মজার বিষয়

অমর জেলিফিশ

আপডেট : ২৮ মার্চ ২০১৪, ২০:০৩
সাগরের চিরঅন্ধকারাচ্ছন্ন গভীরে অনেক বেশি বৈচিত্র্যময় প্রাণী বাস করে। সাগরতল থেকে ওঠা তেল খেয়ে সেখানে আলোকোজ্জ্বল জেলিফিশ, টিউবওয়ার্মের মতো প্রাণীরা বিচরণ করে যারা এত দিন ছিল মানুষের অগোচরে। গভীর সমুদ্রের এইসব বিস্ময়কর প্রাণীর মধ্যে একটি নাম হলো জেলিফিশ। যার নাম শুনলেই নরম তুলতুলে কিছুর কথা মাথায় আসে। সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো জেলিফিশ নাম হলেও এটি কিন্তু প্রকৃতপক্ষে কোনো মাছ নয়। আমাদের পৃথিবীতে যত প্রাণী আছে, তাদেরকে মোটামুটি ৯টি পর্বে ভাগ করা হয়েছে। এদের মধ্যে একটি পর্ব হলো ‘নিডারিয়া’। এই নিডারিয়া পর্বের হাইড্রোজোয়া শ্রেণীর প্রাণী হলো জেলিফিশ। আরেকটি মজার তথ্য হলো সম্প্রতি এমন এক প্রজাতির জেলিফিশ পাওয়া গেছে যা যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘অমর জেলিফিশ’। প্রাণীটির নাম টিউরিটপসিস নিউট্রিকুলা। এই প্রজাতির জেলিফিশের জীবনচক্রে দুটি ধারা রয়েছে, পলিপয়েড বা অপরিণত এবং মেডুসা বা পরিণত পর্যায়। অন্য সব জেলিফিশ যেখানে পলিপয়েড থেকে মেডুসার দিকে যায়, মাত্র ৪-৫ মিলিমিটারের টিউরিটপসিস নিউট্রিকুলা ঠিক উল্টো দিক থেকে এর জীবনচক্র শুরু করে। অনেকটা জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত না গিয়ে উল্টো পথে চলতে শুরু করে। প্রতিটি প্রাণীর মতোই এর দেহও কোষ দিয়ে তৈরি। অন্য প্রাণীদের দেহকোষ যেখানে পরিবর্তিত হতে কয়েক মাস থেকে কয়েক বছর লেগে যায়, সেখানে এই জেলিফিশের ক্ষেত্রে এটি মাত্র কয়েক ঘণ্টার কাজ। এর শরীরের অপরিণত বা অকার্যকর কোষগুলো পরিণত দেহকোষে রূপান্তরিত হওয়ার পাশাপাশি উল্টো ব্যাপারটিও ঘটতে থাকে। ফলে মেডুসা থেকে পলিপয়েড হয়ে আবারও মেডুসায় ফিরে যায় টিউরিটপসিস নিউট্রিকুলা জীবনচক্রের মেডুসা ধারায় থাকার সময় এটি দেখতে একটি ঘণ্টার মতো, আস্তে আস্তে পলিপয়েড ধারার দিকে যেতে থাকে, আকৃতি ছোট হতে থাকে এবং এক সময় মাত্র ১ মিলিমিটার বিশিষ্ট জেলিফিশে রূপান্তরিত হয়। এ সময়ে এদের শরীরে নরম অস্থিবিহীন শুঁড়ের সৃষ্টি হয়। কোনো কোনোটাতে আটটি পর্যন্ত শুঁড় দেখা যায়। এই শুঁড়গুলো আবারো এক পর্যায়ে এসে মেডুসায় রূপ নেয়। ফলে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় আপাতদৃষ্টিতে এদের মৃত্যু নেই। তাই বলে এরা যে মৃত্যুর ধরাছোঁয়ার বাইরে তা কিন্তু নয়।