সেরাদের সেরা যারা

ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক

আপডেট : ২৮ মার্চ ২০১৪, ২০:০৩
এপ্রিল ২৩, ১৮৫৮। জার্মানির হলস্তেইন শহরে জন্ম গ্রহণ করেন জোহান জুলিয়াস উইলহেম প্ল্যাঙ্ক এবং তার দ্বিতীয় স্ত্রী এমা প্যাটযিগের চতুর্থ সন্তান কার্ল এমাট লুডউইক মার্কস প্ল্যাঙ্ক। শতাব্দীর সবচেয়ে আলোচিত এই ভবিষ্যত্ নক্ষত্র নিজ বয়স ১০ হওয়ার সময়ই সম্পূর্ণ স্বেচ্ছায় নিজের নামের প্রথম সাইনটিতে লেখেন, ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক! আর এই উজ্জ্বল নক্ষত্রই একটা সময় আবিষ্কার করেন কালজয়ী কোয়ানটাম থিওরি। বিখ্যাত এই তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানীর অনেক অবদান রয়েছে, কিন্তু বিশ্ব দরবারে তার খ্যাতি আসে কোয়ান্টাম তত্ত্বের জন্মদাতা হিসেবে। ২০ শতকের পদার্থবিজ্ঞানের মৌলিক তত্ত্ব গঠন করতে আলবার্ট আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতা তত্ত্ব, স্থান এবং সময় বোঝার বৈপ্লবিক সূচনা যেমন, পারমাণবিক এবং অতিপারমাণবিক প্রসেসের গঠনের সাথে সমন্বয় করে এক নতুন পদার্থ বিদ্যার সৃষ্টি করেন এই বিজ্ঞানী। ছোটবেলা থেকেই প্ল্যাঙ্ক ছিলেন শান্ত ও চিন্তাশীল। মন, মনন এবং মেধার ক্রমবিকাশের সাথে সাথে তিনি বেড়ে ওঠেন বিজ্ঞান ও জানার জগতের পরিমণ্ডলের মাঝে। ১৮৬৪ সালে দ্বিতীয় স্কলসউইগ যুদ্ধের সময় প্রুশিয়ান এবং অস্ট্রিয়ান সৈন্যদের মাঝেও ছিলেন তিনি। ১৮৬৭-তে প্ল্যাঙ্ক হারমান নোড়া নামক একজন গণিতবিদের অভিভাবকত্বের অধীনে আসেন যেখানে মাক্সিমিলিয়ান্স স্কুলে নাম নথিভুক্ত করা হয় তার এবং তাকে শেখান হয় জ্যোতির্বিদ্যা, বলবিজ্ঞান ও গণিত। ১৭ বছর বয়সে তিনি সম্পন্ন করেন তার স্নাতক। সর্বপ্রথম শক্তির নিত্যতা নীতির যথাযথ প্রমাণ এবং পরীক্ষার মাধ্যমে তিনি সংস্পর্শে আসেন পদার্থবিজ্ঞানের। মাক্স প্ল্যাঙ্ক ছিলেন বহুবিধ প্রতিভার অধিকারী। গান গাওয়া, পিয়ানো বাজানোসহ বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র বাজাতে শেখা এবং অপেরা অভিনয়েও তিনি ছিলেন বেশ পারদর্শী। তবে এই সব কিছুর পরিবর্তে তিনি পদার্থবিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা এবং গবেষণা করাকেই বেছে নেন। ১৮৭৭ সালে তিনি তত্কালীন পদার্থবিদদের মাঝে অন্যতম হারমান ভন, গুস্তাভ এবং গণিতবিদ কার্লের সঙ্গে অধ্যয়নের জন্য একটি বছর বার্লিনে থাকেন। তাদের সান্নিধ্যে থেকেই তিনি শুরু করেন তার যুগান্তকারী গবেষণার প্রথম ধাপ। অক্টোবর ১৮৭৮ সালে প্ল্যাঙ্ক তার কোয়ালিফাইং পরীক্ষা পাস করেন এবং ফেব্রুয়ারি ১৮৭৯ সালে, তিনি প্রকাশ করেন তার প্রথম গবেষণাধর্মী বই ‘তাপগতিবিদ্যার দ্বিতীয় আইন’ এবং জুন ১৮৮০ সালে তিনি বিভিন্ন তাপমাত্রার আইসোট্রপিক সুস্থিতি ও কপার আইসোট্রপার অর্পিত থিসিস উপস্থাপন করেন। এই যুগান্তকারী আবিষ্কারের ফলে ১৯১৮-তে পদার্থ বিজ্ঞানে নোবেল পান বিজ্ঞানী ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক। ১৯৪৭-এর ৪ অক্টোবর পদার্থবিদ্যার এই মহানায়ক শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।