‘কাঙ্ক্ষিত দেশটাকে ভালোবেসো’

আপডেট : ২৬ মার্চ ২০১৪, ২৩:২৪
কাঙ্ক্ষিত এই দেশটাকে তোমরা ভালোবেসো — নতুন প্রজন্মের প্রতি এই আহবান জানিয়ে ‘মুক্তিযুদ্ধের আলোচনা ও শিশু-কিশোরদের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেছেন, দেশে একটা নীরব যুদ্ধ চলছে। ধর্মকে ব্যবহার করে ইতিহাস বিকৃত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। গতকাল বুধবার সকালে সেগুন বাগিচায় কেন্দ্রীয় কচি-কাঁচার মেলা মিলনায়তনে স্বাধীনতা দিবস উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত এ আলোচনায় বক্তারা আরো বলেন, একটি গোষ্ঠী স্বাধীনতার অর্জনকে গুঁড়িয়ে দিতে চাইছে। এ বিষয়ে আমাদের সজাগ থাকতে হবে। নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানতে হবে, নইলে তারা বিভ্রান্তিতে পড়বে। জাতীয় প্যারেড স্কোয়ারের সঙ্গে সমবেত কণ্ঠে ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি’ গেয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। মেলার সভাপতি খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর জেনারেল (অবঃ) জীবন কানাই দাস। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মুক্তিযোদ্ধা শিরিন বানু মিতিল। শিশু প্রতিনিধি সৌহার্দ্য, কচি-কাঁচার মেলার সাধারণ সম্পাদক আলপনা চৌধুরী, মেলার সহযোগী সদস্য রাশেদুন হাসান জুনায়েদও বক্তব্য রাখেন। বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর জেনারেল (অবঃ) জীবন কানাই দাস বলেন, মুক্তিযুদ্ধে যাওয়ার জন্য যখন ইন্টারভিউ হচ্ছে, তখন প্রশ্ন করা হয়েছিল তুমি যুদ্ধে যেতে চাইছো তোমার বাবা-মা কী জানেন — আমি বলেছিলাম, বাবা-মা জানেন না কিন্তু আমার আরেক মা ডেকেছে, সে মায়ের কথা ফেলি কি করে? দেশ মায়ের কথাই সেদিন বলেছিলাম। কাঙ্ক্ষিত দেশটিকে ভালোবাসার জন্য তিনি নতুন প্রজন্মের প্রতি আহবান জানান। খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ বলেন, একটি গোষ্ঠী স্বাধীনতার অর্জনকে গুঁড়িয়ে দিতে চাইছে। তারা ঘুমপাড়ানি গান গেয়ে আমাদের ঘুম পাড়িয়ে দিতে চায়। আমাদের দেশে যেমন দেশ প্রেমিক আছে, তেমনি মীরজাফর, রাজাকারও আছে। মুক্তিযোদ্ধা শিরিন বানু মিতিল বলেন, দেশে ধর্মকে ব্যবহার করে, ইতিহাস বিকৃত করার একটা নীরব যুদ্ধ চলছে। নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস না জানাতে পারলে তারা বিভ্রান্তিতে পড়বে। আলোচনা শেষে পড়শী সাহা’র উপস্থাপনায় একটি মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।