ওষুধ প্রতিরোধী বা এমডিআর রোগীর বেশিরভাগই সেবার আওতার বাইরে রয়েছেন। ৪২০০ রোগীর মধ্যে এ মুহূর্তে সেবা নিচ্ছেন ৬৮২ জন। বাকিরা থেকে গেছেন সেবার আওতার বাইরে। তবে তাদের এই অনুপস্থিতি যক্ষ্মা নির্মূলে হুমকি নয় বলে জানিয়েছে জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি (এনটিপি), স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, ব্র্যাক।
গতকাল জাতীয় প্রেসক্লাবে জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি (এনটিপি), স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, ব্র্যাক ও সহযোগী সংস্থা আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তারা এসব কথা বলেন।
সাংবাদিক সম্মেলনে জানানো হয়, ২০১২ সালে প্রায় ৮৬ লাখ মানুষ যক্ষ্মায় আক্রান্ত হয়। এই রোগে প্রতি বছর ১৩ লাখ মানুষ মারা যায়। বর্তমানে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ মানুষ যক্ষ্মা রোগে ভুগছে। বিশ্বের মোট যক্ষ্মা রোগীর ৮০ শতাংশ বাস করে ২২টি দেশে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান ষষ্ঠ। আর বিশ্বের মোট যক্ষ্মা রোগীর ৪০ শতাংশই দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলে বাস করে।
সম্মেলনে আরো জানানো হয়, বাংলাদেশে যক্ষ্মা একটি প্রধান জনস্বাস্থ্য সমস্যা। ২০১২ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী বছরে নতুন করে যক্ষ্মায় আক্রান্ত হচ্ছে প্রতি লাখে ২২৫ জন। আর বছরে নতুন ও পুরাতন যক্ষ্মায় আক্রান্তের সংখ্যা হচ্ছে প্রতি লাখে ৪৩৪ জন। দেশে বছরে যক্ষ্মা রোগে মারা যায় প্রতি লাখে ৪৫ জন।
২০১৩ সালে জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির আওতায় এক লাখ ৮৪ হাজার ৪৯২ জন যক্ষ্মা রোগী শনাক্ত করা হয়। এক্ষেত্রে শনাক্তকরণের হার প্রতি লাখে ১১৯ জন। কফে জীবাণুযুক্ত যক্ষ্মা রোগী শনাক্ত হয়েছে এক লাখ ৫ হাজার ৫৩০ জন, কফে জীবাণুমুক্ত যক্ষ্মা রোগী শনাক্ত হয়েছে ৪২ হাজার ৩৪৫ জন, ফুসফুস বহির্ভূত যক্ষ্মা রোগী শনাক্ত হয়েছে ৩৩ হাজার ৬৫৩ জন, শিশু যক্ষ্মা রোগী শনাক্ত হয়েছে ৫ হাজার ৪৪ জন।
২০১২ সালে যারা নতুন যক্ষ্মা রোগী শনাক্ত হয়েছেন তাদের চিকিত্সায় সাফল্যের হার ৯৩ শতাংশ। সাংবাদিক সম্মেলনে বলা হয়, বর্তমানে বাংলাদেশে এমডিআর যক্ষ্মা রোগীর সংখ্যা হচ্ছে ৪ হাজার ২০০ জন। এর মধ্যে চিকিত্সা দেয়া হয়েছে ৬৮২ জনকে। বর্তমানে দেশে যক্ষ্মা রোগী শনাক্তকরণের হার ৭০ শতাংশ এবং চিকিত্সায় সাফল্যের হার ৯২ শতাংশ। বিশেষজ্ঞদের মতে, রোগ শনাক্তকরণ ও আরোগ্যের বর্তমান হার ধরে রাখতে পারলে ২০১৫ সালে সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব হবে।
সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির প্রোগ্রাম ম্যানেজার ডা. আহমেদ হোসেন খান, জাতীয় বক্ষব্যাধি হাসপাতালের চেস্ট মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. আব্দুর শাকুর খান প্রমুখ।
আজ বিশ্ব যক্ষ্মা দিবস
আজ ২৪ মার্চ বিশ্ব যক্ষ্মা দিবস। অন্য দেশের মতো বাংলাদেশেও নানা আয়োজনে পালিত হচ্ছে বিশ্ব যক্ষ্মা দিবস। যক্ষ্মার চিকিত্সা সেবা বঞ্চিতদের কাছে পৌঁছানোর লক্ষ্যে এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য নির্ধারিত হয়েছে- ‘যক্ষ্মার সেবা সবার তরে, পৌঁছে দেব ঘরে ঘরে’।
প্রতিবারের মত এবারও জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি (এনটিপি), স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, ব্র্যাক ও অন্যান্য সহযোগী সংস্থার সঙ্গে সম্মিলিতভাবে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সারাদেশে বিশ্ব যক্ষ্মা দিবস উদ্যাপন করা হবে। দিবসটি উপলক্ষে সকালে রাজধানী ও দেশের জেলা শহরগুলোতে সচেতনতামূলক শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। দুপুরে রাজধানীর ব্র্র্যাক সেন্টারে প্রদান করা হবে যক্ষ্মাসহ স্বাস্থ্য সাংবাদিকতায় অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ ‘ব্র্যাক মিডিয়া এ্যাওয়ার্ড’।
