ফুলের দাম কমে যাওয়ায় বিপাকে যশোরের চাষিরা

আপডেট : ২৮ মার্চ ২০১৪, ২২:৪৩
পশ্চিমের ৩ জেলায় ফের গাঁদাফুলের দর পতন হয়েছে। এতে ফুলচাষিদের লোকসান হচ্ছে। এক ঝোপা (এক হাজার পিস) গাঁদাফুলের দাম কমে ৩০ টাকায় নেমে এসেছে। দেশের অন্যতম প্রধান ফুল উত্পাদনকারী এলাকা হচ্ছে যশোরের ঝিকরগাছা ও শার্শা, ঝিনাইদহ জেলার কালীগঞ্জ, মহেশপুর ও সদর এবং চুয়াডাঙ্গা জেলার জীবননগর ও দামুরহুদা উপজেলা। যশোর জেলায় ৭শ’ হেক্টরে, ঝিনাইদহ জেলায় ২শ’ হেক্টরে ও চুয়াডাঙ্গা জেলায় একশ’ হেক্টরে ফুল চাষ হয়েছে। তবে গাঁদাফুলের চাষ বেশি হয় ঝিনাইদহ ও চুয়াডাঙ্গা জেলাতে। কালীগঞ্জ উপজেলার উত্তর ঘিঘাটি গ্রামের বড় ফুল চাষি আব্দুর রাজ্জাক জানান, এক বিঘা জমিতে গাঁদা ফুল চাষে প্রায় ৪০ হাজার টাকা ব্যয় হয়। এক ঝোপা ফুল ক্ষেত থেকে তুলে ঝোপা তৈরি করতে ব্যয় হয় ২০ টাকা। এর সাথে উত্পাদন খরচ ধরলে মোট ব্যয় হয় ৪৫ টাকা। ৩০ টাকা ঝোপা ফুল বিক্রি করে চাষিদের লোকসান হচ্ছে। গত বছর জুড়ে বিরোধীদলের হরতাল অবরোধকালে ফুল অবিক্রি হয়ে যায়। বাইরে থেকে ক্রেতা না আসা ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ফুল না কেনায় ব্যাপক দরপতন ঘটে। প্রতি ঝোপার দাম ১০ টাকায় নেমে আসে। অনেক চাষি ক্ষেত থেকে ফুল তুলে ফেলে দেয়। প্রচুর লোকসান খায় চাষি। ১৪ ফেব্রুয়ারি বিশ্ব ভালবাসা দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের আগে ফুলের বাজার চড়ে গিয়েছিল। প্রতি ঝোপার দাম চড়ে ১৫০ - ২০০ টাকা পর্যন্ত হয়। চৈত্র মাস শুরুর পর ফের দর পতন শুরু হয়েছে। অনেক চাষি ফুল তুলে ক্ষেতের পাশে ফেলে দিচ্ছে। যশোর গদখালী ফুলচাষি সমিতির সভাপতি আব্দুর রহিম জানান, গাঁদাফুল প্রতি ঝোপার দাম আড়াইশ’ টাকা পর্যন্ত হয়েছিল। বর্তমানে ৬০ টাকায় নেমে এসেছে। গোলাপের দামও পড়ে গেছে। প্রতিশ’ ৫০-৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তিনি বলেন, ফুল এমন একটি কৃষি পণ্য যা ক্ষেতে রাখা যায় না। আবার তুলে মজুত করেও রাখা যায় না। জেলা ও উপজেলা শহরে ফুলের দোকান গড়ে উঠেছে। তবে সেখানে সামান্য পরিমাণ বিক্রি হয়। ফুলের প্রধান বাজার হচ্ছে ঢাকা ও চট্টগ্রাম।