বাংলাদেশের পশ্চিম সীমান্ত পথ দিয়ে ভারতে সোনা চোরাচালান বেড়েছে। ভারত থেকে পাচারকৃত গরুর মূল্য সোনার মাধ্যমে পরিশোধ করা হচ্ছে বলে খবর পাওয়া গেছে। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও ভারতের সীমান্ত রক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) মাঝেমধ্যে সোনার কিছু চালান ধরলেও চোরাচালান বন্ধ হচ্ছে না। যে পরিমাণ সোনা ধরা পড়ছে তার চেয়ে বেশি সোনা পাচার হচ্ছে বলে জানা গেছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, বেনাপোল বন্দর ও আশপাশ দিয়ে সোনা পাচার হচ্ছে বেশি। সীমান্তের ওপারের একটি সূত্র জানায়, সমপ্রতি ভারতের পেট্রাপোলের গোপাল হালদার নামে এক ফড়োয়ার্ডিং এজেন্টের কাছ থেকে ৪৬ লাখ রুপি মূল্যের ১৩টি সোনার বার উদ্ধার করেছে বিএসএফ। জুতার ভিতর লুকিয়ে সোনার বারগুলো বাংলাদেশ থেকে ভারতে পাচার হচ্ছিল। এর আগে ২৫ জানুয়ারি কাদের শাহজী নামে এক ভারতীয় নাগরিকের কাছ থেকে ৬৭ লাখ রুপি মূল্যের ২০টি সোনার বার উদ্ধার করে ভারতীয় পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে কাদের শাহজী জানান, বেনাপোলের এক ব্যক্তি তাকে ভারতে পাচারের জন্য ব্যাগভর্তি সোনার বারগুলো দেয়। ৮শ’ রুপির বিনিময়ে তিনি বারগুলো পাচার করছিলেন।
পেট্রাপোলে এক মাসের মধ্যে সোনা পাচারের আটটি ঘটনা ধরা পড়েছে। এর আগে ভারতের কালিয়ানী সীমান্ত থেকে বিএসএফ এক ছেলেকে আটক করে। তার সাইকেলের টিউবের ভিতর থেকে ২০টি সোনার বার পাওয়া যায়।
গত ৮ মার্চ ভারতের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার স্বরূপনগর থানার সীমান্ত এলাকা থেকে প্রায় ৪৫ কেজি সোনার চালান কলকাতা নিয়ে যাওয়ার সময় বারিক বিশ্বাস নামে এক ভিআইপি সোনা চোরাকারবারী ধরা পড়ে। এ সোনার মূল্য ১৩ কোটি রুপি। সমপ্রতি দর্শনা সীমান্তের বিপরীতে নদীয়া জেলার কৃষ্ণগঞ্জ থানার সীমান্ত থেকে ১০টি সোনার বার উদ্ধার করে বিএসএফ। একটি প্যাকেটের ভেতরে সোনার বারগুলো ভরে চোরাকারবারীরা কাঁটাতারের বেড়ার ওপারে ছুঁড়ে দিয়েছিল। ভারতীয় মিডিয়াতে খবর প্রকাশিত হয়েছে স্বরূপনগর থানার সীমান্ত এলাকা থেকে ২০ কোটি রুপি ও বনগাঁ থানার সীমান্ত এলাকা থেকে ১৫ কোটি রুপি মূল্যের সোনা উদ্ধার করেছে পুলিশ, বিএসএফ ও কাস্টমস। এসব সোনা বাংলাদেশ থেকে ভারতে পাচার করা হয়েছিল।
ভারতের পেট্রাপোল, কালীয়ানী, জয়ন্তিপুর, হরিদাসপুর ও স্বরূপনগর সীমান্তে বাংলাদেশ থেকে সোনা পাচারের প্রধান রুট। বিভিন্ন সময় আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা গেছে, গরু পাচারের সাথে জড়িতরা এবং শিশু ও মহিলারাও সোনা পাচারের সঙ্গে যুক্ত।
একটি সোনার বার ঢাকা থেকে ভারতের পেট্রাপোলে পৌঁছে দিলে বহনকারী দু’ হাজার রুপি করে পেয়ে থাকে। বেনাপোলের নো-ম্যানস ল্যান্ডেও সোনার হাত বদল হয়ে থাকে বলে সীমান্তের ওপারের একটি সূত্র জানিয়েছে। ওই সূত্র আরো জানায়, ভারতে সোনার আমদানি শুল্ক বেড়ে যাওয়ায় বাংলাদেশ থেকে সোনা পাচার বাড়ছে।
ঢাকা থেকে সোনার চালান বাস বা অন্যান্য পরিবহনে সীমান্ত এলাকায় পৌঁছায়। তারপর ওপারে পাচার করা হয়। সোনা পাচারের সাথে শক্তিশালী একটি সিন্ডিকেট জড়িত বলে জানা যায়।
ভারতীয় মিডিয়াতে প্রকাশিত খবরে বলা হয়, গরু পাচারকারীরা গরুর মূল্য বাবদ টাকার বদলে সোনা নিচ্ছে।
বিজিবি’র যশোর রিজিয়ন অফিসের এক কর্মকর্তা জানান, ২০১৩ সালে এবং চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত পশ্চিম সীমান্ত থেকে তারা সাড়ে ৫ কেজি সোনার বার উদ্ধার করেছে। কয়েকদিন আগেও বিজিবি যশোরের শার্শা উপজেলার পুটখালী সীমান্ত থেকে দেড় কেজি সোনাসহ এক চোরাকারবারীকে গ্রেফতার করেছে।
