স্টাফ রিপোর্টার, বগুড়া
বগুড়ায় কৃষকের ১০ টাকায় খোলা ছয় লক্ষাধিক ব্যাংক হিসাব বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে ব্যাংকারদের কাছে। দীর্ঘ প্রায় একযুগ এসব ব্যাংক হিসাবে শুধু ভর্তুকির টাকা নেওয়া ছাড়া কোনো লেনদেন করছেন না কৃষকরা। ফলে দুই লক্ষাধিক ব্যাংক হিসাব অচল হয়ে পড়ে আছে।
বগুড়া সদরের পাটিতাপাড়া গ্রামের কৃষক জাহিদুল ইসলাম, তবিবর রহমান, মোকাব্বর হোসেন ও রেজাউল করিম জানান, কৃষকের ভর্তুকির ব্যাংক হিসাবে সব ধরনের লেনদেন করা যায় তা তাদের জানা নেই। তাছাড়া ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তাদের বলেছে, ভর্তুকির হিসাবে অন্য কোনো লেনদেন করা যাবে না। একই এলাকার কৃষক শফিকুল ইসলাম জানান, গত প্রায় এক বছর আগে তার ওই হিসাবে সোনালী ব্যাংক বাজার শাখায় ১০ হাজার টাকার একটি চেক জমা দেন। পরে ব্যাংক থেকে তাকে জানানো হয় ভর্তুকির টাকা ছাড়া তার হিসেবে অন্য কোনো টাকা লেনদেন করা যাবে না। বাধ্য হয়ে তিনি আবেদন করে সেই টাকা ব্যাংক থেকে উঠিয়ে নেন।
শিবগঞ্জের মোকামতলার চচলনাকাথী গ্রামের কৃষক মো. আইয়ুব আলী, লস্করপুর পশ্চিমপাড়ার নাজিম উদ্দিন ও মো. জহুরুল ইসলাম জানান, ব্যাংক থেকে বলা হয়, কৃষকের ব্যাংক হিসাবে শুধু ভর্তুকির টাকা উত্তোলন করা যাবে। অন্য কোনো টাকা জমা ও উত্তোলন করার বিধান নেই। এসব কারণে তারা ব্যাংকের ওই হিসাবে লেনদেন করেন না।
সোনালী ব্যাংক বগুড়া বাজার শাখার ব্যবস্থাপক এবিএম জুলফিকার নাইম খান বলেন, সরকার কৃষকদের জন্য ১০ টাকার হিসাবে শুধুমাত্র সঞ্চয়ী লেনদেন করার অনুমতি দিয়েছে। তবে যে কৃষক ১০ হাজার টাকার চেক তার ১০ টাকায় খোলা হিসাবে জমা দিয়েছিল সেটা ছিল তার ব্যবসার টাকা। ওই চেক সাধারণত বাণিজ্যিক ব্যাংক হিসেবে জমা করার নিয়ম বিধায় তার জমা করা টাকা নিয়মমাফিক হয়নি।
অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেড বগুড়া জোনাল কার্যালয়ের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মো. মাহফুজুর রহমান মিয়া বলেন, কৃষকের ১০ টাকায় খোলা হিসাবগুলোতে লেনদেন না হওয়ায় তার অনেকটাই অচল হিসেবে পরিণত। যা সংরক্ষণ করতে আমাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। হিসাবগুলো ব্যাংকের কাছে এক প্রকার বোঝা।
রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক পল্লী মঙ্গলহাট শাখার ব্যবস্থাপক সামসাদ বলেন, কৃষকরা তাদের ১০ টাকার হিসাবে লেনদেন করতে অনাগ্রহী। তারা এ হিসাবের মাধ্যমে শুধুমাত্র সরকারি ভর্তুকি নিতে আসে। অন্য কোনো লেনদেন করতে আসে না।
রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক বগুড়া দক্ষিণের জোনাল ম্যানেজার মো. আব্দুস সালাম জানান, সবচেয়ে বেশি কৃষকের ১০ টাকায় খোলা হিসাব এ ব্যাংকে রয়েছে। দীর্ঘদিন এসব হিসাবে কৃষকরা লেনদেন না করায় অর্ধেকের বেশি অচল রয়েছে।
