বাংলাদেশের মেয়েরা আগে কখনো তাদের ইংল্যান্ড প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে খেলেনি। তবে প্রথম সাক্ষাতেই স্বাগতিকদের ৭৯ রানে হারিয়ে শার্লোটে এডওয়ার্ডসের দল বুঝিয়ে দিল বাংলাদেশের চাইতে মেয়েদের ক্রিকেটে তারা কতটা এগিয়ে আছে।
গতকাল সিলেট বিভাগীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের খেলায় এটি ছিল ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় জয়। অন্যদিকে, দুই ম্যাচ খেলে এখনো জয়শূন্যই রইলেন সালমা খাতুনরা।
টসে জিতে ব্যাটিং নেয়ভ ইংল্যান্ড তাদের অধিনায়ক শার্লোটের (৮০) নৈপুণ্যে পাচ উইকেটে ১৩৭ রান তোলে। জবাবে ব্যাট হাতে আবারো বাংলাদেশ দলের পুরনো চেহারা ফুটে ওঠে। নইলে নির্ধারিত ২০ ওভারে নয় উইকেটে ৫৮ রানে কেন থেমে যাবে স্বাগতিকদের ইনিংস।
বাংলাদেশের মেয়েরা এই বিশাল হারের পাশাপাশি দলীয় সর্বনিম্ন রানের লজ্জায়ও ডুবেছে। এর আগের রেকর্ডটি ছিল ২০০৯ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পাকিস্তানের মেয়েদের টি২০ বিশ্বকাপে ৬০ রানে অল আউট হওয়া।
মেয়েদের ক্রিকেটে ৩৪ বছর বয়সী ডানহাতি ব্যাটসম্যান শার্লোটে অন্যতম সেরা একটি নাম। টি-টোয়েন্টি এবং ওয়ানডে ইতিহাসে তিনি অন্যদের চাইতে বেশ খানিকটা এগিয়ে রয়েছেন। এবারের বিশ্বকাপে আসার আগে ইংল্যান্ডের হয়ে ৭২টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ৩২.০১ গড়ে তার রানসংখ্যা ছিল ১৯২১। কালকের ম্যাচেও ৬৯ বলে ১১টি বাউন্ডারির সহয়তায় তিনি ইনিংস সর্বোচ্চ ৮০ রান সংগ্রহ করে হয়েছেন ম্যাচ সেরা।
বাংলাদেশী স্পিনারদের মোকাবেলায় পাওয়ার প্লেতে ইংল্যান্ড অবশ্য খুব একটা সুবিধা করতে পারেনি। ওই ছয় ওভারে তারা এক উইকেটে ২১ রান তুলেছিল। সালমা ২৬ রানে ও খাদিজাতুল কুবরা ২৯ রানে নেন দুটি করে উইকেট। কিন্তু শেষ পাঁচ ওভারে এডওয়ার্ডস হাত খুলে খেলে বাংলাদেশী বোলাদের হতাশ করেন। ওভারগুলো থেকে আসে ৪৬ রান।
এডওয়ার্ডস অবশ্য খেলা শেষে বাংলাদেশী বোলারদের প্রশংসা করেন। তিনি বলেছেন বাংলাদেশ সম্পর্কে কোন ধারনা না থাকলেও তারা যে নিজেদের মাঠে নিয়ন্ত্রিত বোলিং করেছে সেটাই ইতিবাচক। তাদের আরো সময় দিতে হবে। আন্তর্জাতিক ম্যাচের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে হলে আরো বেশী করে ম্যাচ খেলার উপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
টি-টোয়েন্টিতে ১৩৮ রানের লক্ষ্য তেমন বড় না হলেও গত কয়েকটি ম্যাচে বাংলাদেশের যা ব্যাটিং তাতে এটা পাহাড় সমই। বরাবরের মতই পুরো ইনিংসেই ইংলিশ বোলারদের সামনে স্বাগতিক ব্যাটসম্যানদের মনে হয়েছে অসহায়। কোনরকমে ম্যাচ শেষ হলেই যেন তারা বাচে। উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান আয়েশা রহমান (১০) লতা মন্ডল (১০) ও ইনিংসের শেষদিকে ফাহিমা ফাহিমা খাতুন (অপরাজিত ১৬) দুই অংকের ঘরে না পৌছালে দলীয় স্কোর যে আরো কম হতে হতো তা নি:সন্দেহে বলা যায়। ম্যাচ শেষে সহ-অধিনায়ক জাহানারা আলম বলেন,‘প্রতিপক্ষ যেই হোক সেটা ম্যাচের শুরুতে আমাদের মাথায় থাকে না। আমাদের পরিকল্পনাই থাকে নিজেদের স্বাভাবিক খেলা উপহার দেবার। কিন্তু বোলিং ভাল হলেও বারবার ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতাই আমাদের ফুটে উঠছে। এর থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা আমরা করছি। আশা করছি এর সমাধান আমরা পাব।’
