আস্থা ফেরাতে চায় বাংলাদেশ

আপডেট : ২৭ মার্চ ২০১৪, ২৩:০৫
পৃথিবীর আর সব দলের মতো বাংলাদেশ দলের অনুশীলন স্থলে গেলে হাসি-ঠাট্টা, খুনসুটি, মজার স্বাদটা পাওয়া যেত। দীর্ঘ ক্লান্তিকর ক্রিকেট খেলার মাঝে একটু বৈচিত্র্য আনতে ক্রিকেটাররাই আবিষ্কার করেন নিত্যনতুন মজার কৌশল। কিন্তু সব আনন্দ, হাসি যেন কোথায় হারিয়ে গেছে। গতকাল মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের অ্যাকাডেমি মাঠে অনুশীলন করতে থাকা বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়দের দেখে এক ঝাঁক যন্ত্র বলে ভাবলেও ভুল হবে না। মাথার ওপর গনগনে সূর্যের নিচে কালো মুখ, নির্জীব চেহারা নিয়ে ছুটে চললেন খেলোয়াড়রা! এই খেলোয়াড়দের প্রতিনিধি হয়ে সংবাদ সম্মেলনে আসা মাশরাফি বিন মুর্তজাকে দেখে আরও চমকে উঠতে হল। চোখে মুখে যেন নিদ্রাহীনতার ছাপ, মুখে ধসে পড়া একটা অভিব্যক্তি। তারপরও মাশরাফি সেই ছায়াঢাকা মুখ নিয়েই বললেন, ‘আমি আশাবাদী। আমি আশাবাদী, আমরা লড়াইতে ফিরতে পারবো। আর লড়াই করলে ম্যাচও জেতা সম্ভব।’ এই আশা নিয়ে আজ সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা থেকে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সুপার টেনে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে ভারতের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। ইতিমধ্যে দুই ম্যাচ জিতে ফেলা ভারতের আজ লক্ষ্য হবে বাংলাদেশের বিপক্ষে জয় নিয়ে সেমিফাইনালের পথে এক পা বাড়িয়ে ফেলা। গতকাল তাদের দলের প্রতিনিধি হয়ে সংবাদ সম্মেলনে আসা রোহিত শর্মা বলেও গেলেন যে, সেই লক্ষ্যে নিজেদের সেরা খেলাটা উপহার দিতে প্রস্তুত হচ্ছেন তারা। বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের মনে অবশ্য এরকম কোনো সমীকরণ খেলার কথা না। যদিও মাত্রই এক ম্যাচ হারা বাংলাদেশের কাগজে কলমে খুবই সম্ভব বাকি তিন ম্যাচে জয় নিয়ে সেমিফাইনালের জন্য লড়াইয়ে চলে আসা। কিন্তু দলের সর্বশেষ কয়েক ম্যাচে যে পারফরম্যান্স, তাতে খেলোয়াড়রাও এমনটা আর বিশ্বাস করবেন কি না সন্দেহ। সেই সন্দেহটা আরও স্পষ্ট হয় খেলোয়াড়দের শরীরি ও মুখের ভাষায়। কয়েক মাস আগেও যেখানে বাংলাদেশ জয় ছাড়া অন্য কিছুতে সন্তুষ্ট থাকতো না, এই কয়েকটা হার সেখানে বাংলাদেশের এখন প্রধান চাওয়া ‘ভালো খেলা’ করে দিয়েছে। মাশরাফি নিজেও বারবার বললেন, আগে ভালো খেলে আত্মবিশ্বাস ফেরানোটাই লক্ষ্য তাদের। গত ম্যাচেই দলে চারটি পরিবর্তন আনা বাংলাদেশ সে লক্ষ্যে আজও একাদশে কিছু পরিবর্তন আনবে বলেই জানা গেছে। অন্তত মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের সেরা একাদশ থেকে ছিটকে পড়াটা একরকম নিশ্চিত। জয়ের জন্য নানা টোটকার সন্ধানে থাকা বাংলাদেশ দল আজ আরেকটু ব্যাটিং সহায়ক উইকেট আশা করবে। সেটা পাওয়া যাবে কি না, তা অনেক কিছুর ওপর নির্ভরশীল। উইকেট স্বভাবতই ধীর গতির ও টার্নিং হবে মিরপুরে; দ্বিতীয় ইনিংসে যা আরও ধীর, আরও স্পিন সহায়ক হয়ে উঠবে। বাংলাদেশের জন্য ভরসার কথা একটাই, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এখনও পর্যন্ত অন্তত শিশির জমে স্পিনারদের জন্য বিপদ তৈরি করছে না। কিন্তু শিশিরহীনতার ভরসা পাওয়ার আগে খেলোয়াড়দের নিজেদের কিছু করতে হবে।