জয়ের উদযাপন চললো অনেক সময় নিয়ে। জয়ের অন্যতম নায়ক, অধিনায়ক ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে যখন আসলেন তখনও তার পায়ে প্যাড জড়ানো। উত্সবটা তখনও চলছিল। আর এসে যখন কথা বলা শুরু করলেন তখন তাতে অস্ট্রেলিয়ান বোলারদের গায়ে আগুনই ধরলো।
দুই বল বাকি থাকতে জিতলেও জয়ের জন্য ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের পথটা মসৃণ ছিল না কখনোই। দুই ওভার বাকি থাকতেও প্রয়োজন ছিল ৩১ রান। সেখান থেকে ১৯তম ওভারে আসলো ১৯ রান। এরপর শেষ ওভারের প্রথম দুই বল থেকে কোন রানই বের করতে পারলেন না ড্যারেন স্যামি। কিন্তু এর পরের দুটি বলেই ভিন্ন চিত্র। দুটি ছক্কায় জয়ের বন্দরে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সেই অবস্থাও নাকি কোন চাপ অনুভব করেননি স্যামি। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, ‘আমরা জানতাম, ১২ রান করতে দুটি বলই যথেষ্ট। প্রথম দুটি বল ডট ছিল। পরের দুটি বল আমাদের পক্ষে ছিল। তাতেই কাজ হয়ে গেছে।’
ম্যাচের আগেই জেমস ফকনারের কথা নিয়ে বেশ জল ঘোলা হয়েছে। ফকনার উইন্ডিজ খেলোয়াড়দের প্রতি নিজের বিতৃষ্ণা প্রকাশ করেন। ম্যাচেই তার জবাব পাওয়া হয়ে গেছে তার। শেষ ওভারটি যে তিনিই করেছিলেন। স্যামিও তৃপ্ত ফকনারকে জবাব দিতে পেরে, ‘ক্রিকেটটা আসলে মাঠের খেলা। আমরা কথা কম বলি। যা করার সেটা মাঠেই করি। আজকেও আমরা সেটা করতে পেরেছি। ম্যাচটা কোনভাবেই আমাদের জন্য সহজ ছিল না। আমাদের জন্য একটা ব্যাপার ভাল হয়েছে যে, শেষ ওভারটা ফকনারই করেছে। মনে হয়, ও এখন আমাদের আরও বেশি অপছন্দ করবে।’ ১৩ বলে ৩৪ রান করে একাই ম্যাচটা বের করে নিয়েছেন ড্যারেন স্যামি। ম্যাচ সেরার পুরস্কারটাও তাই উঠলো তারই হাতে। জর্জ বেইলিও মনে করছেন, এই একটা জায়গাতেই হেরে গেছে অস্ট্রেলিয়া দল, ‘টি-টোয়েন্টিতে এমনিতেই ইনিংসের শেষের দিকে বল করা কষ্টকর। তার উপর ওয়েস্ট ইন্ডিজের মতো ছন্দে থাকা দলের বিপক্ষে সেটা আরও সমস্যা। ড্যারেন স্যামি ভাল খেলেছে। সে তার পরিকল্পনায় স্থির ছিল, আর তার ফলই সে পেয়েছে।’
