মুন্সীগঞ্জে নির্বাচনী সহিংসতায় গুলিবিদ্ধ অন্তঃসত্ত্বা নারীর মৃত্যু

আপডেট : ২৮ মার্চ ২০১৪, ২২:৪৪
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় নির্বাচনী সহিংসতায় বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী গুলিবিদ্ধ লাকী বেগম (৩২) মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে রাজধানীর এপোলো হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা পুলিশ সুপার। এই নিয়ে গত ২৩ মার্চ সংঘটিত নির্বাচনী সহিংসতায় উপজেলাটিতে নিহতের সংখ্যা দাঁড়ালো তিন। এদিকে নির্বাচনী সহিংসতা ও দায়িত্বে অবহেলার কারণে গতকাল শুক্রবার সকালে গজারিয়া থানার ওসি মামুনুর রশীদকে ক্লোজ্ড করা হয়েছে। একইসাথে মুন্সীগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমানকে ৭ দিনের বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানো হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ সিদ্ধান্ত নেয় বলে জেলা পুলিশসূত্রে জানা গেছে। নিহত লাকীর স্বামী বাউশিয়া ইউপি’র চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবদলের বহিষ্কৃত সভাপতি আব্দুল মান্নান দেওয়ান মনা জানিয়েছেন, ঘটনার দিন সেনাবাহিনীর ছোঁড়া তিনটি গুলি তার সন্তানসম্ভবা স্ত্রীর তলপেটে, ডান পায়ের রানে এবং বাম হাতে বিদ্ধ হয়। চিকিত্সকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে বৃহস্পতিবার তিনি না ফেরার দেশে চলে যান। এর আগে ৫ দিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়েন এক ছেলে ও তিন মেয়ের এই জননী। স্বামীর নির্বাচনের কারণে সেদিন সাধারণ কর্মীদের সাথে তিনিও মাঠে ছিলেন। নানা কারণে তিনি ছিলেন এলাকায় জনপ্রিয়। তাই তার অকাল এই মৃত্যুর সংবাদে পুরাচক বাউশিয়ায় কান্নার রোল পড়ে গেছে। এই গ্রামেই তার বাবা ও স্বামীর বাড়ি। পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান জানান, লাকী বেগমের শরীরে বিদ্ধ গুলি সেনাবাহিনীর ছোঁড়া কিনা তা বলা যাচ্ছে না। তবে নির্বাচনের দিন তিনি গুলিবিদ্ধ হন। বর্তমানে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাকির হোসেন মজুমদার জেলার ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপারের দায়িত্ব নিয়েছেন। তিনি জানান, দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে ওসি মামুনুর রশীদকে ইতিমধ্যেই মুন্সীগঞ্জ পুলিশ লাইনে সরিয়ে আনা হয়েছে এবং গজারিয়া থানার ওসি (তদন্ত) মো ফরিদ উদ্দিনকে গজারিয়া থানার ওসির দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। নির্বাচন পরবর্তী পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। প্রসঙ্গত, গত ২৩ মার্চ গজারিয়ায় উপজেলা নির্বাচনের দিন সহিংসতায় স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা সামছুদ্দিন প্রধান ও ছাত্রলীগ নেতা মাহাবুবুর রহমান জোটনও নিহত হন। সহিংসতা ও অনিয়মের কারণে উপজেলার ৯টি কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ বাতিল করা হয়। তাই এই উপজেলার ফলাফল স্থগিত রয়েছে। এদিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে গতকাল শুক্রবার বিকালে লাকী বেগমের লাশ বাউশিয়ার পুরাচক গ্রামে এসে পৌঁছে। বাদ আছর জানাজা শেষে পুরাচক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।