প্রাণী জগত্ আমাদের কাছে বরাবরই বিস্ময়কর। প্রায় প্রতিদিনই আমরা নতুন কিছু জানছি এ জগত্ সম্পর্কে। রহস্যময় এ জগত্ সম্পর্কে যেন জানার কোনো শেষ নেই। যদিও সৃষ্টির সবচেয়ে উঁচু স্থানে রয়েছে মানুষ। এটা মূলত তাদের জ্ঞান-বুদ্ধি এবং শারীরিক গঠনের কারণে। তবে শারীরিক ক্ষমতার দিক দিয়ে মানুষ অনেক ক্ষেত্রেই প্রাণীদের থেকে পিছিয়ে রয়েছে। প্রায় প্রতিটি প্রাণীর কিছু বিশেষ ক্ষমতা রয়েছে এবং এর মধ্যে কিছু কিছু খুবই বিস্ময়কর। এরকম কিছু প্রাণী আর তাদের অসাধারণ কিছু বৈশিষ্ট্য নিয়ে আজকের ফিচারটি লিখেছেন প্রাঞ্জল সেলিম
হাঙ্গর
প্রাকৃতিকভাবেই এক দক্ষ শিকারি এই হাঙ্গর। এর মস্তিষ্কে বিশেষ কিছু কোষ রয়েছে, যা অন্য প্রাণীদের শরীর থেকে তৈরি হওয়া ইলেক্ট্রিক ফিল্ড শনাক্ত করতে পারে। তাই সমুদ্রের তলদেশে বালির নিচে লুকিয়ে থাকা ছোট একটি মাছও হাঙ্গরের কাছ থেকে লুকিয়ে থাকতে পারে না। এমনকি পানিতে এক ফোটা রক্ত এরা শনাক্ত করতে পারে কয়েক মাইল দূর থেকে। তাই পানির নিচে কখনও হাঙ্গর দেখলে পাথর বা লতা-পাতার আড়ালে লুকানোর চেষ্টা করাটা সম্পূর্ণ বৃথা প্রমাণিত হয়েছে। সাধারণত এদের এড়িয়ে চলাই উত্তম।
অক্টোপাস
অক্টোপাস বরাবরই মানুষের কাছে একটি রহস্যময় প্রাণী। আমরা যদিও জানি এদের ৮টি পা রয়েছে, তবে এগুলো আসলে বাহু। আত্মরক্ষার খাতিরে এরা শরীরের রং বদল করে ফেলতে পারে। পালিয়ে যাওয়ার সময় দেহ থেকে এক ধরনের কালি ছুঁড়ে মারে যা পানিকে অন্ধকার করে দেয়। এককথায় বলতে গেলে, শক্রকে লক্ষচ্যুত করে দেওয়ার এক ক্ষমতা। মজার তথ্য হলো, এদের দেহে রয়েছে ৩টি হূদপিণ্ড। অক্টোপাসের একটি প্রজাতি হলো, ‘ব্লু রিংড’। এই অক্টোপাসের দেহে রয়েছে মারাত্মক বিষ যার সংস্পর্শে মানুষের মৃত্যু ঘটা সম্ভব খুবই দ্রুত।
বাদুড়
প্রাণী জগতের এক বিস্ময়কর সৃষ্টি বাদুড়। এরা কিন্তু পাখির প্রজাতিতে পড়ে না। কারণ এদের দেহ লোম দিয়ে দিয়ে ঢাকা, পালক নয়। তাছাড়া এরা নিশাচর প্রাণী। বাদুড়ের চোখ থাকলেও দেখার ক্ষমতা খুবই সীমিত। রাতের বেলা চলাচলের সময় এরা শব্দের প্রতিধ্বনি ব্যবহার করে। উড়ার সময় এরা আল্ট্রাসনিক শব্দ তৈরি করে।
এরপর এই শব্দের প্রতিধ্বনি শুনে সামনে থাকা বস্তু সম্পর্কে ধারনা লাভ করে এবং পথের নির্দেশনা পায়। তবে অনেক সময় বাদুড় বিদ্যুতের তারে ধাক্কা খায়। কারণ সূক্ষ্ম তারে শব্দ ঠিকমতো প্রতিধ্বনিত হয় না। আর বলাই বাহুল্য, আল্ট্রাসনিক শব্দ শোনার ক্ষমতা মানুষের নেই।
