শুধু ক্রিকেটের টানে, খেলার টানেই মাঠে ছুটে আসেন চট্টগ্রামের দর্শকরা। স্বাগতিকদের খেলা না থাকলেও গতকাল শনিবার জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে আসেন নানা বয়সের অসংখ্য দর্শক। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এ গ্রুপের বাছাই পর্বের বাংলাদেশের দু’টি খেলা হয়েছে চট্টগ্রামে। এই শহরে চলতি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের আর কোনো খেলা নেই। তাতে কী এসে যায়। স্টেডিয়ামে গিয়ে খেলা দেখার অন্যরকম আকর্ষণে ঠিকই মাঠে আসেন হাজারো দর্শক।
সাগরিকা নামে পরিচিত এই স্টেডিয়ামে সুপার টেন পর্বের খেলা শুরু হয়েছে গতকাল থেকে। প্রথমদিন প্রথম ম্যাচ ছিল শ্রীলংকা ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যে। সন্ধ্যায় দ্বিতীয় ম্যাচে মুখোমুখি হয় নিউজিল্যান্ড ও ইংল্যান্ড। অনেকে ভেবেছিলেন যেহেতু বাংলাদেশের খেলা নেই তাই মাঠে দর্শক তেমন একটা হবে না। ফাঁকা গ্যালারিতে দর্শক থাকবে না। এর পরিবর্তে দেখা যাবে কাকের মিছিল।
কিন্তু মাঠে গিয়ে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। বাংলাদেশি ক্রিকেটপ্রেমীরা ভিড় করেছেন মাঠে। প্রতিটি চার, ছক্কা কিংবা আউটের পর উল্লাসে ফেটে পড়েছেন দর্শক। ম্যাচের পরতে পরতে আনন্দ খুঁজে নিয়েছেন তারা। কখনো ডিস্ক জকির গানের তালে তালে নেচেছেন। আবার কখনো মাঠের জায়ান্ট স্ক্রিনে নিজেকে দেখতে পেয়ে বিস্মিত হয়েছেন।
দর্শকদের মধ্যে শুধু স্থানীয়রাই ছিলেন না। ছিলেন বিদেশিরাও। আর বিদেশিদের মধ্যে একটি বড় অংশ ছিল শ্রীলংকার নাগরিক। নগরীর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রচুর শ্রীলংকান শিক্ষার্থী পড়াশোনা করেন। এছাড়া ইপিজেডসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরি সূত্রে বন্দরনগরীতে অবস্থান করছেন দীনেশ চান্দিমালের দেশের অসংখ্য মানুষ। দুপুরের পর থেকেই তারা ছেলেমেয়ের হাত ধরে সাগরিকায় ছুটে আসেন। স্থানীয়দের সাথে সমান তালে পাল্লা দিয়ে জমিয়ে রাখেন গ্যালারি। গ্যালারিতে শ্রীলংকার পতাকার ছড়াছাড়ি এবং জার্সি পরিহিত ছেলেমেয়েদের উল্লাস দেখে মনেই হচ্ছিলো না এটা বাংলাদেশের কোনো স্টেডিয়াম।
