স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, নৈরাজ্য সৃষ্টির জন্য জঙ্গি ও সন্ত্রাসীদের মাঠে নামানোর চেষ্টা করছেন খালেদা জিয়া ও তার দল বিএনপি। জনগণের শান্তি নষ্ট করে তারা দেশে সংকট তৈরি করতে চায়। তাই মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সকল শক্তিকে সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে। এই অপশক্তির ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে বাংলার মাটিতে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে পারলে আমরা আবারো বিজয়ী হবো।
গতকাল শনিবার বিকালে রাজধানীর আজিমপুর গার্লস স্কুল এন্ড কলেজ স্কুল মাঠে লালবাগ ও চকবাজার থানা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। মোহাম্মদ নাসিম বলেন, শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিতে আগামী কবছর অনেক চক্রান্ত-ষড়যন্ত্র হবে। তাই এখন আনন্দ-উল্লাস করার সময় নয়, ক্ষমতার দাপট দেখানোরও সময় নয়। তাই সাবধান, ভাইয়েরা সাবধান। শেখ হাসিনাকে রক্ষা করতে হবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ দেশ; কিন্তু খালেদা জিয়ার এটা সহ্য হচ্ছে না।
বিএনপির মধ্যবর্তী নির্বাচন দাবি নাকচ করে দিয়ে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, আমাদের দোষ কি বলেন? ২৪ জানুয়ারির মধ্যে নির্বাচন না হলে সরকার অবৈধ হয়ে যেত। আমরা হতাম অবৈধ শাসক। ১/১১ বা সেনা শাসকদের আসার সুযোগ তৈরি হতো। এ জন্য জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শেখ হাসিনা নির্বাচন করেছেন। বিএনপি হাজার চেষ্টা করেও নির্বাচন বন্ধ করতে পারেনি। তিনি বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। আগামী দিনে সমস্ত ঘাতকের বিচার কার্যকর করতে হবে। এটা আমাদের চ্যালেঞ্জ। একই সঙ্গে পদ্মা সেতুর কাজ শুরু করে দ্রুত শেষ করতে হবে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন বলেন, খালেদা জিয়া উপজেলা নির্বাচনের পর আন্দোলনের হুমকি দিচ্ছেন। গণতান্ত্রিক আন্দোলনে আমরা অবশ্যই সহযোগিতা করবো; কিন্তু জঙ্গিদের সাথে নিয়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করবেন আর আমরা হাতে চুড়ি পরে বসে থাকবো, সেটা ভাবার কোনো কারণ নেই।
খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম বলেন, অপরাধ করলে আপনি (খালেদা) বিচারের মুখোমুখি হবেনই। আপনি বিচার পেছানোর জন্য বারবার সময় নিবেন এটা হতে পারে না। অপরাধ করলে বাংলার মাটিতে বিচার হয়, হবেই।
লালবাগ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসনাতের সভাপতিত্বে সভায় আরো বক্তব্য রাখেন ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এম এ আজিজ, ঢাকা-৭ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন প্রমুখ।
হামলায় আওয়ামী
লীগ নেতা আহত
সম্মেলন শেষে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে অতিথিরা যাওয়ার পর লালবাগ থানা আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক মো. আলী আকবর আজিমপুর গার্লস স্কুল ভবনের পাশে গেলে যুবলীগ থেকে বহিষ্কৃত নেতা আব্দুল জব্বার রাজা ও কালা ডাব্লিউসহ ১০/ ১৫ জন আর্তকিত হামলা চালায়। এ সময় আলী আকবর সমর্থকরা ছুটে আসলে তারা পালিয়ে যায়। পরে আলী আকবর সমর্থকরা তাকে ঢাকা মেডিক্যাল হাসপাতালে ভর্তি করেন।
জানা যায়, হাসপাতালে খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম আলী আকবরকে দেখতে যান। আলী আকবর সুপ্রীম কোর্টের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুন্যালে বিশেষ পিপি হিসেবে কাজ করছেন।
