জাতীয় সংগীত গাইবো বিশ্ব রেকর্ড গড়বো

আপডেট : ২৫ মার্চ ২০১৪, ২১:৫০
ছাব্বিশে মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস। এই চেতনার জোয়ারে ভাসছে সারাদেশের ষোলকোটি জনগণের মন-প্রাণ। লাখো তরুণ-তরুণীর প্রাণের গহীনে বাজছে আজ বিজয়-উল্লাসের চেতনার সুর। প্রতি বছর এই স্বাধীনতা দিবসকে ঘিরে স্বদেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হচ্ছে দেশের অসংখ্য তরুণ প্রাণ। স্বাধীনতার চেতনায় উদ্দীপ্ত হয়ে উন্নতির শিখরে এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ—এটাই যেন ছিল হাজারও মুক্তিকামী শহীদের সুপ্ত বাসনা। কেননা এই স্বাধীনতাকে ছিনিয়ে আনতে হয়েছিল শত শহীদের প্রাণের বিনিময়ে, রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে। নয় মাসব্যাপী সেই মুক্তিযুদ্ধে মা হারিয়েছেন তাঁর ছেলেকে, স্ত্রী তার স্বামীকে আর বোন তার ভাইকে। জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমান সেদিন বাঙালি জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করতে পেরেছিলেন। মুক্তির সংগ্রামে ছেলে-বুড়ো, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকল শ্রেণি ও পেশার বাঙালিকে একই কাতারে দাঁড় করতে সক্ষম হয়েছিলেন তাঁর বলিষ্ঠ নেতৃত্বর গুণে। তিনি তাঁর বলিষ্ঠ কণ্ঠে উচ্চারণ করেছিলেন—এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। যে বাণী শুনলে আজও তরুণদের প্রাণ ত্যাগের মহিমায় দেশপ্রেমে উদ্ধুদ্ধ হয়ে ওঠে। ৭১-এর ২৬শে মার্চ থেকে সারাদেশ জুড়ে পুরোদমে শুরু হয় বাঙালিদের প্রতিরোধ। এক সাগর রক্তের বদলেই ছিনিয়ে আনতে হয়েছিল এই স্বাধীনতাকে। সে দিনের মতোই এই দিনটি বাঙালিদের জন্য ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশ গড়ার নতুন-নতুন চ্যালেঞ্জ নিয়ে প্রতি বছর আমাদের সামনে এসে হাজির হয়। তাই বিশ্ব-সমাজে আমাদের অবস্থান উন্নতকরণ এবং দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন সাধন সর্বোপরি দেশে সত্যিকারের গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা করার জন্য সর্বস্তরের মানুষকে এই স্বাধীনতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ হতে হবে। যাতে করে কখনো কোনো অগণতান্ত্রিক শাসক দেশে রাজত্ব কায়েম করতে না পারে। উল্লেখ্য যে, দেশজুড়ে এই বছরই প্রথমবারের মতো ২৬শে মার্চ সকাল ১১টায় লাখো কণ্ঠে গাওয়া হবে জাতীয় সংগীত—আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালবাসি...। জাতীয় সংগীত গাইবো, বিশ্ব রেকর্ড গড়বো—এই স্লোগানে উল্লসিত হবে দেশের ষোলকোটি মানুষ—এটাই প্রত্যাশা করি। সফল হোক এই মহতি আয়োজন। ঢাকা