বছর দশেক আগের কথা। লর্ডসের নার্সারি গ্রাউন্ডে এক ওভারে ৫৫ রান তুললেন ১৫ বছর বয়সী এক ক্ষুদে ব্যাটসম্যান। তিন ‘নো’ বলের সেই ‘অস্বাভাবিক’ তাণ্ডবের সুবাদেই আসলো জয়।
সেই এক ঘটনাই পাল্টে দিল অ্যালেকজান্ডার ড্যানিয়েল হেলসের জীবন। ফাস্ট বোলার থেকে হয়ে উঠলেন পুরোদস্তুর একজন ব্যাটসম্যান। আর সেই ব্যাটসম্যান হয়ে ওঠার চূড়ান্ত রূপটা দেখা গেল গত বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। ইংল্যান্ডকে ৭০তম আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচে এসে উপহার দিলেন প্রথম সেঞ্চুরি। আর তার অতিমানবীয় ১১৬ রানের ইনিংসের কাছেই বাংলাদেশের মাটিতে টানা ১৪টা আন্তর্জাতিক ম্যাচ অপরাজিত থেকে অবশেষে হারের বিস্বাদ পেল শ্রীলঙ্কা।
আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টির ইতিহাসে এই নিয়ে মাত্র ১১ জন ব্যাটসম্যান পৌঁছালেন তিন অংকের ঘরে। আর বিশ্বকাপের ইতিহাসে সংখ্যাটা আরও কম। সংক্ষিপ্ত পরিসরের ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় আসরে মাত্র পাঁচবারই ঘটেছে এমন ঘটনা। পঞ্চম বিশ্বকাপে এসে অ্যালেক্স হেলস স্থাপন করলেন এর পঞ্চম নজির।
সামনে শ্রীলঙ্কার মতো প্রতাপশালী দল, তার উপর ১৯০ রানের বোঝা। এই অবস্থায় প্রথম ওভারে কোন রান না তুলেই দেখেছেন শূন্য রানে দুই ব্যাটসম্যানের বিদায়। লড়াইটা শুরু হয় সেখান থেকেই। ইয়ন মরগানের সাথে তৃতীয় উইকেট জুটিতে যোগ করেন ১৫২ রান। দলের প্রয়োজনে তো বটেই, আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টির বিবেচনাতেও এই জুটি অনন্য এক রেকর্ড। টি-টোয়েন্টির ইতিহাসে, যেকোন উইকেটে এটা চতুর্থ সর্বোচ্চ রানের জুটি।
সেঞ্চুরি করেছেন ছক্কা দিয়ে। ম্যাচ জেতানো রানটাও এসেছে ওই একইভাবে। সব মিলিয়ে অ্যালেক্স হেলসের ইনিংসেই ছিল ছয়টি ছক্কা। শেষ ছক্কার পর যখন ব্যাট নিয়ে উদ্বাহু উল্লাস করলেন তখন তিনি হয়ে উঠলেন অসম্ভব জয় করা এক সমরনায়ক। সাবেক নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক মার্টিন ক্রো তো এটাকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেরা ইনিংস বলে ঘোষণা দিয়ে দিলেন। ম্যাচ জেতানো ইনিংস খেলার পরও হেলস ছিলেন কিছুটা ঘোরের মধ্যে। কিছুক্ষণ আগে যা ঘটে তা ঠিক বিশ্বাস হচ্ছিল না, ‘এটা অসাধারণ এক অনুভূতি। আমি এখনও ঠিক বুঝতে পারছি না, কিভাবে কি হয়ে গেল!’
খেলাধূলা আসলে হেলসের রক্তের সাথেই মিশে আছে। দাদা ডেনিস ছিলেন প্রতিভাবান একজন টেনিস তারকা। উইম্বলডন টেনিসের বাছাইপর্বে অস্ট্রেলিয়ান তারকা রড লেভারের সাথে টানা পাঁচ সেট খেলার নজিরও গড়েছিলেন তিনি। বাবা গ্যারি স্থানীয় ক্রিকেটে ছিলেন মারকুটে এক ব্যাটসম্যান।
কিন্তু হেলস ছাড়িয়ে গেছেন এদের সবাইকে।
অথচ পশ্চিম লন্ডনে বেড়ে ওঠা এই ক্রিকেটারের পেশাদার ক্রিকেটার হয়ে ওঠার রাস্তাটা মোটেই সুবিধার ছিল না। ১০ বছর বয়স থেকেই খেলতেন লন্ডনের ক্লাব ক্রিকেট। ১৪ বছর বয়সে হার্টফোর্ডশায়ারে ট্রায়াল দিয়েও বাদ পড়েছিলেন। কারণ ছিল ‘অতিরিক্ত আক্রমণাত্মক বোলিং!’
অনেক চড়াই উতরাই পেরিয়ে জাতীয় দলে এসেও ধরে রেখেছেন সেই আক্রমণাত্মক মানসিকতা। পার্থক্য শুধু, এখন আক্রমণটা চালান ব্যাট দিয়ে।
ব্যাট দিয়েই করেন অসম্ভব জয়!
সেই পাঁচ সেঞ্চুরি...
খেলোয়াড় দেশ রান প্রতিপক্ষ সাল ভেন্যু
ব্রেন্ডন ম্যাককালাম নিউজিল্যান্ড ১২৩ বাংলাদেশ ২০১২ পালেকেল্লে
ক্রিস গেইল ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১১৭ দক্ষিণ আফ্রিকা ২০০৭ জোহানেসবার্গ
অ্যালেক্স হেলস ইংল্যান্ড ১১৬* শ্রীলঙ্কা ২০১৪ চট্টগ্রাম
সুরেশ রায়না ভারত ১০১ দক্ষিণ আফ্রিকা ২০১০ সেন্ট লুসিয়া
মাহেলা জয়াবর্ধনে শ্রীলঙ্কা ১০০ জিম্বাবুয়ে ২০১০ গায়ানা
