বাংলাদেশ দলে এবার দুই পরিবর্তন

তবু যেসব প্রশ্নের জবাব নেই

আপডেট : ২৮ মার্চ ২০১৪, ২২:২৪
শেষ বলটায় বাইরে বেরিয়ে এলেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। বল শূন্য থেকে বাউন্ডারি অতিক্রম করেছে বুঝতে পেরেই দৌড় দিলেন—দ্রুত ড্রেসিংরুমে ফিরে বোলিংয়ের জন্য প্রস্তুত হতে হবে। মাশরাফির এই দৌড় দেওয়ার ব্যাখ্যা পাওয়া সম্ভব। কিন্তু আরও একবার বাংলাদেশ দলের টপ অর্ডারের বেশিরভাগ ব্যাটসম্যান ব্যাখ্যাতীতভাবে ব্যস্ত হয়ে গেলেন যেন আউট হয়ে ড্রেসিংরুমে ফেরার জন্য! এই ‘ব্যস্ততা’ই বাংলাদেশের ইনিংসটাকে আটকে রাখলে সাত উইকেটে ১৩৮ রানে। কিন্তু নয় নম্বর পর্যন্ত ব্যাট চালাতে পারা খেলোয়াড় দলে নিয়ে এই রান কী আশা করেছিলেন অধিনায়ক? আশা যাই করুন, পরিবর্তনে কোনো কসুর রাখেনি টিম ম্যানেজমেন্ট। আগের ম্যাচেই চারটি পরিবর্তন নিয়ে নেমেছিল বাংলাদেশ। গতকাল একাদশে এলো আরও দুটি পরিবর্তন। সাব্বির রহমান রুম্মন ও মুমিনুল হকের বদলে দলে ফিরলেন নাসির হোসেন ও সামসুর রহমান শুভ। এর মধ্যে মুমিনুলকে কেন বাদ দেওয়া হল, এ নিয়ে দীর্ঘ তর্ক জুড়ে দেওয়া যেতে পারে। মুমিনুল টি-টোয়েন্টির ব্যাটসম্যান নন; এটা সবাই বোঝেন। এই দারুণ ছন্দে থাকা তরুণকে তাই টি-টোয়েন্টির স্কোয়াডে না রাখলেও কেউ ঝগড়া করতে আসতেন না। কিন্তু তাকে এক ম্যাচ মাঠে নামিয়েই বাদ দিয়ে দেওয়াটা তো ক্রিকেটীয় সংস্কৃতিরই বরখেলাপ! এক ম্যাচে ১৯ বলে ১৬ রান করা মুমিনুলকে দেখে ম্যানেজমেন্ট ঠিক কী সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলতে পারলো, যাতে তাকে বাদ দিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়? এসব প্রশ্নের জবাব পাওয়া খুব কঠিন। যেমন কঠিন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের দলে থাকার ব্যাখ্যা পাওয়া। রিয়াদ গতকাল অপরাজিত ৩৩ রানের ইনিংস খেলায় প্রশ্ন শেষ হয়ে গেছে, এমন ভাবার কোনো কারণ নেই। দফায় দফায় ভাগ্যের সহায়তায় ইনিংস গড়ে আর যাই হোক রিয়াদের দলে অন্তর্ভুক্তি নিয়ে প্রশ্ন তোলাটা ঠেকানো খুব কঠিন। যে ব্যাটসম্যান গত এক বছরেরও বেশি সময় কোনো ফরম্যাটেই ফিফটি করতে পারেন না, তাকে দলে টেনে বেড়ানোটা প্রশ্ন ওঠার চেয়েও গুরুতর ব্যাপার। এই ম্যাচ খেলতে নামার আগে চলতি বছরে আটটি ইনিংসে রিয়াদের রান ছিল যথাক্রমে—১, ২, ৯, ০, ১, ৫, ৩০, ৩০। এই সময়ে নিয়েছেন মাত্র ১২টি উইকেট। ফলে তাকে রাখতে গিয়ে এক ম্যাচ খেলা মুমিনুলকে বাদ দিয়ে দেওয়াটা যে ভ্রু কুচকে ফেলার মতো ব্যাপার, তাতে সন্দেহ নেই। অবশ্য মুশফিকের সৌভাগ্য বলতে হবে। শুরুতে এনামুল হক বিজয়ের ৪৪ এবং পরে ওই রিয়াদের ৩৩ রানে ভর করে অন্তত মান বাঁচানো একটা ইনিংসে পৌঁছাতে পারলো বাংলাদেশ। ২১ রানে ৩ উইকেট এবং ৮২ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ফেলা দলের জন্য এই বা কম কী!