টি-টোয়েন্টি হইহই

আপডেট : ২১ মার্চ ২০১৪, ১৯:১৬
টি-টোয়েন্টি জোয়ারে ভাসছে তারুণ্য। পথে-ঘাটে, রাস্তায়, দোকানপাট, ক্যাম্পাস, চায়ের টেবিল এবং নগর পরিবহনে একই আলোচনা। বিভিন্ন দলের খুঁটিনাটি নিয়ে আলোচনা করছেন ক্রিকেটপ্রেমী তারুণ্য। একটাই উচ্ছ্বাস—দেশের মাটিতে ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত ঘরানার বিশাল যজ্ঞ। এ নিয়ে তারুণ্যের নানা উন্মাদনা নিয়ে আমাদের এবারের আয়োজনে লিখছেন রিয়াদ খন্দকার ও ছবি তুলেছেন দীপঙ্কর দীপু জনাকীর্ণ রাজপথ। হঠাত্ কোথা থেকে দৌড়ে এল একদল ছেলেমেয়ে। বিস্ময়ের প্রথম ঘোর কাটাতে থেমে যেতে হলো পথচারীদের। রাস্তার গাড়ি আটকে শুরু হলো তরুণদের নাচ। এমন সময় হঠাত্ বেজে উঠল, ‘চার ছক্কা হইহই, বল গড়াইয়া গেল কই।’ এই গানের তালে তালে শুরু হলো তরুণ-তরুণীদের দৃষ্টিনন্দন নাচ। কারও বুঝতে বাকি থাকল না এটি টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট বিশ্বকাপ উপলক্ষে কোনো আয়োজন। উচ্ছ্বাস আর আনন্দ তাই ছড়িয়ে যায় উপস্থিত জনতার মধ্যেও। ‘ধিং ধিতাং ধিং ধিং! চার-ছক্কা হই হই, বল গড়াইয়া গেল কই!’ তাদের উল্লাসে শরিক দর্শকরাও। ক্রিকেট নামের উন্মাদনা, উত্তেজনা আর উল্লাসের জ্বরে ভুগছে তারুণ্য। তারই নজির টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট বিশ্বকাপ নিয়ে তরুণদের আয়োজিত ফ্লাশ মবগুলো। এদের কেউ কেউ হয়তো জীবনে কোনো স্টেজে পারফর্ম করা দূরে থাক, গানের তালে তালে ঠিকমতো দুইটা পাও ফেলেনি। কিন্তু বাংলাদেশ ক্রিকেট টিম আর ক্রিকেটের প্রতি ভালোবাসা ও উচ্ছ্বাস বলে কথা। তাদের কাছে নাচের কোনো ব্যাকরণ মুখ্য হয়নি। কিংবা তার অন্যান্য বন্ধুরা যখন ক্রমান্বয়ে ডিগবাজি দিয়েই চলেছে, তখন তাদের মনে কেবলই আনন্দের উচ্ছ্বাস। হঠাত্ দৌড়ে এসে কিস্তিমাত করা—এটাই তারুণ্যের ধর্ম। টি-টোয়েন্টি যতটা না ক্রিকেট তার চেয়ে বেশি বিনোদন। আর বিশ্বকাপ হলে তো কথাই নেই। সেখানে মাস্তি ভরা ক্রিকেটের বৃষ্টিতে ভেজার উপচেপড়া আনন্দ থাকে। অনিশ্চয়তার অরণ্যে হারানোর রোমাঞ্চ থাকে। মারদাঙ্গা ব্যাটিং, নিখুঁত ইয়র্কার, গ্যালারি ভরা দর্শক, ক্ষণে ক্ষণে রং বদলানো টি-টোয়েন্টির শিহরণ। ৬ এপ্রিল পর্যন্ত পুরো ক্রিকেটবিশ্বের সাথে তারুণ্যও বুঁদ হয়ে থাকবে ‘ছোট’ ফরম্যাটের মহো?সবে। সবার দৃষ্টি কেড়ে নেবে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট। যেখানে ২২ দিন ধরে ১৬টি দেশ (২৬ দল) ৬১টি ম্যাচে যুঝবে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের জন্য। গ্যালারিতে তিল ধারণের ঠাঁই হবে না, সেটা বিলক্ষণ জানেন সবাই। এই গ্রহের ১৮০ কোটি দর্শক টিভিতে খেলা দেখবে। মানে, বিশ্বে প্রতি চারজনের মধ্যে একজন। যারা উন্মুখ থাকবে অনিশ্চয়তার ভেলায় ভাসতে। কেননা এখানে অঘটন অলক্ষ্যে পাশে এসে দাঁড়ায়। নিমেষে হাসি হয়ে যায় কান্না। এদিকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে তারার হাট বসবে এটাই স্বাভাবিক। সাবেক নক্ষত্রদেরও মিলনমেলা হতে চলেছে এই আসরে। শেন ওয়ার্ন থেকে শুরু করে শন পোলক, ওয়াসিম আকরাম থেকে শুরু করে নাসের হুসেইন, সৌরভ গাঙ্গুলী, সঞ্জয় মাঞ্জরেকার, রবি শাস্ত্রী এবং রমিজ রাজা ব্যাট-বলের উত্তেজনার পুঙ্খানুপুঙ্খ ক্রিকেটবিশ্বে ছড়িয়ে দেবেন ধারাভাষ্যের মাধ্যমে। আর তাই তো স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটির সাংবাদিকতা বিভাগের ছাত্র নভেম অপু বলছিলেন, ‘ভিনদেশি তারকাদের দেখার ইচ্ছে থাকলেও, এই বিশ্বকাপে নিজের দেশকেই সবটুকু সমর্থন দেবো। বাংলাদেশ দলের যেকোনো ম্যাচ জেতার সামর্থ আছে বলে আমি বিশ্বাস করি।’ মিরপুর থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। সেখানকার তারুণ্যের মধ্যেও এই বিশ্বকাপ নিয়ে বেশ আলোচনা। তাদের একজন শিহাব। বাংলাদেশ দলের কাছে তার অনেক প্রত্যাশা। তিনি বলেন, ‘কিছুদিন আগে তারা অনেকগুলো দলের কাছে হেরেছে, তবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে ঠিকই! টি-টোয়েন্টি ম্যাচগুলো জিতে তারা আমাদের আবার স্বপ্ন দেখাচ্ছে।’ এরকম নানা মতামত এখন বাতাসে। সব মিলিয়ে এই ক’টা দিন ক্রিকেটেই হবে তারুণ্যের আহার-বিহার, ধ্যান-জ্ঞান। আর এই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে ঘিরে গোটা দেশ সেজেছে বিয়ে বাড়ির রঙিন সাজে। নতুন সাজসজ্জায় রাজধানী এখন উত্সবের নগরী। বিমানবন্দর থেকে শাহবাগ, রূপসী বাংলা হোটেল এবং বিজয় সরণি থেকে মিরপুর স্টেডিয়াম পর্যন্ত সড়কের দুইপাশে ঝলমলে আলোয় সাজানো হয়েছে। সে কারণে রাতের সৌন্দর্য নগরবাসীর কাছে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। সড়কের মাঝে আলোকমালায় তুলে ধরা হয়েছে বাংলার ঐতিহ্য। ক্রিকেটের উত্সব শুধু রাজধানীতেই নয়, সারাদেশেই এর প্রতিফলন ঘটেছে। ক্রিকেটভক্ত তরুণরা গণমাধ্যমে চোখ রাখছেন ক্রিকেটের সর্বশেষ খবর জানতে। এক যুগ আগের কথা। ২০০১-এ ইংলিশ ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি)-এর সভায় নতুন ধারার এক ক্রিকেটের ভাবনা প্রকাশ করেন স্টুয়ার্ট রবার্টসন। সংক্ষিপ্ততম ঘরানার টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট খেলার প্রস্তাবনা ছিল রবার্টসনের। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল আইসিসি’র পূর্ণ সদস্য পদ পেয়েছিল বাংলাদেশ এর মাত্র আগের বছর। মাঠে খেলোয়াড়দের নৈপুণ্য ও মাঠের বাইরে ভক্ত-দর্শকদের ক্রিকেট উন্মাদনা নিয়ে মাত্র ১২ বছরের ব্যবধানে সেই বাংলাদেশেই এককভাবে আয়োজন হয়েছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। মর্যাদার এই ক্রিকেট যজ্ঞের পঞ্চম আসরের পর্দা উঠেছে আমাদের দেশে। এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে মাঠে ব্যাটবলের লড়াইয়ে নামবে বিশ্বের ভিন্ন ভিন্ন প্রান্তের ১৬টি দেশ। এশিয়ার ৮, ইউরোপের ৩, আফ্রিকার ২, অস্ট্রেলিয়ার ২ ও ক্যারিবীয় ১ দেশের অংশগ্রহণে এবারের যজ্ঞকে ‘পূর্ণাঙ্গ বৈশ্বিক আসর’-এর মর্যাদা দিচ্ছেন ক্রিকেট বিশ্লেষকরা। ক্রিকেটপ্রেমী হিসেবে এদেশের তরুণদের সুখ্যাতি সারাবিশ্বেই রয়েছে। প্রখ্যাত ক্রিকেট লেখক ম্যাথিউ অ্যাঞ্জেল ক্রিকেটের বাইবেলখ্যাত উইজডেন সাময়িকীতে লিখেছিলেন, বাংলাদেশ জাতীয় দল যখন মাঠে সুযোগ পাবে, দেশটির ক্রিকেটপাগল দর্শকদের গর্জনটা আরও জোরালো হবে নিশ্চিত।’ আর সেকারণে মাঠে বাংলাদেশ দল যেমন অকুণ্ঠ সমর্থন পাচ্ছে, তেমনি অন্য যেকোনো দলের খেলার সময়ও মাঠে দেখা যাবে এখানকার তারুণ্যের জোয়ার। মডেল অধরা মেকআপ হেয়ারোবিক্স ব্রাইডাল পোশাক অঞ্জন’স