চার কারণে পরাজয় পিছু ছাড়েনি আওয়ামী লীগের

আপডেট : ২৫ মার্চ ২০১৪, ২১:২৪
এ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত রাজশাহীর ৮টি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ৬টিতেই হেরেছে আওয়ামী লীগ। এসব উপজেলার চেয়ারম্যান পদে ৫টিতে বিএনপি এবং ১টিতে জিতেছে জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী। মাত্র ২টিতে জিতেছে আওয়ামী লীগের সমর্থিত প্রার্থীরা। স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অভিমত, চার কারণে (অভ্যন্তরীণ কোন্দল, শরীক দলের নেতাকর্মীদের অবমূল্যায়ন, তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মতামত উপেক্ষা এবং মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের ভোটারদের উজ্জীবিত করায় ব্যর্থতা) উপজেলা নির্বাচনে পরাজয় পিছু ছাড়েনি আওয়ামী লীগের। প্রথম দফায় মোহনপুর উপজেলায় ও দ্বিতীয় দফায় বাঘা উপজেলায়, তৃতীয় দফায় চারঘাট ও গোদাগাড়ী উপজেলায় এবং চতুর্থ দফায় তানোর ও পুঠিয়ায় হেরেছেন আওয়ামী লীগের সমর্থিত প্রার্থীরা। অপরদিকে বিজয়ের বিপুল সম্ভাবনা সত্ত্বেও বাঘা, পুঠিয়া, বাগমারা ও দুর্গাপুরে অভ্যন্তরীণ কোন্দলে হেরেছেন বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীরা। এর ১টিতে জিতেছেন জামায়াতের, ১টিতে বিএনপির বিদ্রোহী এবং অপর ২টিতে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা জিতেছেন। বিশ্লেষকরা জানান, মোহনপুর, বাঘা, চারঘাট, পুঠিয়া, গোদাগাড়ী ও তানোর উপজেলায় আওয়ামী লীগের সমর্থিত প্রার্থীরা নিজেদের সঙ্গে সঙ্গে দলকেও ডুবিয়েছেন। একই অবস্থা বিএনপিতেও। রাজশাহী জেলা ও মহানগর বিএনপির দুই শীর্ষ নেতার কোন্দলে বাঘা, দুর্গাপুর, বাগমারা ও পুঠিয়ায় হেরেছে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীরা। এরমধ্যে বাঘায় বিএনপির দলীয় প্রার্থী সমর্থনে জটিলতায় ভোটাররা ছিলেন বেকায়দায়। শেষ মুহূর্তে পরাজয় নিশ্চিত জেনে বিএনপির ভোটাররা জামায়াত সমর্থিত প্রার্থীকে ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীর পরাজয় ঠেকিয়ে দেয় বলে জানা যায়। অন্যদিকে দুর্গাপুর ও বাগমারায় মিনু-নাদিমের দ্বন্দ্বে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীরা হেরে যায় বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। এদিকে পুঠিয়ায় আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতাকর্মীদের সমর্থিত প্রার্থী আহসান উল হক মাসুদের বিপক্ষে খোদ পুঠিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও দলীয় স্থানীয় সাংসদ কাজী আব্দুল ওয়াদুদ দারা অবস্থান নিয়েছিলেন বলে জানা যায়। তাঁর সমর্থিত প্রার্থী শাহরিয়ার রহিম কনক ভোট পেয়েছেন মাত্র ৯ হাজার ৭৮৭। পুঠিয়ায় আওয়ামী লীগের তৃণমূলের সমর্থিত প্রার্থী মাসুদের অভিযোগ, তার বিজয় নিশ্চিত করতে আওয়ামী লীগের কর্মীরা যখন মাঠে নেমেছেন, তখন সাংসদ দারা পৌর আওয়ামী লীগের নেতা শাহরিয়ার রহিম কনককে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মাঠে নামান। শুধু তাই নয়, সাংসদের বাসভবন থেকে কনককে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করা হয়। সাংসদ দারার বিরুদ্ধে সংগঠনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়ায় এ বিষয়ে দলীয় সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে অভিযোগ করবেন বলে মাসুদ ইত্তেফাককে জানান। সূত্র মতে, পুঠিয়ায় ৩৬ হাজার ৫৬৩ ভোট পেয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী (দলীয় কর্মীদের মতে রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মিজানুর রহমান মিনুর অনুসারী) আনোয়ারুল ইসলাম জুম্মা। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আহসানুল হক মাসুদ পেয়েছেন ৩৩ হাজার ৫৯১ ভোট। আওয়ামী লীগ দলীয় সাংসদ আবদুল ওয়াদুদ দারার সমর্থিত প্রার্থী কনক ৯ হাজার ৭৮৭ ভোট পেয়ে চতুর্থ হয়েছেন। এদিকে জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক সাংসদ নাদিম মোস্তফার সমর্থিত বিএনপির প্রার্থী আল মামুন খান ২৫ হাজার ৩৩২ ভোট পেয়ে তৃতীয় হয়েছেন। সাবেক সাংসদ নাদিম মোস্তফার চাপিয়ে দেয়া সিদ্ধান্ত বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীরা মানতে পারেননি বলে জানা যায়। সব মিলিয়ে পুঠিয়ার ভোটার ও দলীয় কর্মীরা সাবেক সাংসদ নাদিম এবং বর্তমান সাংসদ দারার সিদ্ধান্ত বয়কট করেছেন বলে ধারণা করা হয়।