কোন দেশের উন্নয়নে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা দরকার বলে মত দিয়েছেন মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী ড. মাহাথির বিন মোহাম্মদ। তিনি বলেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর বিদেশি বিনিয়োগ নির্ভর করে। বিদেশি বিনিয়োগ বাড়লে স্বাভাবিকভাবেই সংশ্লিষ্ট দেশের উন্নয়ন হবে। এজন্য স্থিতিশীলতা বজায় রেখে বিদেশি বিনিয়োগ?বান্ধব পরিবেশ তৈরি করে দেয়া রাজনৈতিক দলগুলোরই দায়িত্ব। বিএনপির সামপ্রতিক জাতীয় নির্বাচন বর্জন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচন ও ফলাফল বর্জন কোনো সমাধান নয়। এ ধরনের সিদ্ধান্ত দেশ ও জাতির জন্যও কল্যাণকর নয়। গতকাল শনিবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের গণতন্ত্র, দশম জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির নির্বাচন বর্জন, মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের শ্রমবাজারসহ বিভিন্ন বিষয়ে তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন।
মাহাথির মোহাম্মদ বলেন, নেতৃত্বের জন্য শক্তিশালী পৃষ্ঠপোষকতা দরকার। নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন দিক উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমি পাঁচবার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছি দুই তৃতীয়াংশের সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে। আমার শক্তিশালী পৃষ্ঠপোষকতা ছিল।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ক্ষমতায় এসে আমি পূর্বমুখী (লুকিং ইস্ট) নীতি গ্রহণ করি। এক্ষেত্রে পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর উন্নয়নের দৃষ্টান্ত গ্রহণ করি। সুষ্ঠু বিদেশি বিনিয়োগের পরিবেশ নিশ্চিত, পর্যটকদের আকৃষ্ট করার ক্ষেত্রে তাদের উন্নয়ন নীতি গ্রহণ করি।
তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক নির্বাচনে কেউ হারবে, কেউ জিতবে। জয়-পরাজয় মেনে নিতে হবে। যারা নির্বাচনে পরাজিত হয়, তাদের ধৈর্য ধরতে হবে। পরবর্তী নির্বাচনের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। এ ক্ষেত্রে তিনি বুশ ও আল গোরের নির্বাচনের ফলাফলের বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি বলেন, তোমার জয়ের দরকার নেই, জাতির জয়ের দরকার।
মাহাথির বলেন, কোন দেশের উন্নয়নের জন্য রাজপথে বিক্ষোভ অন্তরায়। রাজপথে বিক্ষোভ করে কোন নির্বাচিত সরকারকে সরিয়ে দিলে তার ক্ষেত্রেই একই পরিণতি হবে। এটা পশ্চিমা ধাঁচের গণতন্ত্র। এ ক্ষেত্রে তিনি ইউক্রেন ও মিশরের কথা তুলে ধরেন। গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে প্রত্যেক রাজনৈতিক দলকে নিজস্ব অবস্থান থেকে অবদান রাখা প্রয়োজন বলে তিনি মত দেন।
মালয়েশিয়ার সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী বলেন, উন্নত অনেক দেশে মোট ভোটারের ২৫ ভাগ ভোটাধিকার প্রয়োগ করে। তারমধ্যে মাত্র ১৫ ভাগ ভোট পেয়ে সরকার গঠন করতে দেখা যায়। সে অবস্থায়ও রাজনৈতিক দলগুলোকে পরবর্তী নির্বাচনের জন্য অপেক্ষা করতে দেখা যায়। এসময় তিনি বলেন, জাতীয় ইস্যুতে ধর্মঘট হতে পারে। প্রয়োজন মনে করলে জনগণ তাতে অংশ নেবে। কিন্তু রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ধর্মঘট কাম্য নয়।
মাহাথির বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের রায় নিয়ে গঠিত সরকারও রাজপথের বিক্ষোভের মুখে পড়ে। এটা পশ্চিমা-প্রভাবিত কৌশল। তবে জাতীয় প্রয়োজনে যৌক্তিক ধর্মঘট ডাকলে সেটা ভিন্ন কথা।
তিনি জানান, মালয়েশিয়ায় ৩ মিলিয়ন বিদেশি শ্রমিক রয়েছে। এদের মধ্যে অনেকে ভালো আবার অনেকে বিভিন্ন অপরাধের সাথে জড়িত।
