মনোহরগঞ্জে রুরাল এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড রোড মেইনটেন্যান্স (আরইআরএমপি-২) প্রকল্পের শতাধিক নারী শ্রমিক সাত মাসেও তাদের সঞ্চয়ী হিসাবে জমাকৃত টাকা পাচ্ছেন না।
প্রায় সাত মাস আগে প্রকল্পটির মেয়াদ শেষ হলেও সঞ্চয়ের টাকা না পাওয়ায় হতাশ এ শ্রমিকদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। জানা গেছে, উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে এ প্রকল্পের আওতায় রাস্তা মেরামতের কাজ করতেন ১১০ জন নারী শ্রমিক। প্রতিদিন সকালে কোদাল ও টুকরি হাতে নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় রাস্তা মেরামতই ছিল তাদের কাজ। সারাদিন হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে বেতনের খাতায় যোগ হতো ১৫০ টাকা। তারমধ্যে ৫০ টাকা সঞ্চয়ী হিসেবে জমা হতো। চার বছর চুক্তিভিত্তিক উক্ত প্রকল্পের মেয়াদ গত ১৫ এপ্রিল শেষ হলেও কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় সাত মাস ধরে আটকে আছে তাদের সঞ্চয়ের টাকা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকেই জানান, উপজেলা এলজিইডি অফিসে বার বার ধর্ণা দিয়েও সঞ্চয়ের টাকা পাওয়ার নিশ্চয়তা মিলছে না। উপার্জনের একমাত্র অবলম্বন রাস্তায় মাটি কেটে যা পাওয়া যেতো তা দিয়েই চলতো তাদের সংসার। ঘামঝরা পরিশ্রমে দীর্ঘ চার বছর ধরে তিল তিল করে জমানো টাকা আর কতো মাস পর মিলবে এ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করছেন তারা। এ প্রকল্পের বিপুলাসার ইউপির দলনেত্রী মালেকার সাথে কথা হলে তিনি জানান, মহিলাদের রাস্তায় কাজ করা দেখতে অনেকটা অসম্মানজনক। সমাজ এটাকে ঘৃণার চোখে দেখে, তবুও জীবিকা নির্বাহের তাগিদে বাধ্য হয়েই কাজ করছে তারা। তিনি জানান, গত চার বছর এ প্রকল্পে কাজ করে সঞ্চয় হিসাবে জমা হয়েছে প্রায় ৭৪ হাজার টাকা। সঞ্চয়ের এ টাকা পেলে পুঁজি হিসাবে কাজে লাগিয়ে স্বাবলম্বী হতে চান তিনি।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী আল আমিন সরদারের সাথে কথা হলে তিনি জানান, শিগগিরই ওই প্রকল্পের কর্মীরা বেতন পেয়ে যাবেন। এলজিইডি কুমিল্লার নির্বাহী প্রকৌশলী সোহরাব হোসেনের সাথে এ বিষয়ে কথা হলে তিনি জানান, উক্ত প্রকল্পে কর্মরত নারী শ্রমিকদের সঞ্চয়ের টাকা প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
