জানার আছে

ব্ল্যাক বক্স কিন্তু কালো নয়

আপডেট : ২৮ মার্চ ২০১৪, ২০:০৩
উড়োজাহাজের ব্ল্যাক বক্সের নাম আমরা সবাই শুনেছি। বিশেষ করে যখন কোনো বিমান বিধ্বস্ত হয় তখন বিমানটির দুর্ঘটনার কারণ উদ্ঘাটনের জন্য ওই বিমানের ব্ল্যাক বক্স খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ব্ল্যাক বক্সের নাম যাই হোক না কেন জিনিসটা দেখতে ঝকঝকে রঙের ভীষণ মজবুত এবং অসীম সহনশীল পদার্থের তৈরি এই বাক্সটা আসলে দুই ধরনের ডাটা-রেকর্ডারের সমন্বয়ে তৈরি একটি সিঙ্গেল ইউনিট। বিমানের যাত্রাকালীন সময়ের বিভিন্ন তথ্য যেমন, বিমানের কর্মীদের সাথে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের কথাবার্তা, এসব কিছু নিজের রেকর্ডিং সিস্টেমে জমা করতে থাকে। এদের রং সাধারণত লাল অথবা কমলা রঙের হয় যাতে দুর্ঘটনার পর সহজেই খুঁজে পাওয়া যায়। এই ব্ল্যাক বক্সের আবিষ্কারক হলেন ডেভিড ওয়ারেন। ব্ল্যাক বক্স (ফ্লাইট ডাটা রেকর্ডার) এক্সেলারেশন, এয়ারস্পিড, ফ্লাপ সেটিংস, বাহ্যিক তাপমাত্রা, কেবিন তাপমাত্রা ও চাপ, ইঞ্জিনের কার্যকলাপ, প্রায় ১০০ ধরনের তথ্য রেকর্ড করে। ককপিটের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অংশে মাইক্রোফোন বসানো থাকে যেগুলোর মাধ্যমে সব ধরনের শব্দ ব্ল্যাক বক্সে সংরক্ষিত হয়। ব্ল্যাক বক্স বিশেষ ধরনের সংকেত প্রেরণ করে যা কয়েক কিলোমিটার দূর থেকেও রিসিভ করা যায়। কোনো বিমান বিধ্বস্ত হয়ে সমুদ্রে নিমজ্জিত হলে এই সংকেতের মাধ্যমে সন্ধান করা হয়। ব্ল্যাক বক্সের ব্যাটারি শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই সংকেত প্রদান চলতে থাকে। এছাড়াও ব্ল্যাক বক্সগুলো এমনভাবে প্রস্তুত করা হয় যে উচ্চমাত্রার তাপ ও চাপ এর কোনো ক্ষতি করতে পারে না। বিমানের যেকোনো ধরনের তথ্য পাওয়ার জন্য অত্যন্ত দরকারি যন্ত্রাংশই বটে!