বিদেশে বাংলাদেশের বিভিন্ন কূটনৈতিক মিশনে উদযাপিত হয়েছে ৪৪তম স্বাধীনতা দিবস।
ওয়াশিংটনস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে দিবসটি উপলক্ষে একটি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশা দেশাই বিসওয়াল এতে উপস্থিত ছিলেন।
জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে স্থায়ী প্রতিনিধি ড. এ.কে আব্দুল মোমেন বলেন, এবারের স্বাধীনতা দিবস বাংলাদেশের জনগণ ও বিশ্বের সকল প্রবাসী বাঙালিদের জন্য ছিল ভিন্ন স্বাদের, ভিন্ন মাত্রার আনন্দের। এবার বাংলাদেশে সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করে গিনেস বুক অব রেকর্ডে জায়গা করে নিচ্ছে। অনুষ্ঠানে জাতিসংঘ মহাসচিবের প্রতিনিধি সুজানা মালকোরা ও জাতিসংঘের সদস্য দেশের স্থায়ী প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
অস্ট্রেলিয়ার ক্যানবেরাস্থ হাইকমিশনে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে দিবসের অনুষ্ঠান শুরু হয়। আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, অস্ট্রেলিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী।
সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার মধ্য দিয়ে নয়াদিল্লিস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনে স্বাধীনতা দিবস উদযাপন শুরু হয়। হাইকমিশনার তারিক এ করিম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে হাইকমিশন প্রাঙ্গণে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন।
পাকিস্তান হাইকমিশনে বুধবার সন্ধ্যায় এক সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। পাকিস্তানের ধর্ম ও ইন্টারফেইথ হারমোনি বিষয়ক মন্ত্রী সরদার মুহাম্মদ ইউসুফ এতে প্রধান অতিথি ছিলেন। কলকাতাস্থ বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনে দিবস উপলক্ষে আলোচনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপ-হাইকমিশনার আবিদা ইসলাম। মুম্বাইস্থ উপ-হাইকমিশনে পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে দিবসের অনুষ্ঠানের সূচনা করেন উপ-হাইকমিশনার সামিনা নাজ।
নিউইয়র্কে স্বাধীনতা দিবস উদযাপন
যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমাদের বিশেষ প্রতিনিধি জানান, স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে নিউইয়র্কে আয়োজিত বিভিন্ন অনুষ্ঠানে প্রবাসীরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বাংলাদেশ গড়তে প্রবাস থেকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবসের প্রতি সম্মান জানিয়ে নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিল বাংলাদেশি কমিউনিটিকে দেয় সিটির প্রোক্লেমেশন। নিউইয়র্কে প্রবাসী বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন জ্যাকসন হাইটস বাংলাদেশি বিজনেস এসোসিয়েশন স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ডাইভারসিটি প্লাজায় এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
লন্ডনে হাজার কণ্ঠে ‘সোনার বাংলা’
লন্ডন প্রতিনিধি জানান, লাখো কণ্ঠে জাতীয় সঙ্গীত গেয়ে বিশ্বরেকর্ড গড়ার অংশ হিসেবে স্বাধীনতা দিবসে পূর্ব লন্ডনে আলতাব আলী পার্কে ২৬ মার্চ বিকাল ৪টায় সমবেত হন হাজার বাঙালি। ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি’— জাতীয় সঙ্গীতে কণ্ঠ মেলান প্রবাসীরা। সাংবাদিক আবদুল গাফফার চৌধুরী বলেন, বাঙালি জাতি একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধে রক্তের বিনিময়ে স্বাধীনতা অর্জন করে বাঙালি ইতিহাস সৃষ্টি করেছিল। আজকে বাঙালির আরেকটি ইতিহাস সৃষ্টি হলো। যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাজিদুর রহমান ফারুকের পরিচালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ব্রিটেনে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মিজারুল কায়েস, যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের জালাল উদ্দিন, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির আনসার আহমদ উল্লাহ প্রমুখ।
চীনের গুয়াংজু নগরীতে ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপিত হয়। স্থানীয় সময় দুপুর একটায় সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশিত হয়। নগরীর কোরিয়ান গার্ডেনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রবাসী ব্যবসায়ী, পেশাজীবী, ছাত্রসহ বিভিন্ন পেশার প্রতিনিধিরা যোগ দেন। বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের ব্যতিক্রমী এই আয়োজনে চীনা নাগরিকগণও যোগ দেন।
