৩২ কেন্দ্রে ভোট স্থগিত

বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ছাড়া নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে

আপডেট : ২৩ মার্চ ২০১৪, ২৩:৩৫
সারাদেশে কয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে বলে দাবি করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মোবারক। গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় নির্বাচন কমিশনের মিডিয়া সেন্টারে এক প্রেস বিফিংয়ে তিনি এ দাবি করেন। আবদুল মোবারক বলেন, তৃতীয় ধাপের তুলনায় চতুর্থ ধাপে সুষ্ঠু পরিবেশে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রায় এক হাজার কেন্দ্রের মধ্যে সহিংসতার কারণে নির্বাচন কমিশন ৩২টির ভোট গ্রহণ স্থগিত করেছে। যা সংখ্যার হিসেবে খুব বেশি নয়। কিছু কেন্দ্রে সহিংসতা হলেও সার্বিকভাবে নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে। ৩২ কেন্দ্রের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়া ভোট গ্রহণ স্থগিত করা হয়। এর মধ্যে পটুয়াখালীতে ৮টি, দুমকিতে ৫টি, ধামরাইয়ে ১টি, বরুড়ায় ২টি, গজারিয়ায় ৮টি, কানাইঘাটে ১টি, চুয়াডাঙ্গায় ১টি, রাঙ্গুনিয়া ১টি, সাতকানিয়া ১টি ও কুতুবদিয়ায় ১টি এবং বেগমগঞ্জে ৩টি কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ স্থগিত করা হয়। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দেশের ৪৩ জেলার ৯১ উপজেলায় ভোট হয়েছে। অনেক জায়গা থেকেই অভিযোগ এসেছে। নির্বাচন কমিশন সারাদেশ থেকে মোবাইল ফোন ও ফ্যাক্স বার্তার মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করেছে। মোবাইল ফোনের অভিযোগের বিষয়ে সঙ্গে সঙ্গে ফোর্স পাঠিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে মোবাইল ফোনের অভিযোগগুলো সত্য প্রমাণিত হয়নি। তিনি উল্লেখ করেন, সহিংসতা ঘটে প্রার্থীদের জয়ী হওয়ার অদম্য লিপ্সা থেকে। যা কিছু হোক জয়ী হতেই হবে-তাদের এমন মনোভাবের কারণেই প্রাণনাশ ও সহিংসতার ঘটনা ঘটে। দায়িত্বপ্রাপ্ত সিইসি বলেন, বিভিন্ন জায়গা থেকে আসা অভিযোগগুলোর মধ্যে যেসব আমলে নেয়ার মতো মনে হয়েছে-সেরকম ২০টি অভিযোগের বিষয়ে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং রিটার্নিং কর্মকর্তাকে পদক্ষেপ নিয়ে আমাদের জানানোর নির্দেশ দিয়েছি। এসময় তিনি রাজনৈতিকদলগুলোর উদ্দেশ্যে বলেন, এটা নির্দলীয় নির্বাচন, তাই নির্দলীয়ভাবেই হওয়া উচিত। যদি দলীয়ভাবে করতেই চান, তবে আইন পরিবর্তন করেন। তিনি বলেন, নির্বাচন নিয়ে কারো কোনো অভিযোগ থাকলে বা পুন:ভোটের প্রত্যাশা করলে তিনি আদালতে যেতে পারেন। নির্বাচনের পর ইসির আর পুন:ভোট গণনার সুযোগ নেই। সংক্ষুব্ধ প্রার্থীর জন্য আইন অনুযায়ী ইসির কিছুই করার নেই। তাকে নির্বাচনি ট্রাইব?্যুনালে যেতে হবে। অনেকেই না জেনে ইসিতে আসেন এবং সময়ক্ষেপণ করেন। সেনাবাহিনীকে বিচারিক ক্ষমতা প্রদানের বিষয়ে তিনি বলেন, এ নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। সিআরপিসি ১৩১ ধারা মোতাবেক সেনাবাহিনীকে কেবল গ্রেফতার করে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে সোপর্দ করার ক্ষমতা দেয়া হয়েছিলো। এর বেশি কিছু নয়। আইন অনুযায়ী তাদের বিচারিক ক্ষমতা দেয়া যায় না।