সুন্দরবনে র্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ অন্তত তিন ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ১৬টি আগ্নেয়াস্ত্রসহ বিভিন্ন ধরনের ৩৩৭ রাউন্ড গুলি। র্যাব দাবি করেছে, নিহতরা বনদস্যু রেজাউল বাহিনীর সদস্য। গতকাল মঙ্গলবার সকালে সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের তাম্বুলবুনিয়া খাল সংলগ্ন বনে এই ঘটনা ঘটে।
নিহতদের মধ্যে দুই জনের নাম জানিয়েছে র্যাব। এরা হলেন, আব্দুল কাদের ওরফে বড়ভাই কাদের ও কল্যাণ। তাদের বাড়ি খুলনা ও বাগেরহাট জেলায়। র্যাব-৮ এর উপ-অধিনায়ক মেজর আনোয়ারুল কবির ঘটনাস্থল থেকে এই সংবাদের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তবে তিনি তাত্ক্ষণিকভাবে নিহতদের বিস্তারিত পরিচয় জানাতে পারেন নি।
উদ্ধার করা আগ্নেয়াস্ত্রের মধ্যে রয়েছে ১টি দোনলা বন্দুক, ৯টি একনলা বন্দুক, ১টি শটগান, ৪টি দশমিক ২২ বোর রাইফেল ও ১টি থ্রি নট থ্রি রাইফেল।
র্যাব জানায়, তাম্বুলবুনিয়া এলাকায় রেজাউল ওরফে শীর্ষ বাহিনীর সদস্যরা অবস্থান করছে -এমন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-৮ এর একটি দল গতকাল ভোরে সেখানে অভিযান শুরু করে। সকাল সাড়ে আটটার দিকে তারা বনের ভেতর থেকে ধোঁয়া উড়তে দেখে সেখানে মানুষের অবস্থান রয়েছে বলে সন্দেহ করে। তারা ধোঁয়ার উেসর কাছাকাছি আসলে সেখানে পর্যবেক্ষণ মঞ্চে (ওয়াচ টাওয়ার) থাকা দস্যুরা র্যাব সদস্যদের দেখে গুলি ছোঁড়ে। এ সময় র্যাবও পাল্টা গুলি চালায়। সকাল ৯টা ২৪ মিনিট থেকে ৯টা ৫১ মিনিট পর্যন্ত চলা প্রায় আধাঘন্টার এই বন্দুকযুদ্ধে র্যাব অন্তত পঞ্চাশ রাউন্ড এবং দস্যুরা দুইশ’ রাউন্ড গুলি ছোঁড়ে। এক পর্যায়ে দস্যুরা পিছু হটে বনের ভেতরে পালিয়ে গেলে র্যাব তাদের আস্তানা থেকে তিন বনদস্যুর গুলিবিদ্ধ লাশ, আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করে। বিকালে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত র্যাব সদস্যরা সুন্দরবনে অবস্থান করছিলেন।
