আগামীকাল পঞ্চম দফা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে ৬জন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৭ জন ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রধান দু’ দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীর মধ্যে মূল লড়াই হবে।
এ নির্বাচনে সবচেয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে ৪ ভাইয়ের লড়াই। আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী মাহবুবুজ্জামান আহমেদের সাথে তার আপন বড় ভাই বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ রশীদুজ্জামান ও বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলমের সাথে তার চাচাতো ভাই রোকন উদ্দিন বাবুল লড়ছেন। নির্বাচনকে ঘিরে পুরো উপজেলায় চলছে এক উত্সবমুখর পরিবেশ। এ উপজেলায় বড় দুটি দলের সমর্থিত প্রার্থী ছাড়াও বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন ২ জন। প্রার্থীরা হলেন-চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ সমর্থিত মাহবুবুজ্জামান আহমেদ (ঘোড়া), বিএনপি সমর্থিত জাহাঙ্গীর আলম (আনারস), আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী গোলাম মর্তুজা হানিফ (দোয়াত-কলম), বিএনপি’র বিদ্রোহী রোকন উদ্দিন বাবুল (মোটরসাইকেল), ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের আব্দুল মান্নান (কাপ-পিরিচ) ও স্বতন্ত্র বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ রশীদুজ্জামান (টেলিফোন)। ভাইস চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ সমর্থিত কমল কৃষ্ণ রায় (তালা), বিএনপি সমর্থিত রাশেদুল হক (বই), আবুল কালাম আজাদ বাবু (চশমা), নুরন্নবী হিরু (টিউবওয়েল), জামায়াত সমর্থিত আব্দুল লতিফ (টিয়া পাখি), জাপা সমর্থিত আবু তালেব আলবানি (বৈদ্যুতিক বাল্ব), স্বতন্ত্র মহিউল ফারুক বুলবুল (মাইক), মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে সাবিনা বেগম (ফুটবল), শেফালী বেগম (কলস), চায়না বেগম (ফ্যান), মেহেতারা আক্তার বানু (হাঁস), সাহিদা আক্তার (প্রজাপতি)। আওয়ামী লীগের জন্য এ নির্বাচন এসিড টেস্ট বলছেন অনেকে কারণ, এ উপজেলার বর্তমান চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগের। আওয়ামী লীগ মরিয়া হয়ে তাদের আসন ধরে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করছেন। অপর দিকে বিএনপিও চায় এ আসনটি। তারা মনে করেন পাশ্ববর্তী দুটি উপজেলা লালমনিরহাট সদর ও আদিতমারীতে তাদের প্রাথীরা নির্বাচিত হয়েছেন ।
বিএনপির প্রতিটি পথসভায় জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক উপমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলুু দলীয় প্রার্থীর পক্ষে প্রচারনা চালাচ্ছেন। অপর দিকে আওয়ামী লীগের এটা মর্যাদা ও অস্তিত্বের লড়াই। আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী মাহবুবুজ্জামান আহমেদকে বিদ্রাহী প্রার্থীর গোলাম মর্তুজা হানিফ এর সাথে একই পরিবারের অধ্যক্ষ রশীদুজ্জামানের সাথে প্রতিযোগীতা করে টিকিয়ে থাকার লড়াই করে যাচ্ছেন। আওয়ামী লীগের প্রতিটি নেতা কর্মী ভোটারদের কাছে ছুটছেন এবং উন্নয়ণের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন আর ভোট জাইছেন। সহকারি রির্টানিং অফিসার ও উপজেলা উপজেলা নির্বাহী অফিসার গোলাম রাব্বী ইত্তেফাককে জানান, নির্বাচনের সকল প্রস্তুতি শেষ। আইন শৃংঙ্খলা রক্ষায় আনসার,প্রলিশ, বিজবিসহ ট্রইকিং ফোস হিসেবে সেনাবাহিনী কে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এ উপজেলায় ১ লক্ষ ৫৬ হাজার ২০৫ জন ভোটার, এদের মধ্যে ৭৭ হাজার ৬০৫ জন পুরুষ ও ৭৮হাজার ৬০৫ জন মহিলা। উপজেলার ৮টি ইইনয়নে ৭৩টি ভোট কেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে ৪১টি ঝুকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছন প্রশাসন ।
