ঢাকার পরিবাগ মোড় থেকে একটু এগুলেই রূপসী বাংলা—বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান ফাইভ স্টার হোটেল। পরিবাগ ক্রসিং দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ পার হয় আর উত্তর-দক্ষিণমুখী রাস্তাটি ভিআইপি রোড বলে এখানে পৌঁছাবার আগেই রিকশাগুলো প্যাসেঞ্জারকে নামিয়ে দিতে বাধ্য হয়। সুতরাং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বিএসএমএমইউ হাসপাতাল, বারডেম ও শাহবাগগামী হাজার হাজার মানুষের জন্য দীর্ঘ ফুটপাত মাড়ানো ছাড়া বিকল্প আর কোনো পথ খোলা নেই। যাঁরা এই পথে চলেন, তাঁরা একটি বিশাল বৃক্ষের সঙ্গে প্রতিনিয়ত সাক্ষাত্ করেন, যা পুরো ফুটপাতের একটি অংশ দখল করে দাঁড়িয়ে আছে। কিন্তু স্বল্প ডালপালা আর আধা ন্যাড়া এই বিশাল বপু গাছটিকে ঘিরে রাস্তার ভবঘুরে, মাদকসেবী, নিশিকন্যাদের মনুষ্য বর্জ্য প্রয়োগের কারণে বৃক্ষ সংলগ্ন স্থানটির অবস্থা এতটাই করুণ যে একজন সুস্থ স্বাভাবিক মানুষ এর পাশ দিয়ে অতিক্রম করতে চরম বিব্রত বোধ করেন। বাধ্য হয়ে ফুটপাতে চলমান অবস্থা থেকে হঠাত্ করেই নেমে যেতে হয় রাস্তায়। পেছন থেকে ধেয়ে আসা কাকরাইলগামী দ্রুতগামী যানবাহনের বাঁক নেবার এই ভয়ঙ্কর সংযোগস্থলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিটি মানুষকেই নামতে হয় পথে।
পেছনে অবিরাম চলমান যানবাহন আর সামনে মনুষ্য বর্জ্যপূর্ণ ফুটপাত। এ যেন হাজারো অফিস-বিশ্ববিদ্যালয়গামী মানুষকে, একটি সুন্দর সকালের শুরুতেই মৃত্যুর ঝুঁকিতে ফেলে, উত্কট বর্জ্যের প্রাত্যহিক আবাহন। কে দেখবে, কে ভাববে এইসব নিয়ে? হয়তোবা কর্তব্যনিষ্ঠ কর্তৃপক্ষের অগোচরে এই চক্রে পড়ে অকস্মাত্ লাশ হয়ে বৃক্ষের সামনে আত্মহুতি হবে কোনো শিক্ষার্থীর কিংবা কোনো শিক্ষক, চিকিত্সক, হতভাগ্য রোগী কিংবা পরিবারের সর্বস্ব জোগানদাতা কোনো মানুষের, আর তারপরে জাতীয় পত্রিকার দশম পাতার অষ্টম কলামে পথচারীর করুণ মৃত্যু শিরোনামে সংবাদ লিখেই সমাজ দায়িত্ব পালন শেষ করবে। কিন্তু এ কথাটি কোনোদিন বিবেকের কর্ণ কুহরে পৌঁছাবে না যে জীবনটি হয়তবা বলি দিতে হয়েছিল একটি বৃক্ষের জন্য। কর্তৃপক্ষ কি একটুখানি ভাববেন—তাঁরা মানুষের সেবক আর সেই মানুষের অমূল্য জীবনের জন্যই বৃক্ষ।
ঢাকা
