মেঘ কেন সাদা দেখায়
আমরা জানি, ভূ-পৃষ্ঠের পানি বাষ্প হয়ে উপরে উঠে ধীরে ধীরে শীতল হয়ে যায়। তখন এই বাষ্প অনেক প্রসারিত হয় এবং ছোট ছোট ফোঁটায় পণিত হয়। মেঘ সাদা দেখার মূল কারণ হলো এই বাষ্পের ফোঁটা। কেননা, আকাশ নীল দেখানোর কারণ, সাতটি আলোর মধ্যে একমাত্র এই আলোটিই ভূ-পৃষ্ঠের বায়ুস্তর ভেদ করে আমাদের চোখে প্রবেশ করতে পারে। কিন্তু মেঘের মধ্য দিয়ে সবগুলো আলোকরশ্মিই সমানভাবে প্রবেশ করে আমাদের চোখে এসে পৌঁছায়। এই কারণে আমরা সবগুলো আলোর সমষ্টিগত ‘সাদা’ রংটাই দেখতে পাই। কিন্তু আরেকটি প্রশ্ন হলো—ঝড়ের সময় মেঘ কালো দেখায় কেন? এর কারণ—খুব ঘন মেঘ থেকেই বৃষ্টি হয়ে থাকে। সেক্ষেত্রে সূর্যের আলোকরশ্মি এই ঘন স্তর দিয়ে পৃথিবীতে আসতে পারে না। আসলে তখনও মেঘ কালো হয়ে যায় না, কিন্তু সূর্যালোক ভূ-পৃষ্ঠে আসতে পারে না বলে চারপাশ কালো দেখায়।
সবচেয়ে বেশি উপগ্রহ
সৌরজগতের গ্রহের মধ্যে সবচেয়ে বেশি উপগ্রহ রয়েছে বৃহস্পতির। প্রায় ৬৪টি আবিষ্কৃত এবং আরও বহু অনাবিষ্কৃত উপগ্রহ রয়েছে এই গ্রহটির। আমাদের সৌরজগতের গ্রহগুলোর মধ্যে কেবল বুধ এবং শুক্রের কোনো উপগ্রহ নেই। বৃহস্পতির ৬৪টি, শনির ৬২টি, ইউরেনাসের ২৭টি, নেপচুনের ১৩টি, মঙ্গলের দুটি, পৃথিবীর একটি এবং প্লুটোর ৪টি উপগ্রহ রয়েছে। প্লুটোই একমাত্র বামন গ্রহ যেটির কোনো প্রাকৃতিক উপগ্রহ রয়েছে।
মহাশূন্য কাল দেখায় কেন?
ষোড়শ শতকে টমাস ডিগিগ নামক এক বিজ্ঞানী বলেন যে, মহাবিশ্বের আকার অসীম পর্যন্ত, বহু বহু বছরের পুরোনো এবং তারায় ভরা। এখনকার দিনে যে কেউ এই কথা শুনে হেসে থাকবেন। কারণ, এমনটা হলে রাতের আকাশও সূর্যের কারণে উজ্জ্বল দেখা যেত আর, আর তার আলোয় তারাদেরকে দিনের আলোতেও দেখা যেত। কিন্তু এই ধারণা পরবর্তীতে দূর হয়ে যায়—যখন জানা যায় মহাবিশ্ব বর্ধনশীল। আর উচ্চ থেকে নিম্ন শক্তিস্তরে এটি প্রায়ই যাতায়াত করে থাকে। তাই, একটি গ্রহ যতটা দূরেই থাকুক না কেন, তার আলোর অধিক প্রসারণের কারণে মহাশূন্যকে অধিকাংশের কাছেই কালো বলে মনে হয়।
হিমায়িত ব্যাঙ
ব্যাঙের শীত নিদ্রার কথা আমরা অনেকেই জানি। তবে উত্তর আমেরিকার ‘উড ফ্রগ’নামের এক শ্রেণীর ব্যাঙ এই অবস্থাকেও ছাড়িয়ে শীতে কোনো ক্ষতির সম্মুখীন না হয়ে হূদস্পন্দন ও নড়াচড়া ছাড়াই বরফের মতো কঠিন অবস্থায় থাকতে পারে। এ সময়ে তাদের ব্রেনেও কোনো কাজ চলে না। কিন্তু মানুষের দেহ যদি একইভাবে বরফে জমানো যায়, তাহলে ভয়াবহ রোগের সৃষ্টি হবে। আর এই উড ফ্রগের ক্ষেত্রে তাদের লিভারে সৃষ্ট একধরনের গ্লুকোজ শরীরে ইনজেক্ট করার কারণে তারা এই ক্ষতি থেকে রক্ষা পেয়ে থাকে। তাদের শরীরের সমস্ত পানি বরফ হয়ে যায়। কিন্তু এই গ্লুকোজ তাদের ঠাণ্ডাজনিত রোগ থেকে বাঁচায়। শীত কমে গেলে তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ার সাথে সাথে ব্যাঙের শরীর থেকে বরফও গলে যায়। প্রায় বিশ মিনিট পরে ব্যাঙগুলো স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে।
প্লানেট-এক্স কি বাস্তব?
অনেক আগ থেকেই ধারণা করা হয়েছিল ২০১২ নাগাদ পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে। কৃষি বিজ্ঞানী এর পেছনে কারণ উল্লেখ করেছিলেন, আমাদের সৌরজগতের মধ্যেই প্লানেট-এক্স নামের পৃথিবীর মতো আরেকটি গ্রহ রয়েছে। যেটির সাথে পৃথিবীর মারাত্মক সংঘর্ষ বাঁধার ফলে পৃথিবীর এ অবস্থা হবে। কিন্তু বাস্তবে এমন কোনো গ্রহের অস্তিত্ব থাকার সম্ভাবনা শূন্যের কোটায়। যদি পৃথিবীর সাথে সংঘর্ষকারী এমন কোনো গ্রহের খোঁজ পাওয়াই যায়, তাহলে সেটিকে অনেকদূরে থেকেই নির্ধারণ করে সমস্যা এড়ানো সম্ভব হবে।
স্ফিংস রহস্য
অধিকাংশ মিশরগবেষকগণ মনে করেন গিজার দ্বিতীয় পিরামিড, বিখ্যাত স্ফিংস কিং কাফ্রে (অথবা সিফ্রেন) নিমার্ণ করেন। ২৫৫৮-২৫৩২ খ্রিস্টপূর্ব পর্যন্ত তার শাসনচলাকালীন এই বিখ্যাত পিরামিডটি তৈরি হয় বলে ধারণা করা হয়। অনেকে মনে করেন, এই পিরামিডটি প্রাথমিকভাবে কোনো পিরামিড তৈরির উদ্দেশ্য নিয়ে করা হয়নি। প্রথমে একটি সিংহের ভাস্কর্য নির্মাণ করাই ছিল উদ্দেশ্য। পরবর্তীতে কাফ্রের অন্যান্য গঠনগুলো যুক্ত করা হয়। এই মানুষ এবং পশুর যৌথরূপ ফারাওয়ের মহা শক্তির কথাই প্রকাশ করে। স্ফিংস এটাই প্রকাশ করে যে, কিং পৃথিবীর ভালো করার জন্যই আছেন। আর স্ফিংস কিংয়ের সমাধি পাহারা দেওয়ার জন্য রয়েছে।
গ্রন্থনা সাইফুল ইসলাম জুয়েল
