চলতি জাতীয় সংসদ, ৫ জানুয়ারির নির্বাচন ও বর্তমান বিরোধী দল সম্পর্কে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)- এর সোমবারের বক্তব্য নিয়ে গতকাল বুধবার সংসদে তীব্র সমালোচনা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে সরকারি ও বিরোধী দল। আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম পয়েন্ট অব অর্ডারে বলেছেন, টিআইবি ও খালেদা জিয়ার বক্তব্যের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। কারণ নির্বাচনে হেরে গিয়ে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়াও এরকম কথা বলেছিলেন। টিআইবি ও ‘কথিত’ সুশীল সমাজের অর্থের উত্স ও সেটির ব্যয় তদন্ত করে সংসদে একটি প্রতিবেদন দেয়ার জন্য তিনি অর্থমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান। একইসঙ্গে এ ব্যাপারে সংসদের স্পিকারের রুলও দাবি করেন তিনি।
এসময় সংসদে সভাপতিত্বকারী ডেপুটি স্পিকার এডভোকেট ফজলে রাব্বি মিয়া বলেছেন, টিআইবির ওই বক্তব্য সংসদ ও জাতির জন্য দুর্ভাগ্যজনক। এই সংসদেরই দায়িত্ব সংসদের মর্যাদা সমুন্নত রাখা এবং এই সংসদ তা সমুন্নত রাখবে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রশ্নোত্তর শেষে পয়েন্ট অব অর্ডারে ফ্লোর নিয়ে শেখ ফজলুল করিম সেলিম বলেন, টিআইবি বলেছে এই সংসদ ক্ষণস্থায়ী। কিন্তু সংবিধান অনুযায়ী এ সরকার ও সংসদ পাঁচ বছরের জন্য নির্বাচিত। কাদের খুশি করার জন্য টিআইবি এই আজগুবি কথা বলেছে। টিআইবি বললো, এই সংসদে নাকি কোনো বিরোধী দল নেই। চোখ থাকতেও তারা অন্ধ। এসময় সংসদে উপস্থিত থাকা বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদকে দেখিয়ে তিনি বলেন, এই যে বিরোধী দলীয় নেতা এখানে বসে আছেন। টিআইবি বলেছে, আরেকটি নির্বাচন দিতে হবে। কিসের জন্য, কাদের জন্য আরেকটি নির্বাচন? যে নির্বাচন প্রতিহত করার জন্য বিএনপি-জামায়াত সন্ত্রাস, নাশকতা ও জঙ্গি কর্মকাণ্ড করেছে, সারাদেশে অরাজকতার মাধ্যমে দেশকে একটি অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত করতে চেয়েছিল, তাদের জন্যই কি টিআইবি আরেকটি নির্বাচন চায়? এভাবে কথা বলে টিআইবি নিজেদের সীমা লঙ্ঘন করেছে।
তিনি বলেন, টিআইবি একটি এনজিও। দুর্নীতির বিষয়ে মানুষ যেন সচেতন থাকে, সে বিষয়ে কাজ করার কথা তাদের। কিন্তু রাজনীতি, সংসদ ও বিরোধী দল নিয়ে বক্তব্য দেয়া তাদের কাজ নয়। তাদের যদি রাজনীতি করার এতোই খায়েস থাকে, তাহলে তাদেরকে বলবো ওখানে (বিএনপির সঙ্গে) ১৯ দল আছে, আপনারা গিয়ে ২০ দল করতে পারেন। বিরোধী দলীয় নেতা থাকতে গত সংসদে খালেদা জিয়া যখন মাত্র ১০ দিন সংসদে এসেছিলেন, তখন তাদের চোখে পড়েনি? যে বিরোধী দল সংসদে আসে না, সেই ধরনের বিরোধী দলের কী দরকার। এখন সংবিধান অনুযায়ী সংসদের কার্যক্রম চলছে, বর্তমান বিরোধী দলীয় নেতা প্রায় প্রতিদিনই সংসদে আসছেন।
তিনি বলেন, টিআইবি সংসদ, রাজনীতি সব বিষয়ে আমাদের উপদেশ দেয়। উপদেশ দেয়ার তারা কারা? বিগত সংসদের এমপি-মন্ত্রীদের নিয়েও এই টিআইবি একটি প্রতিবেদন দিয়েছিল। তখনও আমরা সংসদে এর প্রতিবাদ করেছি। তখনকার স্পিকার (আবদুল হামিদ) বলেছিলেন, এ ব্যাপারে তিনি একটি রুলিং দেবেন। পরে রাষ্ট্রপতি হয়ে যাওয়ায় তিনি আর সেই রুলিং দিতে পারেননি। আজ আমরা সেই রুলিং দাবি করছি।
