দেশে আইনের শাসন ভেঙ্গে ফেলার ষড়যন্ত্র হচ্ছে উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক বলেছেন, আইনজীবীরা এজলাসে উঠে বিচারকের উপর চড়াও হচ্ছেন এবং তাকে গালিগালাজ করছেন-অতীতে এটা কখনো দেখা যায়নি। আইনজীবীরা আদালতে যে আচরণ করছেন, তা কোন সভ্য সমাজে দেখা যায় না। আইনমন্ত্রী আরো বলেন, মৃত্যুদণ্ড তুলে দেয়ার বিষয়ে আমাদের উপর আন্তর্জাতিক চাপ রয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ ইউরোপের দেশসমূহ মৃত্যুদণ্ডকে একটি দণ্ড হিসেবে মেনে নিতে রাজি নয়। কিন্তু যুদ্ধাপরাধীদের দণ্ডের বিষয়ে আমরা কোন আপস করব না।
গতকাল রবিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘ল’ রিপোর্টার্স ফোরামের (এলআরএফ) উদ্যোগে আয়োজিত মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে সঞ্চালক ছিলেন এলআরএফ সভাপতি সালেহউদ্দিন। এ সময় জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক স্বপন দাশগুপ্ত, মিজানুর রহমান খান, শহীদুজ্জামান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এলআরএফ’র সভাপতি সালেহউদ্দিন আদালত অঙ্গনে সাংবাদিকরা যাতে সম্মানের সঙ্গে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে পারেন এ বিষয়ে প্রধান বিচারপতি ও আইনমন্ত্রীর সহায়তা কামনা করেছেন।
আইনমন্ত্রী এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়ার কথা জানিয়ে বলেন, বিচার বিভাগের আলাদা সচিবালয় গঠনের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। খুব শিগগির না হলেও এই সরকারের মেয়াদেই আলাদা সচিবালয় করে যাব। এক প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, আদালত অবমাননার অভিযোগে আইনে দণ্ডের বিষয়টি সুনির্দিষ্ট না থাকলে বিচারক কাউকে দণ্ড দিতে পারেন না। তবে তিরস্কার করতে পারেন।
বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলা ও জেল হত্যা মামলার পলাতক আসামিদের ফিরিয়ে আনা প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, নিরাপত্তার কারণে আমাদের পদক্ষেপের বিষয়গুলো উল্লেখ করতে পারছি না। কিন্তু যারা তাদের দেশে আছেন, সেই সব আসামি এই বলে দরখাস্ত করে রাখেন যে, ওইখানে (বাংলাদেশে) নিয়ে গেলেই আমাকে ফাঁসি দেয়া হবে। তোমাদের আইনে ফাঁসি নিষেধ আছে। তোমরা ফাঁসি দেয়া পছন্দ করো না। সেই কারণে আমাকে আশ্রয় দেয়া হোক। এই বক্তব্যের দরখাস্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিবেচনা করার জন্য সময় দেয় এবং তাকে ফিরিয়ে দিতে অস্বীকৃতি জানায়। যারা পলাতক তাদেরকে যে সব দেশ আশ্রয় দিয়ে রেখেছে, তারা কিন্তু জঙ্গিবাদকে স্পন্সর করে। এই দেশগুলো হচ্ছে- পাকিস্তান ও লিবিয়া। এদেরকে খুঁজে বের করে আনা সহজ ব্যাপার না।
বঙ্গবন্ধুর খুনী নূরের বিষয়ে কানাডিয়ান সরকার পরিষ্কার বলেছে, যে দেশ কাউকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে, তাকে আমরা সেই দেশের হাতে তুলে দেব না। তাদের সাথে আমাদের কথাবার্তা চলছে। আমরা দরকার হলে আইনি লড়াইয়ে যাবো। ফিরিয়ে আনার যত রকম চেষ্টা তাতো করবোই এবং ইনশাল্লাহ ফিরিয়ে আনবোই।
অনুষ্ঠানে এক সাংবাদিক জানতে চান, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে সরকার হিযবুত তাহরীরসহ বেশ কিছু সংগঠনকে নিষিদ্ধ করেছে। একই অভিযোগ জামায়াতের বিরুদ্ধেও রয়েছে। এক্ষেত্রে সরকার নির্বাহী আদেশে জামায়াতকে নিষিদ্ধ না করে আদালতের ঘাড়ে চাপিয়ে দিচ্ছে কেন? জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, এটা আদালতে ঘাড়ে চাপানো হচ্ছে না। আদালতে বিষয়টা ইতিমধ্যে আছে। এ ব্যাপারটা যেহেতু ইতিমধ্যে আদালতে আছে, সেই জন্য আমরা এখন কোন পদক্ষেপ নিচ্ছি না। আমরা আদালতকে এমন কোন সিগনাল দিতে চাই না যে, আপনারা করার আগেই আমরা কোন কিছু করে ফেলবো বা আপনারা কিছু করার আগে আমরা কিছু করবো না। আমরা চাই, আদালতে জামায়াতের নিবন্ধন নিয়ে যে মামলাটা রয়েছে, সেটা আগে শেষ হোক, তারপর আমাদের পদক্ষেপ আমরা নিবোই।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আমাদের একজন কূটনীতিক সম্পর্কে গৃহপরিচারক যে অভিযোগ করেছেন সেই বিষয়টি নিয়ে আমরা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগযোগ করছি। তার বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ থাকলে তাকে দেশে এনে বিচার করব। আইনমন্ত্রী আরো জানান, এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে ২৬১ জন বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। কিন্তু আমরা তদন্ত করে দেখেছি এই সংখ্যা মাত্র দুইজন। এই দুটি ঘটনার বিষয়েও আমরা তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে বলেছি।