বোয়া
সাপ নিঃসন্দেহে পৃথিবীর সবচেয়ে ভয়ঙ্কর প্রাণীগুলোর মধ্যে একটি। এদের বিষ, নিঃশব্দ ও সূক্ষ্ম চলাফেরাই এর কারণে এদের ভয়ংকর বলা হয়। বোয়া নামের সাপটি অন্যান্য সাপ থেকে ভিন্ন হওয়ার কারণ হলো একদম অন্ধকারে না দেখেও এর শিকার করার ক্ষমতা রয়েছে। এদের চোখের কাছাকাছি রয়েছে এক ধরনের অর্গান যেটি অন্য কোনো প্রাণীর দেহের তাপমাত্রার উপর ভিত্তি করে তাদের সঠিক অবস্থান নির্ণয় করতে পারে। আর তাই পুরোপুরি অন্ধকারেও এরা শিকারকে খুঁজে বের করতে পারে সহজেই।
হামিংবার্ড
পাখিদের মধ্যে সবচেয়ে ছোট হলেও বিশেষ ক্ষমতার দিক দিয়ে কিন্তু হামিংবার্ড কোনোভাবেই পিছিয়ে নেই। বিশেষ বৈশিষ্ট্য বলতে এরা প্রতি সেকেন্ডে ১৫ থেকে ৮০ বারের মতো পাখা নাড়তে পারে। আর এর ফলে এরা বাতাসে ভেসে থাকতে পারে ঠিক হেলিকপ্টারের মতো করে। একটি ভিন্ন ও বিশেষ ক্ষমতা হলো এরা পিছন দিকে উড়তে পারে, যেটি আর কোনো পাখি পারে না।
বিড়াল
বিড়াল একটি ঘরোয়া প্রাণী বলে এর সম্পর্কে সবারই কমবেশি জানা আছে। অসাধারণ চোখের ক্ষমতা সম্পন্ন কিছু প্রাণীর মধ্যে বিড়াল একটি। পুরোপুরি অন্ধকারেও এরা একদম পরিষ্কার দেখতে পায়। আর তাই ঘরের ভিতর ছুটে বেড়ানো ছোট ছোট ইঁদুরগুলো রাতের বেলা ধরতে এদের কোনো সমস্যা হয় না। তাদের আদুরে স্বভাবের কারণে আরও বেশি পরিচিত আমাদের কাছে।
কুমির
কুমির তাদের চোয়ালের শক্তির কারণে বিখ্যাত। এদের দুই চোয়ালের মাঝের চাপ ক্ষেত্র বিশেষে এক টন পর্যন্ত হতে পারে। তাছাড়া এরা ইচ্ছা করে কিছু পাথর গিলে থাকে যেগুলো এদের পেটে সবসময় অবস্থান করে। এসব পাথর কুমিরদের শারীরিক ভারসাম্য রক্ষা এবং খাবার হজমে সহায়তা করে। আর বলাই বাহুল্য, এদের খাদ্য তালিকা থেকে মাছ, হরিণ, জেব্রা, জিরাফ, বন্য গরু এমনকি ছোট কুমিরও বাদ যায় না!
ডলফিন
পৃথিবীতে ১৭টি গ্রুপে প্রায় ৪০টি প্রজাতির ডলফিন রয়েছে। ধারণা করা হয় দশ মিলিয়ন বছর আগে মায়োসিন যুগে ডলফিনের উদ্ভব। ডলফিনকে সবচেয়ে বুদ্ধিমান প্রাণীদের কাতারে ধরা হয়। বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ এবং খেলোয়াড়সুলভ মানসিকতা মানবসমাজের কাছে ডলফিনকে খুবই জনপ্রিয় করে তুলেছে।
