আন্তর্জাতিক নারী চলচ্চিত্র উত্সব

নারীর চোখে চলচ্চিত্র

আপডেট : ১৬ মার্চ ২০১৪, ২০:২৬
সব কিছুতেই এখন পুরুষের সঙ্গে সমান তালে এগিয়ে চলেছে নারী। সেই সূত্রে সুকুমার বৃত্তির অন্যতম মাধ্যম চলচ্চিত্র নির্মাণেও পিছিয়ে নেই নারীসমাজ। দেশে এখন প্রতিবছরই নারী নির্মাতাদের মেধা ও মননে নির্মিত হচ্ছে চলচ্চিত্র। আবার সেগুলোর মধ্যে দর্শকের নজর কাড়ছে এবং নন্দিত হচ্ছে এমন ছবিও রয়েছে। আর নারী নির্মাতাদের সেই অবদানকে তুলে ধরতে হয়ে গেল আন্তর্জাতিক নারী চলচ্চিত্র উত্সব। নারীর চোখে চলচ্চিত্র স্লোগানে তিনদিনের এ উত্সবের আয়োজন করে ‘উইমেন্স ফিল্ম সোসাইটি বাংলাদেশ’। বাংলাদেশসহ ১৬টি দেশের ২৫টি চলচ্চিত্র দিয়ে সাজানো হয় উত্সব। উত্সব ভেন্যুগুলো ছিল জাতীয় জাদুঘরের প্রধান ও কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তন এবং সুফিয়া কামাল জাতীয় গণগ্রন্থাগারের শওকত ওসমান মিলনায়তন। সবার জন্য উন্মুক্ত এ উত্সব উত্সর্গ করা হয়েছে দেশের প্রথম নারী নির্মাতা রেবেকাকে। উত্সবের প্রধান অতিথি হিসেবে উত্সব উদ্বোধন করেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি। বিশেষ অতিথি ছিলেন নারী চলচ্চিত্র নির্মাতা শামীম আখতার। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সোসাইটির সভাপতি লায়লুন নাহার একরাম। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন উত্সব পরিচালক মেহেদী হাসান। উদ্বোধনী আনুষ্ঠানিকতা শেষে দেখানো হয় শাহনেওয়াজ কাকলী পরিচালিত ‘উত্তরের সুর’। ইমপ্রেস টেলিফিল্ম প্রযোজিত ও পরিবেশিত এই ছবির গল্প একজন গায়েনের জীবনচিত্র। গান পাগল চাঁন মিয়া তার মেয়ে আয়েশাকে সঙ্গে নিয়ে দিন-রাত কাটায় পথে-ঘাটে। নানারকম মানুষের সঙ্গে তার চেনাজানা হয়। গায়েনের জীবনে ঘটে যাওয়া টুকরো টুকরো ঘটনা নিয়ে এগিয়ে যায় ছবির গল্প। এ ছবির পর দেখানো হয় পোল্যান্ডের মার্তা প্রাসের ‘এ্যান্ড নাথিং এ্যারাউন্ড’। উত্সবের দ্বিতীয় দিন দেখানো হয় আটটি ছবি। এর মধ্যে বাংলাদেশের ছবি দুইটি। বাংলাদেশের নির্মাতা শামীম আখতারের ‘শিলালিপি’ এবং কোহিনূর আক্তার সুচন্দার ‘হাজার বছর ধরে’ দেখানো হয়। পরে দেখানো হয় ফ্রান্সের অ্যানি জ্যাকুলিনের ছবি ‘টেম্পস ডি’আমুর’ এবং নারগিস আক্তারের ‘মেঘলা আকাশ’। উত্সবে স্বাগতিক বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, ইরান, ইন্দোনেশিয়া, ফ্রান্স, তাইওয়ান, জর্দান, গ্রিস, ইতালি, অস্ট্রেলিয়া, কেনিয়া, জাপান, কানাডা ও আফগানিস্তানের নারী নির্মাতাদের ২৫টি চলচ্চিত্র দেখানো হয়।