অভিযোগ গঠন :খালেদা ও তারেকের বিচার শুরু

আপডেট : ১৯ মার্চ ২০১৪, ২২:৫৬
জিয়া অরফানেজ ও চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলা ব্যাপক হট্টগোলে বিচারকের দুই দফায় এজলাস ত্যাগ, খাস কামরায় আদেশ খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে এই প্রথম কোন মামলায় অভিযোগ গঠন করা হল কাঠগড়ায় তিন ঘণ্টা ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন অভিযোগ গঠন বাতিলের আবেদন দুটি দুর্নীতির মামলায় অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার শুরু হলো বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার। কোন সরকারের আমলে এই প্রথম বেগম জিয়ার বিরুদ্ধে কোন মামলায় অভিযোগ গঠন হলো। তবে এই অভিযোগ গঠন নিয়ে আদালতে হট্টগোল ও হৈচৈ হয়েছে। বিচারক খাসকামরায় বসে অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন। এই আদেশ যথাযথ হয়নি মর্মে অভিযোগ করেছেন স্বয়ং খালেদা জিয়া। তিনি বলেছেন, ‘আমি তো জানতাম অভিযোগ গঠনের আগে যার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয় তাকে জিজ্ঞাসা করা হয় তিনি দোষী না নির্দোষ। কিন্তু বিচারক তো আমাকে কিছুই জিজ্ঞাসা করলেন না।’ খালেদা জিয়ার আইনজীবী অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া দাবি করেছেন, খাসকামরা থেকে বিচারক যে আদেশ দিয়েছেন তা আইন সম্মত হয়নি। ওই আদেশ বেআইনি এবং তা বাতিল করার জন্য খালেদা জিয়ার পক্ষে তার আইনজীবীরা বিকালে সংশ্লিষ্ট বিচারকের আদালতে আবেদন করেছেন। এর আগে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ বিশেষ আদালত-৩ এর বিচারক বাসুদেব রায় জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলা দুটিতে দণ্ডবিধির ৪০৯/১০৯ ধারায় খালেদা জিয়া, তার বড় ছেলে ও বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। দণ্ডবিধির ৪০৯ ধারায় উল্লেখ রয়েছে, যদি কোন ব্যক্তি সরকারি কর্মচারী হিসেবে তার পদমর্যাদার বলে অথবা ব্যাংকার, ব্যবসায়, দালাল, এটর্নি বা প্রতিনিধি হিসেবে ব্যবসা সূত্রে কোনভাবে কোন সম্পত্তির জিম্মাদার হয়ে বা উক্ত সম্পত্তি পরিচালনার ভারপ্রাপ্ত হয়ে সেই সম্পত্তি সম্পর্কে অপরাধমূলক বিশ্বাস ভঙ্গ করে তবে উক্ত লোক যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে অথবা ১০ বছর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন এবং তদপুরি অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন। এই ধারার অপরাধ আমলযোগ্য, অজামিনযোগ্য এবং মীমাংসাযোগ্য নয়। দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় বলা হয়েছে, দুষ্কর্মে সহায়তা করা হয়েছে, সহায়তার দরুন সেই কার্য সম্পাদন হয়ে থাকলে এবং সেই ক্ষেত্রে দণ্ডদানের কোন স্পষ্ট বিধান না থাকে, তবে অনরূপ সহায়তাকারী যে অপরাধ সংঘটনের সহায়তা করেছেন সেই অপরাধের জন্য যে দণ্ডের বিধান করা হয়েছে অপরাধটি সংঘটনের সহায়তার জন্য তাকে সেই দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে। অর্থাত্ সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন এবং সর্বনিম্ন ১০ বছর কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা যাবে। গতকাল বুধবার ঢাকার বিশেষ জজ-৩ বাসুদেব রায়ের আদালতে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় অভিযোগ গঠনের জন্য দিন ধার্য ছিলো। এ উপলক্ষে আদালত পাড়ায় র্যাব-পুলিশের কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়। খালেদা জিয়া আদালতে আসার আগেই বিএনপির শত শত নেতা-কর্মী মিছিল নিয়ে পুরান ঢাকার আদালত পাড়ায় জড়ো হন। কিন্তু আইনজীবী ও সিনিয়র নেতা ছাড়া পুলিশ কাউকে ভেতরে ঢুকতে দেয়নি। দলীয় নেতা-কর্মীরা তখন আদালতের বাইরে এবং আইনজীবীরা ভেতরে অবস্থান নিয়ে মিছিল করতে থাকেন। দুপুর একটায় খালেদা জিয়া আদালত পাড়ায় আসেন। এ সময় বিএনপির ঢাকা মহানগরের আহবায়ক সাদেক হোসেন খোকা, শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস তার সঙ্গে ছিলেন। আইনজীবীরা খালেদা জিয়াকে সরাসরি সংশ্লিষ্ট আদালত কক্ষে নিয়ে যান। আদালতের কাঠগড়ায় রক্ষিত একটি চেয়ারে আসন নেন বিএনপি চেয়ারপারসন। বেলা সোয়া একটায় বিচারক এজলাসে আসামাত্র অভিযোগ গঠন পেছানোর জন্য আবেদন উপস্থাপন করেন ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, ব্যারিস্টার মাহবুবউদ্দিন খোকন, অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া প্রমুখ আইনজীবী। অ্যাডভোকেট মাসুদ আহমেদ তালুকদার, মহসীন মিয়া, বোরহানউদ্দিন ও মোসলেহউদ্দিন জসীম শুনানিতে অংশ নেন। সময় বাড়ানোর আবেদনে বলা হয়, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলাটি নিয়ে আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল এবং জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলা বাতিলের জন্য আবেদন বিচারাধীন রয়েছে। এটি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগ গঠনের শুনানি মুলতবি রাখার আবেদন জানানো হয়। এ সময় ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া বলেন, যদি অভিযোগ গঠন করা হয় তাহলে উচ্চ আদালতে দাখিলকৃত আমাদের আবেদন অকার্যকর হয়ে পড়বে। আইন হলো, উচ্চ আদালতে মামলার কোনো বিষয়ে যদি শুনানি থাকে তবে নিম্ন আদালত মামলার বিচার কাজ করতে পারবে না। উচ্চ আদালতের প্রতি সম্মান দেখিয়ে শুনানি মুলতবি করা হোক। এ পর্যায়ে দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, আসামি পক্ষ বারবার এই আদালতকে বলে আসছেন, উচ্চ আদালত থেকে তারা আদেশ নিয়ে আসবেন। কিন্তু তারা উচ্চ আদালত থেকে কোনো ধরনের আদেশ আনতে পারেননি। এ অবস্থায় মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানি করতে কোন বাধা নেই। শুনানি গ্রহণ করে বিচারক এ সংক্রান্ত দুটি আবেদনই খারিজ করে দিলে আইনজীবীরা একযোগে প্রতিবাদ জানাতে থাকেন। আইনজীবীদের হৈচৈ ও হট্টগোলের মুখে বিচারক সোয়া একটায় বিচার আসন ত্যাগ করেন। বেলা দেড়টার দিকে বিএনপিপন্থী চারজন আইনজীবী মামলা থেকে খালেদা জিয়ার অব্যাহতি চেয়ে করা আবেদন নিয়ে বিচারকের খাস কামরায় যান। সেখান থেকে বের হয়ে বেলা ২টার দিকে আবারও বিচারকের কাছ যান তারা। এ সময় তারা সকালে সময় চেয়ে করা আবেদনটি খারিজ করে আদালত যে আদেশ দিয়েছেন, তা পুনর্বিবেচনার জন্য আবার সময় চেয়ে আবেদন জানান। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই তারা সেখান থেকে বের হয়ে আদালতের এজলাস কক্ষে গিয়ে খালেদা জিয়াকে জানান, এই আদালতের প্রতি তাঁদের আস্থা নেই। কিছুক্ষণ পর অভিযোগ গঠনের জন্য পুনরায় বিচার আসনে আসেন জজ বাসুদেব রায়। এ সময় দুদক আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল, ঢাকা মহানগর পিপি এডভোকেট আব্দুল্লাহ আবুসহ রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা দুই মামলায় খালেদা জিয়াসহ অপর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আবেদন জানান। তখন এর প্রতিবাদ জানিয়ে খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা বলেন, আমাদের সময় আবেদন নামঞ্জুর করা হয়েছে। এর বিরুদ্ধে আমরা উচ্চ আদালতে যাব। আমাদের আরও আবেদন রয়েছে। প্রথমটি হলো, সময় আবেদন নামঞ্জুরের আদেশ পুনর্বিবেচনার আবেদন এবং মামলার দায় হতে আসামির অব্যাহতির আবেদন। এসব আবেদন নিষ্পত্তি করে আপনি (বিচারক) পরবর্তী কার্যক্রমে যাবেন। এ পর্যায়ে বিচারক বলেন, ‘আজ (বুধবার) অভিযোগ গঠন করা হবে।’ তখন খালেদার আইনজীবীরা বলেন, আগে তো আমাদের আবেদনগুলো শুনানি করে নিষ্পত্তি করতে হবে। যদি তা না করেন তাহলে আমরা আপনার বিরুদ্ধে অনাস্থা পিটিশন দেব। সেই কারণেও আপনি শুনানি মুলতবি করতে পারেন। এ নিয়ে উভয়পক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে হট্টগোল ও হৈচৈয়ের মুখে ৩টা ২০ মিনিটে বিচারক আবার এজলাস ত্যাগ করেন। ৩টা ৫০ মিনিটে আদালতের পেশকার আরিফুর রহমান খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে এবং আগামী ২১ এপ্রিল সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হবে মর্মে আদালতের আদেশ পাঠ করে শোনান। এ সময় (১টা থেকে ৪টা মোট ৩ ঘণ্টা ) খালেদা জিয়া আদালতের কাঠগড়ায় বসেছিলেন। এ পর্যায়ে খালেদা জিয়া তার আইনজীবীদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনারা না বলেছিলেন আমি দোষী না নির্দোষ এ কথা জিজ্ঞেস করে অভিযোগ গঠন করা হবে। কই আমাকে তো কিছুই জিজ্ঞাসা করা হলো না।’ এডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া বলেন, ‘ম্যাডাম, এই আদেশ বেআইনি হয়েছে। তা বাতিলের জন্য আমরা দরখাস্ত দেব।’ খালেদা জিয়া আদালতপাড়া ত্যাগ করার পর তার আইনজীবীরা বিচারকের খাসকামরায় গিয়ে অভিযোগ গঠনের আদেশ বাতিল সংক্রান্ত দুটি আবেদন করেন। তবে গতকাল পর্যন্ত এ ব্যাপারে আদালতের কোন আদেশ জানা যায়নি। বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের ১৯৯৬-২০০০ শাসনামলে বেশ কয়েকটি মামলা হয়েছিলো। বিএনপি ২০০১ সালে ক্ষমতায় আসার পর এসব মামলা প্রত্যাহার করা হয়। কয়েকটি মামলা উচ্চ আদালতে বাতিল হয়। গত সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও আওয়ামী লীগের গত আমলে (২০০৯ থেকে ২০১৩) বেগম জিয়ার বিরুদ্ধে ৫টি মামলা দায়ের হয়। খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলাগুলোর মধ্যে এই প্রথম কোন মামলায় অভিযোগ গঠন হলো। