জাতীয় সঙ্গীতে কণ্ঠ মেলালেন প্রবাসীরা

আপডেট : ২৬ মার্চ ২০১৪, ২৩:৩০
শুধু বাংলাদেশেই নয়। পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বাংলাদেশিরা গতকাল বুধবার ‘লাখো কণ্ঠে জাতীয় সঙ্গীত’ কর্মসূচি পালন করেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান প্রধান নগরী, জাপান, পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশ থেকে এ খবর পাওয়া যায়। ওয়াশিংটন ডিসি থেকে বাংলাদেশ দূতাবাস জানায়, নিউইয়র্ক, হিউস্টন, টেক্সাস, শিকাগো, ইলিনয়, লস এঞ্জেলস এ বসবাসরত প্রবাসীরা বাংলাদেশের সময়ের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে মধ্যরাতে সমবেত হয়ে জাতীয় সঙ্গীত গায়। ওয়াশিংটন ডিসিতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আকরামুল কাদের ও তার পত্নী রিফাত সুলতানা আকরাম যোগ দেন। নিউইয়র্ক থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ প্রতিনিধি জানান, মহান স্বাধীনতা ও দেশপ্রেমের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে ঢাকায় লাখো কণ্ঠের সঙ্গে জাতীয় সঙ্গীত গাইলেন নিউইয়র্ক প্রবাসী বাংলাদেশিরা। হিমাঙ্কের নিচের তাপমাত্রা ও তুষারপাত উপেক্ষা করে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১টা ২০ মিনিটে বিপুল প্রবাসী জড়ো হন প্রবাসী বাংলাদেশি অধ্যুষিত জ্যাকসন হাইটসের ডাইভারসিটি প্লাজায়। তাদের সবার হাতে ছিল লাল-সবুজের বাংলাদেশের পতাকা, স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের স্লোগান লেখা ফেস্টুন ও প্লাকার্ড। টিভিতে দেখে ঢাকার লাখো কণ্ঠের সঙ্গে তারাও গেয়ে ওঠেন ‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালবাসি’। হারমনিয়াম ও তবলার সুরে জাতীয় সঙ্গীতের নেতৃত্ব দেন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী শহীদ হাসান ও রথীন্দ্রনাথ রায়। এর আগে ২৫ মার্চ কালরাতের শহীদদের স্মরণে মোমবাতি প্রজ্বলন করা হয়। এসময় ২৫ মার্চকে আন্তর্জাতিক গণহত্যা দিবস হিসাবে স্বীকৃতি আদায়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জাতিসংঘ বরাবরে প্রস্তাব পেশ করার দাবি জানানো হয়। এ ব্যাপারে বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশ দূতাবাস ও হাইকমিশনকে আহ্বান জানানো হয় সক্রিয় ভূমিকা পালনের। অনুষ্ঠানে ৭২-এর সংবিধান পুনঃপ্রতিষ্ঠা, দ্রুত যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্পন্ন করা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টকারীদের গ্রেপ্তার এবং যুদ্ধাপরাধ মামলার ভিকটিম ও সাক্ষীদের নিরাপত্তা আইন প্রণয়নেরও দাবি জানানো হয়। অনুষ্ঠানে লিখিত এসব প্রস্তাবনা পাঠ করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. প্রদীপ রঞ্জন কর। জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ড. এ কে আব্দুল মোমেন, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার নূরনবী, গোলাম মোস্তফা খান মেরাজ, খুরশীদ আনোয়ার বাবলু, শরাফ সরকার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। পাকিস্তানের ইসলামাবাদে গতকাল সকালে লাখো কণ্ঠে সোনার বাংলা কর্মসূচি পালন করে বাংলাদেশ হাইকমিশন। বাংলাদেশের হাইকমিশনার সোহরাব হোসেনের নেতৃত্বে কর্মসূচিতে যোগ দেন হাইকমিশনের কর্মকর্তা, কর্মচারী ও ইসলামাবাদে বসবাসরত বাংলাদেশি নাগরিকগণ। এর আগে চ্যান্সারীতে স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। জাতীয় পতাকা উত্তোলন ছাড়াও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। সন্ধ্যায় স্থানীয় একটি হোটেলে আয়োজিত সংবর্ধনায় পাকিস্তান সরকারের মন্ত্রী, রাজনীতিক, কূটনীতিক, ব্যবসায়ী, সাংবাদিক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ যোগ দেন। জাপানের টোকিওতে বাংলাদেশ দূতাবাস স্থানীয় একটি হোটেলে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে সংবর্ধনার আয়োজন করে। রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন সকালে দূতাবাস প্রাঙ্গণে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। সংবর্ধনায় জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাইস মিনিস্টার সেইজি কিহারা, বাংলাদেশ-জাপান পার্লামেন্টারি লীগের সাধারণ সম্পাদক ইচিরো সুকাদাসহ রাজনীতিক, ব্যবসায়ী, কূটনীতিক, বিশিষ্ট নাগরিক ও প্রবাসীরা যোগ দেন। পরে দুপুরে বাংলাদেশ সময়ের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে লাখো কণ্ঠে সোনার বাংলা কর্মসূচি পালন করা হয়।