বাস কিংবা ট্রেনে ভ্রমণের সময় যেভাবে আশপাশের দৃশ্য দেখে সময় কাটানো যায় বিমান ভ্রমণের ক্ষেত্রে সেটা সবসময় প্রযোজ্য হয় না। বিশেষ করে আকাশে মেঘ থাকলে কিংবা বিমান একটি নির্দিষ্ট উচ্চতার উপরে উঠে গেলে বাইরের সব দৃশ্যই যেন হাওয়ায় মিলিয়ে যায়। তাছাড়া বিমানে জানালার ঠিক পাশে আসন না পেলে অনেক সময় আশপাশের দৃশ্য দেখাটাও দুস্কর হয়ে পড়ে। তবে বিমান ভ্রমণের এই চিরাচরিত অভিজ্ঞতাকেই এবার পাল্টে দেবার ঘোষণা দিয়েছে স্পাইক অ্যারোস্পেস নামের একটি প্রতিষ্ঠান। আমেরিকার বোস্টন ভিত্তিক এই উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ২০১৮ সাল নাগাদ তারা ‘উইন্ডোলেস সুপারসনিক বিজনেস জেট’ নামের যে বিমানটি বাজারে আনতে যাচ্ছে সেটি বিমান যাত্রীদেরকে মেঘের ওপর ভেসে বেড়ানোর স্পষ্ট দৃশ্য দেখার সুযোগ দেবে। আর আকর্ষণীয় এই বিষয়টির বাস্তবায়ন করা হবে বিমানের জানালার পরিবর্তে একই অংশে বিশালাকৃতির বেশ কিছু ডিজিটাল পর্দা স্থাপনের মাধ্যমে। প্লেনের বাইরে স্থাপিত একাধিক মাইক্রো ক্যামেরার মাধ্যমে ধারণকৃত দৃশ্যই এই পর্দায় সরাসরি দেখানো হবে। আবার চাইলে আগে থেকে ধারণকৃত কোনো দৃশ্যও দেখানো যাবে বিমানটির ডিজিটাল পর্দায়। আকৃতিগত বিশালতার কারণে জানালার ঠিক পাশের আসনে না বসেও বাইরের দৃশ্য উপভোগ করতে পারবেন যাত্রীরা। আর এই পর্দার সাহায্যে দিনে কিংবা রাতে সমানভাবেই জল, স্থল ও মহাকাশের বিভিন্ন দৃশ্য দেখা যাবে। অন্যদিকে বিমানটিতে জানালার পরিবর্তে ডিজিটাল পর্দা স্থাপন করায় এর মোট ওজন যেমন কমবে তেমনি বাড়বে গতিও। স্পাইক জানিয়েছে, পরিকল্পনামাফিক সবকিছু এগোলে তাদের এই উড়োজাহাজটি শব্দের চেয়েও দ্রুতগতিতে উড়তে সক্ষম হবে এবং এর মাধ্যমে মাত্র পাঁচ ঘণ্টায় লস অ্যাঞ্জেলস থেকে টোকিও’তে কিংবা তিন ঘণ্টায় নিউ ইয়র্ক থেকে লন্ডনে যাওয়া যাবে। অন্যদিকে স্পাইক এস-৫১২ নামের এই সুপারসনিক বিমানটি তৈরি করতে আনুমানিক ব্যয় হবে প্রায় আট কোটি মার্কিন ডলার।
