সারাদেশ বিনোদন ডেস্ক
মহাকাল নাট্য সম্প্রদায় বাঙালির হাজার বছরের সংস্কৃতির প্রতি অবিচল আনুগত্যে স্থির থেকে ১৯৮৩ সাল থেকে নিয়মিত নাট্যচর্চারত সংগঠন হিসেবে সাংস্কৃতিক অঙ্গনে কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে অবিরাম নাট্যচর্চায় মহাকাল নাট্য সম্প্রদায় ৪০টি নাট্য প্রযোজনা মঞ্চে এনেছে ও প্রযোজনাগুলোর ১০১৯টি প্রদর্শনী সম্পন্ন করেছে এবং ২টি নাট্য প্রযোজনার শতাধিক মঞ্চায়ন ও ১টি প্রযোজনার ১৫০তম মঞ্চায়ন সম্পন্ন করেছে। মঞ্চে ৪টি প্রযোজনা নিয়মিতভাবে মঞ্চায়ন করে যাচ্ছে।
আগামী ১৪ জুলাই মহাকাল নাট্য সম্প্রদায়ের প্রতিষ্ঠার তিন যুগপূর্তি হবে। এ উপলক্ষে বছরব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে নানাবিধ নাট্য কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। এরইমধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে নতুন মঞ্চনাট্য প্রযোজনা মহাপ্রয়াণের শোক আখ্যান ‘শ্রাবণ ট্র্যাজেডি’, নতুন নাট্যবন্ধুদের সমন্বয়ে ১ মাসব্যাপী নাট্য কর্মশালা এবং নতুন শিল্পীদের দিয়ে দুটি কর্মশালা প্রযোজনা, ‘নীলাখ্যান’ নাটক নিয়ে ভারতের ত্রিপুরা ও পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সফর, ৫ দিনব্যাপী ‘ঢাকা-দিল্লি নাট্যোত্সব’, দলীয় নাট্যকার কানাই চক্রবর্ত্তী রচিত ‘আনন্দের মুক্তি চাই এবং অন্যান্য নাটক’ গ্রন্থের প্রকাশনা উত্সব, বাস্তবায়নের পথে মানবিক নাটক ‘শিখণ্ডী কথা’র ১৭৫তম প্রদর্শনী, কাজী নজরুল ইসলামের ‘সাপুড়ে’ আশ্রয়ে ‘নীলাখ্যান’-এর ৫০তম মঞ্চায়ন। জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে নাটক নিয়ে দিল্লি সফর এবং বছরব্যাপী অনুষ্ঠানমালার শেষ আয়োজন জুলাই ৭ দিনব্যাপী ‘বাংলা নাট্যোত্সব’।
আগামী সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার পরিক্ষণ থিয়েটার হলে মহাকাল নাট্য সম্প্রদায় প্রযোজনা দ্রোহ ও প্রেমের কবি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ‘সাপুড়ে’ আশ্রয়ে মানবপ্রেমের অমর উপাখ্যান ‘নীলাখ্যান’-এর ৫০তম মঞ্চায়ন অনুষ্ঠিত হবে। নাটকটি রচনা করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আনন জামান এবং নির্দেশনা দিয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. ইউসুফ হাসান অর্ক। এ নাটকের প্রথম মঞ্চায়ন হয় ২০১৫ সালের ১৪ আগস্ট জাতীয় নাট্যশালার পরিক্ষণ থিয়েটার হলে।
২৪ মে সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে বাংলাদেশে প্রথম হিজড়া সমাজের মানুষের সুখ-দুঃখ কথামালায় গাঁথা গবেষণালব্ধ নাটক ‘শিখণ্ডী কথা’র ১৭৫তম মঞ্চায়ন। নাটকটি রচনা করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আনন জামান এবং নির্দেশনা দিয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. রশীদ হারুন। এ নাটকের প্রথম মঞ্চায়ন হয় ২০০২ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর মহিলা সমিতি মঞ্চে। শততম মঞ্চায়ন হয় ২০১০ সালের ৩ মার্চ জাতীয় নাট্যশালার মূল হলে এবং ১৫০তম মঞ্চায়ন ২০০৪ সালের ১৫ নভেম্বর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় সঙ্গীত ও নৃত্যকলা মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়।
২৩ মে বিকেল ৪টায় ‘নীলাখ্যান’ নাটকের ১৭৫তম মঞ্চায়ন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ, এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের সেক্রেটারি জেনারেল নাট্যজন কামাল বায়েজীদ এবং অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন কবি নজরুল ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক অতিরিক্ত সচিব মানিক মোহাম্মদ রাজ্জাক। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখবেন সংগঠনের সিনিয়র সদস্য মো. আবদুল জলিল। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালন করবেন মহাকাল নাট্য সম্প্রদায়ের ঊর্ধ্বতন সদস্য এম এ আজাদ এবং সভাপতিত্ব করবেন মহাকাল নাট্য সম্প্রদায়ের সভাপতি মীর জাহিদ হাসান।
অনুষ্ঠানমালায় আরো থাকবে ‘নীলাখ্যান’ নাটকের নাট্যকার আনন জামান এবং নির্দেশক ড. ইউসুফ হাসান অর্ককে সম্মাননা জ্ঞাপন, ৫০টি প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণকারী শিল্পী মো. শাহনেওয়াজ ও মীর জাহিদ হাসানকে সম্মাননা স্মারক প্রদান এবং সকল অংশগ্রহণকারী শিল্পীদের ৫০তম মঞ্চায়ন স্মারক প্রদান। আলোচনা অনুষ্ঠানের প্রথমেই থাকছে মহাকাল নাট্য সম্প্রদায়ের পরিবেশনায় গীতিআলেখ্য মীর জাহিদ হাসানের গ্রন্থনা ও পরিকল্পনা এবং আমিনুল আশরাফের কোরিওগ্রাফি ও নির্দেশনায় ‘যখন আমার পিতার নাম শেখ মুজিবুর রহমান’।
আলোচনা শেষে সকল দর্শক, অতিথি ও নাট্যজনদের সম্মানে ইফতার আয়োজন।
