বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজীনা বলেছেন, ওবামা প্রশাসনের নির্দেশ নিয়ে বাংলাদেশে যে কাজ শুরু করেছি, তা থেকে বিন্দুমাত্র সরে দাঁড়াইনি। দুই দেশের অংশীদারিত্বের সম্পর্ক আরো গভীর করার চেষ্টা হচ্ছে। দুই দেশের মধ্যে কিছু কিছু ক্ষেত্রে মতভেদ থাকলেও তা দূর করতে আমরা এক টেবিলে রয়েছি। রবিবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে আমেরিকান বাংলাদেশ পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কমিটির এক সভায় মজীনা এসব কথা বলেন। ঢাকায় প্রাপ্ত খবরে বলা হয়, নিউইয়র্কে তিন দিনের সফরে মজীনা বাংলাদেশি নাগরিকদের বেশ কয়েকটি সভায় যোগদান করেছেন।
মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশকে দুর্যোগের দেশ মনে করা ভুল। বাংলাদেশের অপার সম্ভাবনা রয়েছে। এদেশের অগ্রযাত্রাকে কেউ ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না। ঐ দিন নিউইয়র্ক থেকে সমপ্রচারিতব্য ২৪ ঘণ্টার বাংলা টেলিভিশন ‘টাইম টিভি’ এর মিলনায়তনে অপর এক সভায় মজীনা বলেন, মধ্য আয়ের দেশ হিসেবে সোনার বাংলাদেশ এমনিতেই গড়ে উঠবে না। জীবনমানের উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষই এ পরিবর্তন আনতে পারবে। এ ইতিবাচক পরিবর্তনে বাংলাদেশকে যুক্তরাষ্ট্র সর্বাত্মক সহযোগিতা করে যাবে। বাংলাদেশ যাতে প্রাকৃতিক সম্পদ কাজে লাগাতে পারে, পুরো এশিয়াজুড়ে ব্যবসা ও বিনিয়োগের অমিত সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে পারে সেকাজেও যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের পাশে দাঁড়াবে।
মজীনা বলেন, বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সমস্যা কাটিয়ে ওঠার ক্ষেত্রে সহযোগিতা দিতে যুক্তরাষ্ট্রের উদার মনোভাব রয়েছে। বাংলাদেশের তৈরি পোশাককে বিশ্বের এক নম্বর ব্র্যান্ডে পরিণত করার ক্ষেত্রে যেসব সমস্যা রয়েছে, তা ইতিমধ্যেই চিহ্নিত হয়েছে। এখন সময় হচ্ছে সে সব সমস্যা দূর করার।
রবিবার সন্ধ্যায় লাগোয়ার্ডিয়া এয়ারপোর্ট সংলগ্ন ‘ওয়ার্ল্ডফেয়ার মেরিনা’ রেস্টুরেন্টে নিউইয়র্ক সিটির সর্বস্তরের প্রতিনিধিত্বকারী প্রবাসীদের সমাগম ঘটে। বেইজিং অলিম্পিকে গোল্ড মেডেল পাওয়া চিত্রশিল্পী খুরশিদ আলম সেলিম রাষ্ট্রদূতকে একটি চিত্রকর্ম উপহার দেন। অনুষ্ঠানে উত্তর আমেরিকায় সদ্য প্রবাসী বাংলাদেশিদের তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কর্মসংস্থানের চেষ্টায় নিয়োজিত ‘পিপল এন টেক’র প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলী আবু হানিফকে সম্মাননা দেয়া হয়।
