সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেছেন, স্থানীয় নির্বাচন দলীয়ভাবে হতে পারে। তবে ভেবে-চিন্তে এই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। দলীয় ভিত্তিতে নির্বাচন করা ও না-করার ইতিবাচক দিক আছে। দলীয় নির্বাচনে প্রার্থীর সংখ্যা কমে যাবে এবং সহিংসতা বৃদ্ধি পাবে। এ ক্ষেত্রে দলের সংস্কার করা দরকার।
গতকাল শুক্রবার রাজধানীর মুক্তিভবনের কনফারেন্স সেন্টারে সুজন আয়োজিত ‘উপজেলা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী চেয়ারম্যান প্রার্থীদের’ হলফনামায় দেয়া তথ্য প্রকাশের সময় তিনি এসব কথা বলেন। পঞ্চম পর্যায়ের উপজেলা নির্বাচন নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সুজন। সুজন বলেছে, সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনীর ভূমিকা রাখা উচিত। সংবাদ সম্মেলনে সুজন সম্পাদক বলেন, নির্বাচনে সহিংসতা, কারচুপি বন্ধ করতে না পারলে দেশে শান্তি ফিরে আসবে না।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, পঞ্চম পর্যায়ে ৭৪টি উপজেলায় নির্বাচন হবে। এতে চেয়ারম্যান পদে ৩৬০, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৪১৪ এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ১৭৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। চেয়ারম্যান পদের ৩৫৪ জন প্রার্থীর হলফনামার তথ্য দেয়া হয়। টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ছয়জন প্রার্থীর তথ্য নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে সুজন পায়নি। সংবাদ সম্মেলনে তথ্য উপস্থাপন করেন সুজনের সহকারী সমন্বয়কারী সানজিদা হক।
চেয়ারম্যান প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে বলা হয়, ৭৭ জন প্রার্থী বিদ্যালয়ের গন্ডি পার হতে পারেননি। ১২১ জন এসএসসি পাস বা তার চেয়ে কম শিক্ষাগত যোগ্যতাসম্পন্ন। ১৬১ জন স্নাতক বা স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী।
সুজনের দাবি, সংসদ ও অন্যান্য স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের মতো উপজেলা নির্বাচনেও প্রার্থীদের মধ্যে ব্যবসায়ীদের আধিক্য দেখা যাচ্ছে। ৩৫৪ প্রার্থীর মধ্যে ২৩০ জন ব্যবসায়ী। ৬০ জনের পেশা কৃষি। ১২ জন প্রার্থীর হলফনামায় কোনো পেশার উল্লেখ নেই।
হলফনামায় দেয়া তথ্য অনুযায়ী, চেয়ারম্যান পদের প্রার্থীদের ১১২ জনের বিরুদ্ধে বর্তমানে মামলা আছে। অতীতে মামলা ছিল ১২২ জনের বিরুদ্ধে। মামলা অতীতে ছিল বা বর্তমানে আছে এমন প্রার্থী ৪৮ জন। হলফনামা যাচাই করে সুজন বলছে, প্রার্থীদের মধ্যে কোটিপতি ৫৮ জন, ১১ জনের সম্পদ পাঁচ কোটি টাকার বেশি, ৪৮ জনের সম্পদ পাঁচ লাখ টাকার কম, ৬০ জন ঋণ গ্রহীতা, আটজনের ঋণ পাঁচ কোটি টাকার বেশি, আয়কর দেন ১১৬ জন।
