টাইমসের সুন্দরীদের মেলায়অ্যাঞ্জেলিনা জোলি

আপডেট : ২৩ মার্চ ২০১৪, ১৯:৩৯
হার্টথ্রব অভিনেত্রি অ্যাঞ্জেলিনা জোলি। হলিউডি সিনেমার এক অন্যতম নক্ষত্র। শুধু সিনেমাতেই নয়, তিনি বাস্তবেও বিভিন্ন ধামাকা করতে পছন্দ করেন। সেই সাথে করেন সেবামূলক কাজ। সুন্দরী হিসেবে ফ্যাশান আইকোনও। সম্প্রতি রয়েছেন টাইমসের চোখে সেরাদের সেরা তালিকায়। লাস্যময়ী এই সুন্দরীকে নিয়ে লিখেছেন প্রাঞ্জল সেলিম কিছুদিন আগে শোনা গিয়েছিল অভিনয়ের পাশাপাশি অ্যাঞ্জেলিনা জোলি প্রযোজনাও শুরু করেছেন। নির্মাতাদের তালিকায় জোলির নাম দেখে তার অনেক ভক্তের আনন্দ নতুন মাত্রা পেয়েছিল। আর এ কারণেই হয়তো টাইমসের অনলাইন জরিপে উঠে এসেছে তার নাম। এই ছিল অ্যাঞ্জেলিনা জোলির সাম্প্রতিক খবর। এবারে জেনে নেওয়া যাক এই বিখ্যাত অভিনেত্রী সম্পর্কে টুকিটাকি কিছু কথা। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের লস অ্যাঞ্জেলেসে জোলির জন্ম। তার মা মার্শেলিন বার্ট্রন্ড ও বাবা জন ভট দুজনই ছিলেন পেশাদার অভিনয়শিল্পী। এছাড়া জোলি আত্মীয়দের ভেতরেও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের ছাপ সুস্পষ্ট। সম্পর্কের দিক থেকে জোলি, চিপ টেইলরের ভ্রাতুষ্পুত্রী, জেমস হ্যাভেনের বোন এবং জ্যাকুইলিন বিসেট ও ম্যাক্সিমিলিয়ান শেলের ধর্মকন্যা। বাবার দিক থেকে জোলি চেকোস্লোভাকীয়-জার্মান বংশোদ্ভূত। আর মায়ের দিক থেকে ফরাসি-কানাডীয় বংশোদ্ভূত। তার মায়ের ভাষ্য অনুসারে তার মধ্যে ইরোকয় বংশের ছাপও রয়েছে কিছুটা। ১৯৭৬ সালে তার মা-বাবার বিচ্ছেদের পর জোলি ও তার ভাই দুজনেই মায়ের সাথে থাকেন। বিচ্ছেদ পরবর্তী এই প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে তার মা নিজের অভিনয়ের উচ্চাশা বিসর্জন দেন এবং সন্তানদের সাথে নিয়ে নিউ ইয়র্কের প্যালিসেডে চলে যান। শৈশব থেকেই জোলি নিয়মিত ছবি দেখতেন ও ছবি দেখার পর মায়ের কাছে অভিনয় করার ব্যাপারে তার আগ্রহ প্রকাশ করতেন। জোলির বয়স যখন এগারো, তখন তারা আবার সপরিবার লস অ্যাঞ্জেলেসে ফিরে আসে। লস অ্যাঞ্জেলেসে এসে এবার তিনি অভিনয় করার সিদ্ধান্ত নেন। এরই সূত্র ধরে তিনি লি স্ট্র্যাসবার্গ থিয়েটার ইনস্টিটিউটে ভর্তি হন। সেখানে তিনি দুই বছর ধরে অভিনয়ের ওপর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। এই থিয়েটার ইনস্টিটিউটে থাকাকালীন সময়ে তিনি বেশকিছু মঞ্চনাটকেও অভিনয় করেন। জোলি সম্পর্কে একটি মজার তথ্য হলো, চৌদ্দ বছর বয়সে তিনি তার অভিনয় শিক্ষা থেকে সরে গিয়ে একজন অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া পরিচালক হওয়ার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন। তখন তিনি অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া পরিচালকদের মতো কালো পোশাক পরা শুরু করেন। এছাড়াও তিনি তার চুলের রং পরিবর্তন করে পার্পল করেছিলেন এবং তত্কালীন প্রেমিকের সাথে মোশিংয়ে যাওয়াও শুরু করেছিলেন। কিছুদিন পর তিনি আবারও অভিনয় শিক্ষায় ফিরে আসেন এবং কয়েকবার সেমিস্টার পরীক্ষায় ফেল করার পরেও শেষপর্যন্ত হাই স্কুলের গণ্ডি পার হন। মাত্র ১৪ বছর বয়সেই একজন ফ্যাশন মডেল হিসেবে তিনি তার ক্যারিয়ার শুরু করেন। তিনি মডেলিং করতেন মূলত লস অ্যাঞ্জেলেস, নিউ ইয়র্ক ও লন্ডনে। সে সময়ের বিভিন্ন মিউজিক ভিডিওতে তাকে দেখা যেত। এর মধ্যে আছে মিট লোফের ‘রক অ্যান্ড রোল ড্রিমস কাম ট্রু’, অ্যানতোনেল্লো ভেনেডিত্তির ‘আলতা মারিয়া’, লেনি ক্যাভিটেজর ‘স্ট্যান্ড বাই মাই ওমেন’ ও দ্য লেমনহেডসের ‘ইট’স অ্যাবাউট টাইম’। এর প্রায় দুবছর পরে, মঞ্চ থেকে তার অভিনয় জীবনের সূচনা ঘটে। তার প্রথম চরিত্রটি ছিল একজন জার্মান প্রতাপশালীর। অভিনয়ের পাঠটা তার বাবার কাছ থেকেই শেখা। তিনি মানুষকে পর্যবেক্ষণ করতেন, এবং আচরণ ও বাহ্যিকতায় ঠিক তাদের মতো হয়ে ওঠার চেষ্টা করতেন। সে সময় বাবার সাথে জোলির সম্পর্ক পরবর্তীকালের মতো এতটা শীতল ছিল না। তখন জোলির কাছে তারা দুজনেই হচ্ছেন ‘নাট্যজগতের রাজা-রানি’। চলচ্চিত্র অভিনেত্রী হিসেবে জোলির পেশাজীবন শুরু হয় ১৯৯৩ সালে। অল্প বাজেটের চলচ্চিত্র ‘সাইবর্গ ২’-এ অভিনয় করেছিলেন। সেখানে তার চরিত্রের নাম ছিল ক্যাসেলা ‘ক্যাশ’ রিজ, যে কিনা মানুষের কাছাকাছি একটি রোবট। পরবর্তীতে ১৯৯৫ সালে জোলি দুইটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। একটি হচ্ছে স্বাধীন চলচ্চিত্র ‘উইদাউট অ্যাভিডেন্স’ এবং অপরটি রহস্য চলচ্চিত্র ‘হ্যাকারস’। ‘হ্যাকারস’-এ তিনি কেট ‘এসিড বার্ন’ লিবি চরিত্রে পার্শ্ব ভূমিকায় অভিনয় করেন। এটি ছিল জোলির অভিনয় জীবনের প্রথম হলিউড চলচ্চিত্র। এখানেই জোলির সাথে পরবর্তীতে তার প্রথম স্বামী জনি লি মিলারের পরিচয় হয়। ছবিটি বক্স-অফিসে সাফল্য না দেখাতে পারলেও, এর ভিডিও চিত্রটি মুক্তি পাওয়ার পর এটি ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছিল। উঁচুমানের অভিনয় প্রতিভা ও দক্ষতা থাকা সত্ত্বেও জোলির অভিনীত চলচ্চিত্রগুলো প্রায়ই আন্তর্জাতিকভাবে সাড়া ফেলতে ব্যর্থ হতো। তার এই অপূর্ণতা পূর্ণ হয় ২০০১ সালে ‘লারা ক্রফ্ট :টুম্ব রেইডার’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে। চলচ্চিত্রটি ছিল জনপ্রিয় ভিডিও গেম টুম্ব রেইডারের ওপর ভিত্তি করে নির্মিত। এই চলচ্চিত্রে লারা ক্রফ্ট চরিত্রে অভিনয় করার জন্য জোলিকে ব্রিটিশ উচ্চারণে ইংরেজি বলা শিখতে হয়েছিল ও মার্শাল আর্টের প্রশিক্ষণ নিতে হয়েছিল। জোলি তার অভিনয়ের জন্য প্রশংসিত হন, কিন্তু চলচ্চিত্রটির ক্ষেত্রে বেশিরভাগ মন্তব্যই আসে অনুত্সাহমূলক। স্লান্ট ম্যাগাজিন মন্তব্য করে, ‘লারা ক্রফ্ট চরিত্রটিতে অভিনয় করার জন্যই অ্যাঞ্জেলিনা জোলির জন্ম হয়েছিল কিন্তু পরিচালক সাইমস ওয়েস্ট তাকে একটি ফ্রগার খেলার কাঠামোর ভেতর দিয়ে যেতে বাধ্য করেছেন।’ তবে সবকিছুর পরও ব্যবসায়িকভাবে চলচ্চিত্রটি ছিল সফল। বিশ্বব্যাপী এটির আয় ছিল ২৭.৫ কোটি মার্কিন ডলার, এই চলচ্চিত্রটির মাধ্যমে জোলির আন্তর্জাতিক খ্যাতির শুরু। ২০০৫-এ শুরু হওয়া হলিউড অভিনেতা ব্র্যাড পিটের সাথে তার সম্পর্ক এখন পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী সবচেয়ে বেশি তারকাসংক্রান্ত খবরাখবরের উত্স। একপর্যায়ে তার খ্যাতি ও আয় এত বেড়ে যায়, দ্য হলিউড রিপোর্টার জোলিকে ২০০৮ সালের সবচেয়ে বেশি পারিশ্রমিক গ্রহণকারী অভিনেত্রী হিসেবে উল্লেখ করে। প্রতি ছবিতে তার আয় ছিল ১.৫ কোটি মার্কিন ডলার। সেই সাথে তিনি ২০০৯ সালের ফোর্বস-এর বার্ষিক সেলিব্রেটি ওয়ান হানড্রেড-এ শীর্ষস্থানে ছিলেন।