ট্যাংকে দুই বন্ধুর লাশ

খুনের নেপথ্যে চোরাই পণ্যের কমিশন নিয়ে দ্বন্দ্ব

আপডেট : ১৮ মার্চ ২০১৪, ২৩:২৩
খুন করার আগে তাদের ইয়াবা সেবন করিয়ে নেশারঘোরে বুদ করা হয়। এরপর রশি দিয়ে হাত-পা বেঁধে গলায় রশি দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর শরীরের বিভিন্ন স্থানে ব্লেড দিয়ে আঘাত করা হয়। এমনকি হাত-পায়ের রগ কেটে ফেলে ঘাতকরা। পরে লাশ ফেলে দেয়া হয় সেফটি ট্যাংকে। এ ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার রাতে চট্টগ্রামের খুলশীর ২ নম্বর গেট এলাকার একটি নির্মাণাধীন বাড়িতে। কামরুল হাসান (২০) ও মোহাম্মদ ফোরকান (১৮) খুনের ঘটনায় চট্টগ্রাম নগর গোয়েন্দা পুলিশ দুই জনকে গ্রেফতার করেছে। তারাই জানিয়েছে কিভাবে এ হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এই দুই খুনের ঘটনায় নিহত কামরুল হাসানের বাবা আব্দুল হাকিম বাদী হয়ে ৯ জনের নাম উল্লেখ করে খুলশী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলাটি তদন্ত করছে নগর গোয়েন্দা পুলিশ। চট্টগ্রাম অফিস জানায়, গোয়েন্দা পুলিশের একজন অতিরিক্ত উপ-কমিশনার জানিয়েছেন, মামলায় যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, তারা সকলেই চিহ্নিত পেশাদার ছিনতাইকারী। এই চক্রটি রাতে ছিনতাইয়ের পাশাপাশি চলন্ত ট্রাক থেকে পণ্য চুরি করে। এই চুরি করা পণ্যের ভাগ-বাটোয়ারাকে কেন্দ করে কামরুল ও ফোরকানকে খুন করা হয়েছে। কামরুল ও ফোরকান এই ছিনতাই চক্রের সদস্য। সম্প্রতি চুরি করা পণ্যের পুরো ভাগ কামরুল ও ফোরকান নিয়ে নেয়। এ নিয়ে তাদের গ্রুপের মধ্যে দ্বিমত তৈরি হয়। গ্রুপের মধ্যে সিদ্ধান্ত হয় যে, কামরুল ও ফোরকানকে খুন করা হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী শনিবার রাত ১০টার পর খুলশীর ২ নম্বর গেট এলাকার নির্মাণাধীন বাড়ির ছাদে তারা আড্ডা দেয়। এসময় তারা ইয়াবা সেবন করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী কামরুল ও ফোরকানকে বেশি করে ইয়াবা সেবন করতে দেয়। রাত ৩টার দিকে ইয়াবা সেবনে এই দুইজন অনেকটা নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়লে গ্রুপের অন্য সদস্যরা রশি দিয়ে হাত-পা বেঁধে ফেলে। এক পর্যায়ে রশি দিয়ে গলায় শ্বাসরোধ করে তাদের হত্যা করা হয়। পরে ব্লেড দিয়ে হাত পায়ের রগ কেটে ফেলে ঘাতকরা। লাশ দুইটি নির্মাণাধীন বাড়ির সেফটি ট্যাংকে ফেলে দেয়া হয়। সোমবার সকালে ট্যাংক থেকে লাশ দুইটি উদ্ধার করে পুলিশ। ঐ গোয়েন্দা কর্মকর্তা এসব কথা জানান। অন্যদিকে, সোমবার সকালে সেফটি ট্যাংক থেকে লাশ উদ্ধারের সময় নগরীর ষোলশহর এলাকায় ছাত্রলীগের যানবাহন ভাংচুর, সড়ক অবরোধ ও পুলিশের কর্তব্যকাজে বাধাদানের ঘটনায় প্রায় ১৫০ জনকে আসামি করে পৃথক একটি মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। মামলায় অভিযোগ করা হয়, ছাত্রলীগ কর্মীরা বেআইনীভাবে ভাংচুরের ঘটনা ঘটিয়েছে।