নাচই তার প্রথম ভালোবাসা। নাচের পাশাপাশি অভিনয়, মডেলিং, গান, আবৃত্তিতে পারদর্শী তিনি। কয়েকবার জাতীয় পর্যায়ে পুরস্কারের পাশাপাশি পেয়েছেন একাধিক সম্মাননা। তিনি মোবাশ্বিরা নুজহাত তাসনিয়া উপ্তি। অনেক গুণে গুণান্বিত ও সফল এই তরুণী এই বছরে ক্যামব্রিয়ান স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছেন মাত্র। জাতীয়, বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে ২৪৫টি পুরস্কার ঘরে তোলা এই তরুণীকে নিয়ে লিখেছেন আহসান রনি, ছবি তুলেছেন দীপঙ্কর দীপু
২০০৫ সালে অভিনয়ের জন্য নতুন কুঁড়িতে প্রথম জাতীয় পুরস্কার পান। এরপর কত্থক ও রবীন্দ্র নাচের জন্য ২০০৭ সালে নতুন কুঁড়িতে জাতীয় পুরস্কার পান তিনি। ২০০৮ সালে মণিপুরি ও ফোক নাচে জাতীয় পর্যায়ে দ্বিতীয় হন এই তরুণী। সেই বছরই একক অভিনয়ের জন্য জাতীয় পুরস্কার পান। পরের বছর কনট্যাম্পোরারি, ফোক ও কত্থক নাচে সর্বমোট ২৪৫টি পুরস্কার পান এই প্রতিভাময়ী তরুণী। এর মধ্যে ১৭টি জাতীয় পর্যায়ে ও ২টি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে। এই সময়েই তিনি রাজশাহী রেডিওর জন্য গায়িকা ও আবৃত্তিকার হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। একমাত্র ভাই রুবায়েত হাশেম সর্জ্জনের চেষ্টাতেই ৪ বছর আগে থেকে নাচ শুরু করেন। প্রথম শিক্ষক কবীর খানের অধীনে নাচ শিখতে থাকেন ঈশ্বরদীতে। এরপর অ্যাডভোকেট আশফিয়া জেবিন রিংকু, সাজু আহমেদ, ওয়াসেক রহমান, মনিরুল ইসলাম মুকুল, আমিরুল ইসলাম মণিসহ আরও অনেকের কাছে নাচ শেখেন তিনি।
মোবাশ্বিরা নুজহাত তাসনিয়া উপ্তি বিটিভিতে প্রচারিত শিশুদের জন্য নির্মিত মেগা সিরিয়াল ‘রূপকথার দেশে’-এর প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি। এছাড়া এটিএন বাংলার জন্য নির্মিত ‘রাজুর রাজহাঁস’-এ অভিনয় করেন এই তরুণী অভিনেত্রী। বর্তমানে তিনি ‘বাইশে আষাঢ়’ নামে একটি নাটকে অভিনয় করছেন। মডেলিংয়েও কম যান না তিনি। বসুধা বারিধারা ও ইউনিসেফের বিজ্ঞাপনে মডেল হয়েছেন তিনি। মোবাইল কোম্পানি রবির ২০১২ সালের প্রেস ও বিলবোর্ডের প্রধান চরিত্র ছিলেন তিনি। তিনি বর্তমানে কয়েকটি প্রথম সারির ফ্যাশন হাউসের হয়ে কাজ করছেন। উপ্তি জানালেন, ২০১৩ সালে তিনি একটি প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে ভারতে যান এবং ৩০টি দেশের মধ্যে ২য় হন। প্রচুর মানুষ তার অটোগ্রাফ নিতে আসে; যা তার জন্য অনেক মজার অভিজ্ঞতা। তাকে পড়াশোনার পাশাপাশি এসব নানা ধরনের কাজ করার কারণে প্রচুর পরিশ্রম করতে হয়। শিক্ষকরা তাকে নানা কাজে প্রচুর সাহায্য করেন বলে জানালেন তিনি।
মোবাশ্বিরা নুজহাত তাসনিয়া উপ্তি তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশ্যে বললেন, ‘তরুণ প্রজন্মের উচিত তাদের কাজ গুরুত্বের সাথে করা।’ নিজের দেশকে অন্য সব কিছুর সামনে দেখতে চান উপ্তি। তিনি বললেন, ‘আমার স্বপ্ন আমি দেশের প্রতিটি স্তর থেকে দুর্নীতি দূর করা। একজন সফল নৃত্যশীল্পির পাশাপাশি একজন সফল মানুষ হতে চাই।’
মা আর ভাইকে নিয়ে দিন কাটে উপ্তির। বাবাকে হারিয়েছেন ছোটবেলায়। বড় ভাই আর মায়ের কাছ থেকেই পেয়েছে সব অনুপ্রেরণা। উপ্তির বড় ভাই রুবাইয়াত্ হাশেম সর্জ্জন বলেন, ‘জীবনের প্রথম প্রতিযোগিতামূলক অনুষ্ঠান নতুন কুঁড়িতে অংশ নেওয়ার সময় উপ্তিকে সবার প্রথমে পারফর্ম করতে হয়। ফলাফলে দেখি উপ্তির নামই সবার ওপরে।’
উপ্তি জানান, বর্তমানে এসএসসি পরীক্ষার কারণে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে আছেন তিনি। তবে তার কাজ থেমে নেই। বিভিন্ন ফ্যাশন হাউসের জন্য ফটোশুটে কাজ করছেন এই প্রতিভাময়ী। ভবিষ্যতে এই মাধ্যমেই নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চান তিনি।