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন হয়েছে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়া ছাড়াও তার সাবেক রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, হারিছের তখনকার সহকারী একান্ত সচিব ও বিআইডব্লিউটিএর নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক জিয়াউল ইসলাম মুন্না এবং ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খানের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছে বিশেষ জজ আদালত-৩। এদের মধ্যে হারিছ চৌধুরী মামলার শুরু থেকেই পলাতক। তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানাও রয়েছে। খালেদা জিয়াসহ বাকি দুই আসামি জামিনে রয়েছেন। এছাড়া খালেদা জিয়াসহ বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মাগুরার সাবেক সংসদ সদস্য কাজী সালিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী এবং প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমানের বিরুদ্ধে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় একই আদালত গতকাল অভিযোগ গঠন করেছে। সালিমুল হক কামাল ও শরফুদ্দিন আছেন জামিনে। বাকি দুজন পলাতক। সংবাদ সম্মেলন আদেশের পর খালেদার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া বলেন, আসামির বিরুদ্ধে কি অভিযোগ তা পড়ে না শুনিয়ে ও তার মন্তব্য জানতে না চেয়ে এ ধরনের আদেশ দেয়া নজীরবিহীন। সরকারের নির্দেশে এই অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন বলেন, সংবিধান ও আইন অমান্য করে খালেদার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করায় এই বিচারকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য প্রধান বিচারপতির কাছে আবেদন করা হবে। আমরা তাকে প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি। অপরদিকে দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, আইন মেনেই বিচারক খালেদাসহ অপর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন। তিনি জানান, খালেদা জিয়া ছাড়াও বিশেষ অন্য ব্যক্তিদের মামলাগুলো এ আদালতে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না। আমরা যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করবো মামলাগুলো যেন ২১ আগস্ট বা বিডিআর বিদ্রোহ মামলাগুলোর মতো বিশেষ ব্যবস্থায় বিশেষভাবে পরিচালনার জন্য অনুমতি দেয়া হয়। নেতাকর্মীদের ব্যাপক শোডাউন খালেদা জিয়ার আগমন উপলক্ষে আদালত প্রাঙ্গণে বিশাল শোডাউন করেছে দলটি। সকাল থেকেই ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন এলাকা থেকে যুবদল, ছাত্রদল, মহিলাদলসহ বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরাও আদালত প্রাঙ্গণে জড়ো হন। তারা দফায় দফায় সরকার বিরোধী স্লোগান দেন। এদিকে খালেদা জিয়াকে স্বাগত জানাতে এসে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন- যুবদলের সুত্রাপুর থানা সভাপতি জাবেদ কামাল রুবেলসহ বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের ৬ নেতাকর্মী। মামলা বৃত্তান্ত জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টে অনিয়মের অভিযোগে দুদক ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় মামলা দায়ের করে। এতিমদের সহায়তার জন্য একটি বিদেশি ব্যাংক থেকে আসা ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয় এ মামলায়। ২০১০ সালের ৫ আগস্ট খালেদা জিয়া, তারেক রহমানসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে এ মামলায় অভিযোগপত্র দেন। ২০১১ সালের ৮ আগস্ট সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াসহ চার জনের বিরুদ্ধে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা দায়ের করে দুদক। তেজগাঁও থানার এ মামলায় ক্ষমতার অপব্যবহার করে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে ৩ কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা আত্মসাত্ করার অভিযোগ আনা হয়েছে। ২০১২ সালের ১৬ জানুয়ারি খালেদা জিয়াসহ চারজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা।