিলেন নায়িকা। সাবা আরো বললেন, ‘আসলে আমি অভিনেত্রী ও নৃত্যশিল্পী বলে এই সাহসটাকে কাজে লাগিয়েই বোধকরি গান গাইতে সক্ষম হয়েছি। শুনেছিলাম ছোটবেলায় নাকি আমার গানের গলা ভালো ছিল। নাচ ও গানটাকে ভালোবাসতাম। এখন অহর্নিশ অভিনয়ের প্রেমেই মজে থাকি। হুট করে এবার গান গাইলেও আমি গায়িকা না, নায়িকা।’ একসময় খুব একটা বুঝে অভিনয় করেননি সোহানা সাবা। সময়ের বিবর্তনে যখন ভালো করে বুঝে অভিনয়টা শুরু করলেন, তখন বুঝতে পারলেন এটা কত কঠিন কাজ। এখনো কোনো নতুন কাজের শুটিংয়ের আগের দিন নার্ভাসনেস পেয়ে বসে তাঁকে। ‘আমার শুরুটা হয়েছিল নাচের মাধ্যমে। এরপর ‘আয়না’ ছবির মাধ্যমে আমার চলচ্চিত্র যাত্রা। একের পর এক চরিত্রে কাজ করে অনেক আনন্দ পেয়েছি। ক্যারিয়ারের শুরুতে খুব যে বুঝে অভিনয় করেছি, তা নয়। পরে যখন কাজটা বোঝার চেষ্টা করেছি, বুঝতে পারলাম অভিনয়টা কঠিন কাজ, তখন মনে হতে লাগল, অভিনয়ের মহাসমুদ্রে আমি কত তুচ্ছ। কোনো কাজের জন্য ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানোর সময়টা আমার খুব ভালোলাগার। এটা আমার প্রিয় মুহূর্ত। এমনই প্রিয় মুহূর্ত আমি যখন স্টেজে নাচতে থাকি, আর দর্শকরা হাত তালি দেয়,’ বললেন সাবা। একটা অতৃপ্তির সাগর বুকে ধরেই অভিনয় করে যাচ্ছেন সোহানা সাবা। পর্দায় বা শুটিংয়ের সময় মনিটরে নিজের অভিনয় দেখা হয়ে ওঠে না এই নায়িকার। এর কারণ উল্লেখ করে সাবা বলেন, ‘নিজের কাজ কখনোই আমার ভালো লাগে না। ফলে আমি আমার অভিনয় দেখি না। ইন্ডিয়াতে কাজ করতে গিয়ে দেখেছি, একটি শট দেওয়ার পর শিল্পীরা সেটা দেখে থাকেন। কিন্তু আমার ক্ষেত্রে এমনটি হয়ে ওঠে না। যদি কখনো কোনো কারণে নিজের কাজের কিছুটা দেখা হয়, তাহলে আমি নানারকম অতৃপ্তিতে ভুগে থাকি। মনে হয় এই জায়গায় এটা না করে ওটা করলে ভালো হতো।  এখানে আমি আরো ভালো করতে পারতাম।’ কলকাতার ছবি ‘ষড়রিপু’ সোহানা সাবাকে ওপার বাংলার দর্শকদের কাছে নতুন এক পরিচিতি এনে দেওয়ার পাশাপাশি জনপ্রিয়তাও দিয়েছে। সাবা এই ছবিতে জাঁদরেল কয়েকজন অভিনেতার সঙ্গে কাজের সুযোগ পেয়েছেন। দুই বাংলায় কাজের পার্থক্য তুলে ধরে এই অভিনেত্রী বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে ওদের কাজের খুব একটা পার্থক্য নেই। তবে কলকাতায় কাজ করতে গিয়ে আমার মনে হয়েছে, ওরা আমাদের চেয়ে অনেক প্রফেশনাল। শুটিংয়ে আমাদের মেকআপম্যানকে যেমন ডাক দেওয়া লাগে, কিন্তু ওখানে ডাকতে হয় না। নিজেদের দায়িত্বের প্রতি ওরা অনেক সচেতন। সবাই টাইমলি শুটিংস্পটে হাজির হয়।’ কলকাতায় এখন মুক্তির প্রহর গুনছে সোহানা সাবা অভিনীত ‘এপার ওপার’ শিরোনামের একটি চলচ্চিত্র। এর প্রধান নারী চরিত্রে দেখা যাবে তাঁকে। ছবিতে তাঁর বিপরীতে অভিনয় করেছেন সৌরভ চট্টোপাধ্যায়। এটি পরিচালনা করেছেন হরনাথ চক্রবর্তী। সাবা বলেন, ‘‘এপার ওপার’ ছবিতে আমি ’৭১ সালের পটভূমিতে বাংলাদেশের একজন নারীর চরিত্রে কাজ করেছি। ছবিটির গল্প ও আমার চরিত্রটি ভালো লেগেছে। কাজটি আমি বেশ উপভোগ করেছি।’ বড়পর্দার বাইরে মাঝে মাঝে দেশীয় টিভিতেও অভিনয় করেন সাবা। এর আগে দীপ্ত টিভিতে প্রচারিত ‘মধ্যবর্তিনী’ সিরিয়ালে অভিনয় করে প্রশংসিত হয়েছেন তিনি। এবার কাজ করছেন এর পরের কিস্তি ‘মধ্যবর্তিনী ২’-এ। নতুন সিজনেও নিজের পারফরম্যান্স দিয়ে সবার নজর কাড়বেন—এটাই সাবাভক্তদের প্রত্যাশা।