নিখোঁজ বিমানটি শেষবার দেখে মালদ্বীপের মানুষ!

আপডেট : ১৯ মার্চ ২০১৪, ২২:৫৮
মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সের বিমানটি নিখোঁজ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে মালদ্বীপ উপকূলে খুব নিচ দিয়ে একটি বিমানকে উড়ে যেতে দেখেছেন বলে দাবি করেছেন স্থানীয় অধিবাসীরা। স্থানীয় অনলাইন সংবাদপত্র হাবেরুর বরাত দিয়ে এনডিটিভি মঙ্গলবার এ খবর জানিয়েছে। মালদ্বীপের কুদা হুবাদোর অধিবাসীরা বলছেন, তারা ৮ মার্চ সকাল ৬টা ১০ মিনিটের দিকে খুব নিচু দিয়ে একটি বিমান উড়ে যেতে দেখেন। তারা বলছেন, সাদা বিমানটির ওপর লাল রঙের ফিতার মতো টানা ছিল। মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সের নিখোঁজ বিমানটিও দেখতে তেমনই। কুদা হুবাদোর বাসিন্দাদের দাবি সত্যি হলে বিমানটি উত্তর থেকে দক্ষিণপূর্বে মালদ্বীপের আদ্দু দ্বীপের দিকে যাচ্ছিল। বিমানটি উড়ে যাওয়ার সময় প্রচণ্ড শব্দ হচ্ছিল বলেও তারা জানিয়েছেন। কুদা হুবাদোর কাউন্সিলর মোহামেদ জাহিম বলেন, স্থানীয়রা ঘটনাটি তাকে জানিয়েছেন। ৮ মার্চ ২৩৯ জন আরোহী নিয়ে নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট এমএইচ৩৭০ এর আর কোনো খবর পাওয়া যায়নি। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনসহ এক জন দেশ গত ১১ দিন ধরে বিমানটির খোঁজে তল্লাশি চালালেও এখন পর্যন্ত কোনো হদিস মেলেনি। রহস্য ঘনীভূত : এদিকে, মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্স-এর নিখোঁজ ফ্লাইট এমএইচ৩৭০ ঘিরে রহস্য আরো ঘনীভূত হয়েছে। স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজ হবার পর আরো কয়েক ঘণ্টা ধরে বিমানটি আকাশে উড়েছিল। মালয়েশিয়ার উত্তরে এবং দক্ষিণে বিশাল এলাকা জুড়ে বিমানটি খুঁজে পাবার জন্য ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে। স্যাটেলাইটে বিমানের অবস্থান নির্ধারণকারী ‘পিং’ বা সিগনাল ধারনা দেয়, যে বিমানটি উত্তরে মধ্য এশিয়া থেকে দক্ষিণে ভারত মহাসাগর এবং অস্ট্রেলিয়ার বৃত্তের পরিধির কোথাও আছে। মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্স বলছে, বিমানটি উড্ডয়নের এক ঘণ্টারও কম সময় পরে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বিমান থেকে কোন বিপদ সংকেত পাঠানো হয়নি। বিমানের নির্ধারিত যাত্রাপথ অনুযায়ী, ফ্লাইট এমএইচ৩৭০র উত্তর-পূর্ব দিকে যাবার কথা ছিল, ভিয়েতনাম এবং কম্বোডিয়ার উপর দিয়ে। বিমানটির অনুসন্ধান প্রাথমিক পর্যায়ে চালানো হয় দক্ষিণ চীন সাগরে, ভিয়েতনামের সা মাউ উপদ্বীপের দক্ষিণে। তবে সামরিক রাডার থেকে পাওয়া আলামত থেকে ধারনা করা হয়, যে বিমানটি হঠাত্ তার উত্তরমুখী গতিপথ পরিবর্তন করে পশ্চিমে যাত্রা শুরু করে। এরপর অনুসন্ধান কার্যক্রমে নিয়োজিত বিমান এবং নৌযানগুলো মালয়েশিয়ার পশ্চিম দিকের সাগরে মনোযোগ দেয়। চারিদিকে এখন একপি প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে, একটি আধুনিক বিমান কি এভাবে উধাও হয়ে যেতে পারে? এই যুগে দিনের পর দিন একটি বিমান নিখোঁজ থাকা এবং কোন ধ্বংসাবশেষ না পাওয়া একটি নজিরবিহীন ঘটনা। এদিকে, নিখোঁজ বিমানের চালকের হোম ফ্লাইট সিমুলেটর থেকে গত মাসেই ডিলিট করা হয়েছিল প্রোগ্রামের সকল ফাইল। এখন সেই ফাইলই উদ্ধারের চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা। গতকাল বুধবার একথা জানান মালয়েশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী। সেই ফাইলটি বিমান নিখোঁজের তদন্তে কিছুটা আলোকপাত করতে পারে বলে ধারণা মালয়েশিয়া সরকারের। একটি সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেন, যতক্ষণ বিমানচালকের ভুল কাজে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে না, ততক্ষণ তাকে নির্দোষ মনে করা হবে। সংবাদ সম্মেলনে নিখোঁজ বিমানের যাত্রীদের স্বজনরা এসে হাজির হন। তারা প্রকৃত ঘটনা জানার জন্য বিক্ষোভ শুরু করেন। ফলে পুলিশ দিয়ে তাদের জোর করে বের করে দেয়া হয়। তাদের কান্নাকাটিতে সেখানে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।