শিক্ষা ক্যাডারের বর্তমান অবস্থা অন্য যেকোনো ক্যাডার অপেক্ষা অনেক ভালো। অধিকাংশ সরকারি কলেজে, উচ্চ মাধ্যমিক, স্নাতক (পাস) কোর্সসহ স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর কোর্স চালু থাকায় এ ক্যাডারের সর্বমোট পদ সংখ্যা প্রায় ১৫ হাজার। এই পেশায় প্রজন্ম কীভাবে ভালো করতে পারে, যারা এই পেশায় আসতে চায় তাদের কী করা উচিতসহ নানা বিষয়ে পরামর্শ দিলেন ২৪তম সাধারণ বিসিএসে চান্সপ্রাপ্ত বর্তমানে যশোর সরকারি সিটি কলেজের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আবু ইসহাক ইভান
মেধাবী, সৃজনশীল ও স্বাধীন ব্যক্তিসত্তায় শ্রদ্ধাশীলদের বিসিএস পরীক্ষা দিয়ে শিক্ষা ক্যাডারে আসা একটি অসম্ভব ভালো সিদ্ধান্ত। শিক্ষা ক্যাডারদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপের শিকার হতে হয় না বিধায় নিজের স্বাধীন সত্তা ও স্বকীয়তা বিকশিত করার সুযোগ পাওয়া যায়। সমাজ বিবর্তনের ধারায় সামাজিক মূল্যবোধের ধারণাগত বা চেতনাগত পরিবর্তন ঘটলেও শিক্ষকতাকে এখনও মহত্ পেশা হিসেবে সম্মান দেওয়া হয়। তাই এই পেশায় তরুণদেরকে আগ্রহী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। কর্তা-আদৃষ্ট কাজ অপেক্ষা মন ও মেধা-উদ্ভাবিত কাজের সুবর্ণ সুযোগ থাকায় এ ক্যাডারের গুরুত্ব সমধিক বলে মনে করেন এই শিক্ষক। পেশাটি মূলত মেধাবী ও জ্ঞানচর্চায় উত্সাহীদের জন্য, বিধায় ইদানীং এ ক্যাডার মেধাবীদের জন্য অধিকতর আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে। ক্যাডার পছন্দক্রমে সবার শীর্ষে শিক্ষা ক্যাডার উল্লেখ করলে পাবলিক সার্ভিস কমিশন কর্তৃক গৃহীত মৌখিক পরীক্ষায় শিক্ষা ক্যাডার সংক্রান্ত বোর্ডে মৌখিক পরীক্ষায় অবতীর্ণ হওয়ার সুযোগ থাকে। সেক্ষেত্রে নিজ-পঠিত বিষয়ের উপর প্রশ্ন থাকায় মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। তাছাড়া বাস্তবতা ও অভিজ্ঞতার আলোকে দেখা যায় যে, শিক্ষা ক্যাডার পছন্দকারীদের প্রতি বোর্ড কিছুটা নমনীয়তা প্রদর্শন করেন। ক্যাডার কর্মকর্তা হিসেবে নিজেকে চৌকস, উদ্যমী ও সাবলীল হয়ে গড়ে তোলার পরামর্শ দিলেন তিনি। শুধু নিজ-পঠিত বিষয় নয়, জ্ঞান-বিজ্ঞানের নানা বিষয় ও জগত্ এবং জীবন ঘনিষ্ঠ নানা দিক সম্পর্কে তার একটা স্পষ্ট ধারণা রাখার জন্য প্রজন্মকে উপদেশ দিলেন তিনি। এজন্য নিজ-পঠিত সিলেবাসের যাবতীয় বিষয়ের পুনর্শিখনের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় অন্যান্য বিষয়েও নিজেকে সমৃদ্ধ বা পারদর্শী করে তুলতে হবে। নিজ-বিষয় বহির্ভূত অন্যান্য প্রয়োজনীয় বিষয়ের তালিকা প্রস্তুত করে অপেক্ষাকৃত দুর্বল বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। বিসিএসের জন্য বাজারে প্রাপ্ত বইয়ের উপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল না হয়ে অন্যান্য তথ্যসমৃদ্ধ ও নির্ভুল বই অনুসরণ করতে হবে। পত্র-পত্রিকা পড়তে হবে এবং তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। সংগৃহীত তথ্যের শ্রেণি-বিভাজন করতে হবে, যাতে মনে রাখা সহজ হয়। ঐকান্তিক ইচ্ছা ও নিরন্তর প্রচেষ্টাই আপনাকে বিসিএস-এর জন্য উপযুক্ত করে তুলবে বলে জানালেন প্রজন্মের সফল এই বিসিএস ক্যাডার।
