প্রথম ম্যাচে আফগানিস্তানকে রীতিমতো উড়িয়ে দিয়ে সুপার টেনের পথে বড় পদক্ষেপটা নিয়েই ফেলেছে বাংলাদেশ। তাতেই সব কাজ হয়ে গেছে বলে মোটেই ভাবছেন না অধিনায়ক মুশফিকুর রহীম। বরং আজ চট্টগ্রামে নেপালের বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচে কঠিন চ্যালেঞ্জই আশা করছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। অন্যদিকে প্রথমবারের মতো টেস্ট খেলুড়ে কোন দেশের বিরুদ্ধে মাঠে নামতে যাওয়ার উপলক্ষ্যটাকে স্মরণীয় করে রাখতে সম্ভাব্য সবকিছু করতে প্রস্তুত নেপাল।
একদিকে আত্মবিশ্বাস, অন্যদিকে ভালো কিছু করার ইচ্ছা নিয়ে আজ সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা থেকে চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে পরস্পরের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ ও নেপাল। প্রথমপর্বে যার যার এই দ্বিতীয় ম্যাচে জয় পেলেই কার্যত সুপার টেনে পা রাখবে জয়ীরা।
এশিয়া কাপে হারের পর থেকেই আফগানদের বিরুদ্ধে আরেকটি লড়াইয়ের আগে কিছুটা হলেও শঙ্কায় ছিলেন দেশের ক্রিকেটপ্রেমী মানুষ। কিন্তু ব্যাটিং-বোলিং-ফিল্ডিং তিন বিভাগেই মোহাম্মদ নবীদের উড়িয়ে দিয়ে মুশফিকরা প্রমাণ করেছেন, এশিয়া কাপের ওই হার নিতান্ত অঘটন বাদে কিছু নয়। সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরেকটি বিষয়। জয়ের সম্ভাবনা তৈরী করেও ম্যাচ হারের যে ধারা তৈরী হয়েছিল সাম্প্রতিক সময়ে, সেই ধারা ভেঙ্গে বেরিয়ে আসতে পেরেছে বাংলাদেশ। ফলে দলের সঙ্গী হয়েছে আত্মবিশ্বাসও।
গতকালের ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে মুশফিকের কথায় ঘুরে ফিরে এলো সেই বিষয়টিই। তিনি বলেন, ‘টি-২০ ফরমেট আসলে ভীষণ বিপজ্জনক। এই ফরমেটে ধারাবাহিকভাবে ভালো করা কঠিন কাজ। এখানে ছোটো-বড় বলে কোনো কথা নেই। যে কেউ হারতে পারে আবার জিততেও পারে। তবে মঙ্গলবার নেপালকে হারানোর লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামবো আমরা। ব্যবধানটা ১০ উইকেটের হোক অথবা হোক ১ রানের, জয় ছাড়া আমাদের সামনে আর কোনো বিকল্প নেই।’
বাংলাদেশের শক্তির জায়গা যেখানে আত্মবিশ্বাস সেখানে নেপালের আস্থা তাদের দৃঢ়প্রতিজ্ঞায়। আঠার বছরের সুদীর্ঘ ক্রিকেট সাধনার পর অবশেষে টেস্ট খেলুড়ে কোন দেশের মুখোমুখি হবার সুযোগকে কাজে লাগাতে মরিয়া বাংলাদেশের সার্ক বন্ধু রাষ্ট্রটি। প্রথম ম্যাচে হংকংকে হারিয়ে নিজেদের ক্রিকেট সামর্থ্যের প্রমাণও দিয়েছে তারা। বাংলাদেশের জন্য সুপার টেনের পথটাকে কণ্টকময় করে তুলতে আজও নিশ্চয়ই সামর্থ্যের সেরাটাই ঢেলে দিতে চাইবেন তারা।
তবে গত কয়েক বছরে নেপাল দলের পারফরম্যান্সের দিকে দৃষ্টি দিলে দেখা যাবে, ‘ভাল ক্রিকেট’ তারা এবারই প্রথম নয়, গত কয়েক বছর ধরেই খেলে চলেছে। শ্রীলঙ্কায় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গত আসরে অল্পের জন্য মূলপর্বে খেলা হয়নি তাদের। বাছাইপর্বের সেমিফাইনালে আফগানিস্তানের কাছে হেরে স্বপ্ন পূরণের একেবারে কাছাকাছি গিয়েও থমকে যায় পরাশ খাড়কার দল।
আজ আরেকটি সুপার টেনের লড়াই যখন সামনে তখন পুরনো সেই দিনের কথা মনে না হয়েই পারে না খাড়কা-গাউচানদের। মুশফিকদের আত্মবিশ্বাসে ফাটল ধরাতে দৃঢ় সংকল্প নিয়েই মাঠে নামবেন তারা।
বরাবরের মতোই এবারও জহুর আহমেদ চৌধূরী স্টেডিয়ামের উইকেট হচ্ছে কিছুটা ধীরগতির। বলা বাহুল্য বাংলাদেশের শক্তিমত্তার জায়গা বিবেচনা করে স্পিন সহায়ক উইকেটই তৈরি হয়েছে এখানে। মিরপুরের মতো খুব বেশী বাউন্স আশা করা হচ্ছে না চট্টগ্রামের এই উইকেট থেকে। ফলে, ব্যাটসম্যানদের জন্য থাকছে বড় সুযোগ। সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় খেলা শুরু হওয়ায় ম্যাচে কিছুটা হলেও ভূমিকা রাখতে পারে শিশির।
এদিকে তামিম ইকবাল এবং মাশরাফি বিন মোর্তজাকে ইনজুরির জন্য সতর্ক দৃষ্টিতে রাখা হলেও আজকের ম্যাচে দুইজনই খেলছেন বলে জানিয়েছেন মুশফিক। আর নেপালও নামছে তাদের প্রথম ম্যাচের দল নিয়েই। একই ভেন্যুতে আগামী ২০ তারিখ গ্রুপপর্বে নিজেদের সর্বশেষ ম্যাচ খেলবে দুই দল।
