কসবা বিআরডিবি’র প্রায় ৫ কোটি টাকার সম্পত্তি অবৈধভাবে দখলে নেয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে স্থানীয় ভূমি দস্যুরা। ব্রাহ্মণবাড়িয়া যুগ্ম জেলা জজ দ্বিতীয় আদালতে মামলা দায়ের করে উচ্চ আদালতে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার পরও উচ্ছেদ অভিযানে ভেঙ্গে ফেলা ঘরগুলো রাতের আঁধারে পুনরায় উত্তোলনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভূমি দখলমুক্ত করতে প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছেন সমবায়ীরা।
সংশ্লিষ্ট অফিস সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন কসবা উপজেলা কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতি লিঃ ১৯৬৫ সালের ২৭ নভেম্বর সরকারি অর্থায়নে দলিল নং- ৫০৩৮ মূলে এস.এ ৭৬৯/৬৮৫ নং খতিয়ানভুক্ত যোগেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর নিকট থেকে ১৩৩৯ দাগে .৩৪ শতক বাড়ি এবং ১৩৪১ দাগে .০৪ শতক পুকুর মোট .৩৮ শতক ভূমি ক্রয় করে যথারীতি খাজনা পরিশোধ করণসহ সম্পূর্ণ ভূমি বিআরডিবি’র নামে নামজারী করা হয়েছে।
জনৈক মনির আহাম্মদ, পিতা- মৃত: আবদুল হামিদ, সাং- কসবা কর্তৃক ২০০০ সালের ১৮ জানুয়ারি উক্ত ভূমির সীমানার মধ্যে অবৈধভাবে নির্মাণ কাজ শুরু করলে বিআরডিবি’র অফিস থেকে স্মারক নং ২৬০ (৫) মূলে নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখার জন্য বলা হয়। পত্রটি তিনি গ্রহণ করেও জোরপূর্বক নির্মাণ কাজ করেছেন।
অপরদিকে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) কর্তৃক উচ্ছেদ মামলার রায় মোতাবেক উচ্ছেদ অভিযান চলাকালে অবৈধভাবে দখল করে রাখা কয়েকটি ঘর ভেঙ্গে ফেলা হয়। তাত্ক্ষণিকভাবে জানে আলম গংরা উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনাকারীর নিকট পরবর্তী ৩ দিনের মধ্যে সমস্ত ঘর-বাড়ি ভেঙ্গে সরিয়ে নেয়ার আশ্বাস দিয়ে ওই দিনই ব্রাহ্মণবাড়িয়া যুগ্ম জেলা জজ দ্বিতীয় আদালতে একটি মামলা দায়ের করে। মামলা নং- ৪২/০৮। এদিকে যুগ্ম জেলা জজ আদালতে স্থিতি অবস্থা বজায় রাখার রায় না পেয়ে জানে আলম গংরা মহামান্য হাইকোর্টে একটি রীট পিটিশন মামলা দায়ের করে। মামলা নং ২০৫/০৯। উচ্চ আদালত স্থিতাবস্থা বজায় রাখার সিদ্ধান্ত প্রদান করলেও জনৈক জানে আলম গংরা আদালতের আইন অমান্য করে রাতের আঁধারে ভেঙ্গে ফেলা ঘরগুলো পুনরায় উত্তোলন করেছেন।
তাছাড়া মনির আহাম্মদ ও হাসিনা বেগমের নামে মাঠ পর্চায় ১৩৩৯ দাগে .১৬ শতক ভূমি অবৈধভাবে রেকর্ড করা হয়। উক্ত মাঠ পরচা সংশোধন করে সমুদয় ভূমি বিআরডিবি’র নামে রেকর্ডভুক্ত করার ব্যাপারে মহাপরিচালক, ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তর, তেজগাঁও, ঢাকা’র বরাবরে আবেদন করা হলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জোনাল সেটেলমেন্ট অফিস কুমিল্লাকে নির্দেশনা দেয়া হয়। সে মোতাবেক কার্যক্রম পরিচালনা কালে জনৈক জানে আলম গং বাদি হয়ে মহামান্য হাইকোর্টে মাঠ পরচা সংশোধন কার্যক্রম বন্ধ রাখার জন্যে একটি রীট পিটিশন মামলা দায়ের করে। এ ব্যাপারে উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা বেগম বুলবুল নাহার জানান, অবৈধ ভূমি দখলমুক্ত করতে আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে উপ-পরিচালক, বিআরডিবি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া মোরশেদ আলমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, কসবা বিআরডিবি’র উক্ত সম্পত্তির দলিলপত্রাদি সঠিক আছে। তিনি বলেন, ভূমি দস্যুদের কবল থেকে সমবায়ীদের সম্পত্তি উদ্ধারে প্রয়োজনীয় আইনগত সহায়তা পাওয়ার জন্য সহযোগিতা করবেন। তিনি এ ব্যাপারে কসবা ইউসিসিএ’র কার্যকরি কমিটি ও সমবায়ীদের ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। জানা যায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া যুগ্ম জেলা জজ দ্বিতীয় আদালতে বিআরডিবি’র পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করছেন এডভোকেট মো: আবদুল মালেক।
