ক্রিমিয়ায় ইউক্রেনের নৌঘাঁটি দখল

আপডেট : ১৯ মার্চ ২০১৪, ২২:৫৮
রাশিয়াপন্থীরা ইউক্রেনের স্বায়ত্বশাসিত উপদ্বীপ ক্রিমিয়ার সেবাস্তপোলে ইউক্রেনের নৌ-ঘাঁটি দখল করেছে। ইউক্রেনের নৌ-বাহিনীর সদর দফতরের ভবনগুলোতে রাশিয়ার পতাকা উড়তেও দেখা গেছে। ক্রিমিয়াকে রাশিয়া ফেডারেশনে অন্তর্ভুক্ত করতে একটি চুক্তির পরদিনই এ ঘটনা ঘটলো। এর আগে রবিবার ক্রিমিয়াতে এক গণভোটে মানুষ রাশিয়ার সংগে সংযুক্তির পক্ষে ভোট দেয় ভোটাররা। কিন্তু কিয়েভ ছাড়াও ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্র বলেছে তারা এ ধরণের পদক্ষেপ মেনে নেবেনা। গত সোমবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন মস্কোর পদক্ষেপের সঙ্গে জড়িত থাকা রাশিয়া ও ইউক্রেনের বেশ কিছু কর্মকর্তার উপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এর আগে ক্রিমিয়া অঞ্চলকে রাশিয়ার অঙ্গীভূত করার পর ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী বলছে, সিমফেরোপোলের তাদের একটি ঘাঁটিতে রুশ সৈন্যদের সাথে এক সংঘর্ষে ইউক্রেনের একজন সৈন্য নিহত এবং আরেক জন আহত হয়েছে। রাশিয়ার হুঁশিয়ারি : এদিকে, ক্রিমিয়া নিয়ে বিরোধের প্রেক্ষিতে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা গ্রহণযোগ্য নয় বলে যুক্তরাষ্ট্রকে হুঁশিয়ার করেছে রাশিয়া। একইসঙ্গে এর পাল্টা ‘পরিণতির’ ব্যাপারেও সতর্কবাণী করেছে দেশটি। রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রী সের্গেই লাভরভ মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরির সঙ্গে এক টেলিফোন আলাপে এ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। রাশিয়া ও ক্রিমিয়ার নেতৃবৃন্দ রুশ ফেডারেশনে ক্রিমিয়ার অন্তর্ভূক্তি সংক্রান্ত একটি চুক্তিতে স্বাক্ষরের কয়েক ঘন্টা পর লাভরভ রাশিয়ার অবস্থান জানিয়ে কেরিকে ফোন করেন। তবে রাশিয়ার বিরুদ্ধে অবরোধ আরোপে সায় নেই বলে জানিয়ে দিয়েছে নয়াদিল্লি। ভারতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে কেবলমাত্র জাতিসংঘের অনুমোদনেই কোনো ব্যবস্থা গৃহিত হলে তার পক্ষে থাকবে দিল্লি। ক্রিমিয়ার অন্তর্ভুক্তি বৈধ :এদিকে, রাশিয়ার সাংবিধানিক আদালত বুধবার সর্বসম্মতভাবে রায় দিয়েছে যে ক্রিমিয়াকে রাশিয়ার অংশ করার লক্ষ্যে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন রাশিয়ার আইনি প্রক্রিয়ায় একটি আবশ্যকীয় ধাপ হিসেবে চুক্তি অনুমোদনে স্বাক্ষর দিয়েছেন। তিনি আইনসম্মতভাবেই এই পদক্ষেপ নিয়েছেন। বার্তা সংস্থা ইন্টারফ্যাক্স সাংবিধানিক আদালতের চেয়ারম্যান ভালেরি জরকিনের উদ্ধৃতি দিয়ে জানায়, ‘সাংবিধানিক আদালত স্বীকৃতি দিচ্ছে যে এ চুক্তি রাশিয়ার সংবিধানের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ।’ এ পদক্ষেপ প্রেসিডেন্ট পুতিনকে চুক্তিটি অনুমোদনের জন্য পার্লামেন্টে প্রেরণের ক্ষমতা দেয়।