তরুণ ফ্যাশন আইকন

আপডেট : ১৬ মার্চ ২০১৪, ২০:৩০
ফ্যাশন জগতের এক তরুণ প্রতিভা এমা। তবে তিনি জনপ্রিয় অভিনেত্রী এমা ওয়াটসন নন, এই এমাও একাধারে একজন আমেরিকান অভিনেত্রী, মডেল এবং গায়িকা। এককথায় বলা যায় ফ্যাশন জগতের এক অন্যতম নক্ষত্র তিনি। এই তরুণীর ফ্যাশন জগত্ নিয়ে লিখেছেন প্রাঞ্জল সেলিম ফ্যাশন জগতে এখন এক অতি পরিচিত নাম এমা। সফল প্রফেশনাল ফ্যাশন ডিজাইনারদের মধ্যে তার নাম গণ্য করা হয়। তিনি এলিস ও অলিভিয়া নামের ফ্যাশন লাইন তৈরি করে খ্যাতির শীর্ষে উঠে আসেন। এবং অল্প বয়সে মিলিয়নিয়ার হওয়ার স্বাদ পান তিনি তার এ কাজের মাধ্যমে। বর্তমানে তার বাত্সরিক আয় ৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৩৫ লাখ টাকা। এমার সাফল্যের নকশা এমা তার ব্যবসায়িক জীবনের সূচনা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনাকালীন। তিনি সেসময় পেনিনসুয়েলা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত তারই সহপাঠী লরেনের সাথে মিলে ব্যবসার পরিকল্পনা করেন। পরবর্তীতে তাদের মিলিত প্রচেষ্টায় গড়ে ওঠে এলিস ও অলিভিয়া নামের ফ্যাশন প্রজেক্টটি। জানা যায়, এমা কলেজে থাকা অবস্থায় একটা কাজের ইন্টারভিউ দিতে গিয়ে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলেন। শুধু কলেজেই নয়, সব সময়ই তার পোশাকের ধরন ছিল এমন আকর্ষণীয়। এজন্য তাকে অনেকে ফ্যাশনেবল গার্ল বলে জানতেন। অন্যদিকে তার ব্যবসায়িক পার্টনার হিসেবে ছিল একজন। আক্ষরিক অর্থেই সে ছিল অন্যরকম। এমার পছন্দ তিনি বর্তমানে নিউ ইয়র্কের বসবাস করেন। তিনি জিনসের প্যান্ট পরতে খুব পছন্দ করেন, সেই সাথে স্কার্ট ও টপস। বিশেষ করে যেগুলো স্কিনি এবং স্লিম। সাথে বড় বকলেসের বেল্ট। পেনিনসুয়েলা ইউনিভার্সিটিতে পড়ার সময়ই তার ডেনিম ব্র্যান্ডের বেশ ভালো একটি সংগ্রহ ছিল। বছরের পর বছর শপিং করে, জামা বানিয়ে, নিজে সেলাই করে, জোড়া দিয়ে তিনি নিজের পছন্দমতো ডিজাইনের জিন্স তৈরি করে নিতেন। এবং প্রতিবারই ভিন্ন ধরনের কিছু, যা ইউনিক হতে হবে অবশ্যই। বলা যায় এভাবেই জন্ম হয় তার ফ্যাশন ধারণার। নিউ ইয়র্কের বুকে এই ফ্যাশন তারকার পথচলা শুরু হয় ২০০২ সালের শেষ ভাগে। এবং শুরুতেই সফলতা পেয়ে আলোড়ন তোলেন ফ্যাশন জগতে। সবাই এমার মতো পারফেক্ট ফ্যাশনেবল ড্রেস চায়। মার্কেটে এর নামও হয়ে যায়, ‘এমা ফ্যাশন’। ২০১৩ সালে এমা ফ্যাশন জগতে নিয়ে আসে একটি নতুন ডিজাইন, ‘কাশ্মিরি সোয়েটার কালেকশন’। সে বছরই তিনি মার্কেটে নিয়ে আসেন বিশেষ মানের সুইমওয়্যার, অর্থাত্ সাঁতারের পোশাক। এবং নামকরণ করেন, ‘অ্যান্টোনি ও মো’। ফ্যাশন জগতে প্রবেশের প্রায় দু’বছরের মধ্যে এলিস ও ওলিভিয়ার খ্যাতি আরও ছড়িয়ে পড়ে। তিনি এরপর প্রথমবারের মতো স্থাপন করেন বুটিক শপ। এপ্রিল ২০০৬ সালে আমেরিকার লস অ্যাঞ্জেলেসে এলিস ও ওলিভিয়ার খ্যাতির ধারাবাহিকতা বজায় রেখে আরও একটি বুটিক শপ প্রতিষ্ঠা করেন। শুধুমাত্র নিউইয়র্ক শহরেই তার বুটিকের সংখ্যা বর্তমানে ৫টি। এরপর তিনি পা রাখেন জুতার ফ্যাশন জগতে। নিউ ইয়র্ক ফ্যাশন উইকে ২০০৮ সালে তিনি তার অন্যান্য কালেকশনের সাথে মিলিয়ে মার্কেটে আনেন বাহারি জুতা। নাম দেন, ‘পেলেস কালেকশন’। গায়িকা এমা এমা সিনেমার তারকাদের ড্রেস ডিজাইনার হিসেবেও কাজ করছেন। তবে শুধু ডিজাইন নয়, তিনি গানও করেন। ২০০৫ সালে তার প্রথম অ্যালবাম বের হয় ‘ফ্যাবুলাস অ্যান্ড মোর’ নামে। কলম্বিয়া ও নিক রেকর্ডসের ব্যানারে বের হয় তার এই গানের অ্যালবামটি।