জয়ের জন্য তখন আর মাত্র ১ রান বাকি; হাতে আছে তখনও ৫৩ বল!
এই অবস্থায় একটু ‘নাটকীয়’ পরিস্থিতি তৈরি হল। একটার পর একটা বল দারুণ রক্ষণাত্মকভাবে খেললেন এনামুল হক বিজয়। দুটো বলে পরপর পরাস্তও হলেন। যেন খুব একটা উত্তেজনার ব্যাপার। গ্যালারি জুড়ে অস্থির শব্দ শোনা যাচ্ছে। শেষ পর্যন্ত এই নাটকটা আর বেশিক্ষণ চালালেন না বিজয়। ওভারের শেষ বলে সামিউল্লাহ শেনওয়ারিকে সপাটে ছক্কা হাঁকিয়ে ফেটে পড়লেন বুনো উল্লাসে। ব্যাট শূন্যে ছুঁড়ে লাফিয়ে উঠে বুঝিয়ে দিলেন- দিনটা শুধুই বাংলাদেশের।
হ্যাঁ, একেবারে ব্যাটে-বলে আফগানিস্তানকে গুঁড়িয়ে দিয়ে ওয়ার্ল্ড টি-টোয়েন্টির শুরুটা এমন নিজেদেরই করে নিলো বাংলাদেশ। যে আফগানিস্তানকে নিয়ে বাতাসে অনেক হাওয়ার বুদবুদ তৈরি হয়েছিল, তৈরি হয়েছিল অনেক উত্তেজনা। কাল তাদেরই ৯ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে দিয়ে বাংলাদেশ বুঝিয়ে দিল, এসব উত্তেজনার কোনো অর্থ নেই; আফগানিস্তানের চেয়ে ঢের এগিয়ে থাকা দল বাংলাদেশ।
মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে ওয়ার্ল্ড টি-টোয়েন্টি বা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে গতকাল দুপুরে আফগানিস্তানকে মাত্র ৭২ রানে অলআউট করে দিলো বাংলাদেশ। জবাবে মাত্র ১২ ওভার ব্যাট করে একটি মাত্র উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে গেল মুশফিকুর রহিমের দল।
ম্যাচশেষে সাকিব আল হাসান এবং আফগান অধিনায়ক নবী দু’ জনই স্বীকার করলেন, ম্যাচের প্রথম বলেই মাশরাফির উইকেট নেওয়াই আসলে ছন্দটা ঠিক করে দিয়েছিল। সেই প্রথম বলে উইকেট খোয়ানোর পর আর কখনোই মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারেনি আফগানিস্তান। মাশরাফির ওই শুরু করে দেওয়ার পর পুরোনো রূপে আফগানদের চেপে ধরেছিলেন স্পিনাররা। সাকিব, রাজ্জাক ও মাহমুদউল্লাহ মিলে একদিকে রান আটকে রেখেছেন, অন্য দিকে টপ টপ করে তুলে নিয়েছেন উইকেট। বিনা রানে প্রথম উইকেট হারানোর পর ৩৬ রানের একটা জুটি করেছিলেন নাইব ও তারকাই। কিন্তু সাকিব এসে ঠিক ৩৬ রানে রেখেই এই দুই উইকেট তুলে নেন; ওই রানেই রানআউট হন নওরোজ। এরপর আর আফগান কোনো ব্যাটসম্যানই রুখে দাঁড়াতে পারেননি।
সাকিব ৩ উইকেট নিয়ে আক্রমণে নেতৃত্ব দিয়েছেন। রাজ্জাকও ফর্ম ফিরে পেয়ে নিয়েছেন ২ উইকেট। আর মাহমুদউল্লাহ, মাশরাফি, ফরহাদ রেজা নিয়েছেন একটি করে উইকেট। অসাধারণ দুই থ্রোতে দুটো রান আউট করেছেন সাব্বির ও ফরহাদ।
৭২ রানে প্রতিপক্ষকে অলআউট করার পর বাংলাদেশের জয়টা ছিল সময়ের ব্যাপার মাত্র।
তবে সেটা করতে খুব তড়িঘড়ি করেননি ব্যাটসম্যানরা। তামিম ও এনামুল খুবই বিবেচনাপ্রসূত একটা শুরু এনে দেন বাংলাদেশকে। দু’ জনে উদ্বোধনী জুটিতে যোগ করেন ৪৫ রান। তখন শুধু আনুষ্ঠানিকতার অপেক্ষা। এই অবস্থায় তামিম ২১ রানে ফিরে যাওয়ার পর বিজয়ের সঙ্গে মিলে দলকে বিজয়টা এনে দেন সাকিব। শেষ পর্যন্ত বিজয় ৪৪ রানে এবং সাকিব ১০ রানে অপরাজিত থাকেন।
